পুরান ঢাকার মুরগিটোলা মোড়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জবি ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব শাহিন মিয়া।
তাঁর অভিযোগ, ঘটনার শুরু থেকেই বারবার যোগাযোগ করা হলেও যথাসময়ে প্রক্টর অফিস বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা হামলার শিকার হন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব, সাংবাদিক সমিতি, রিপোর্টার্স ইউনিটি ও মাল্টিমিডিয়া ইউনিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
শাহিন মিয়া বলেন, তিনিও ওই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী। শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শুরু থেকেই পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছু পুলিশ সদস্য আকস্মিকভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাহাত, জবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও আমার দেশ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি লিমন ইসলামসহ কয়েকজনকে বেধড়ক মারধর করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, "রাত ১১টার দিকে ঘটনা শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা বারবার প্রক্টর অফিস ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কিন্তু যথাসময়ে কোনো সাড়া পাইনি। পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার পর গভীর রাতে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন।"
প্রশাসনের এই ভূমিকার সমালোচনা করে শাহিন মিয়া বলেন, "ডাক্তার আসিবার পূর্বেই রোগীটি মারা গেল" প্রশাসনের ভূমিকা ছিল অনেকটা তেমন। শিক্ষার্থীরা মার খাওয়ার পর শুধু চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই প্রশাসনের দায়িত্ব হতে পারে না; সংকটের সময় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, অতীতেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্থানীয়দের হামলা ও পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হয়েছেন। কিন্তু সেসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এ ধরনের পরিস্থিতি বন্ধ করতে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেন। জবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্র মজলিসের সদস্য সচিব ওবায়দুল ইসলাম প্রক্টরিয়াল বডির দায়িত্বহীনতার সমালোচনা করে দায়ী পুলিশ সদস্যদের শাস্তির দাবি জানান।
জবি সাংবাদিক সমিতির পক্ষ থেকে দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, প্রশাসন শুরু থেকেই সক্রিয় থাকলে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের এভাবে হামলার শিকার হতে হতো না। তিনি আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বহনের দাবি জানান।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুশফিকুর রহমান মুশফিক বলেন, ঘটনার সময় বারবার যোগাযোগ করেও প্রশাসনের কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসন দ্রুত পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই মধ্যরাতে পুরান ঢাকার মুরগিটোলা মোড়ে জুতা চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পুলিশের লাঠিচার্জে জবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও আমার দেশ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি লিমন ইসলামসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতেই এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।প্রয়োজনে এটিকে আমার দেশ বা জাতীয় দৈনিকের রিপোর্টিং স্টাইলে আরও অনুসন্ধানধর্মী ও ধারালো ভাষায়ও সাজিয়ে দিতে পারি।