ঢাকা    সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

নিকাব নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগ, অস্বীকার করলেন জবি হল প্রভোস্ট



নিকাব নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগ, অস্বীকার করলেন জবি হল প্রভোস্ট

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে নিকাব পরা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এক শিক্ষার্থী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রভোস্ট দাবি করেছেন, তার বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় একটি কাজে তিনি হল প্রভোস্টের কার্যালয়ে যান। সে সময় তিনি নিকাব পরিহিত ছিলেন। তার দাবি, নিকাব পরা নিয়ে প্রভোস্ট এমন মন্তব্য করেন, যা তাকে অপমানিত ও বিব্রত করেছে।

শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রভোস্ট তাকে বলেন, "ফাজলামো করতে আসছো? মুসলিমদের এভাবে পর্দা করতে হবে সেটা ইসলামে কোথায় লেখা আছে দেখাও? পর্দা করতে চাইলে হাতমোজা পরবা, মুখ ঢাকতে হবে কেন?"

এ বিষয়ে ওই শিক্ষার্থী বলেন, "অফিসে মুখ ঢেকে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো প্রশাসনিক নিয়ম থাকলে সেটি জানিয়ে আমাকে মুখ খুলতে বলা যেত। আগে ভাইভা দিতে গিয়ে মুখ না খোলার কারণে বকা খেলে সেটিও মেনে নিতাম। কিন্তু ইসলামের পর্দা নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য আমাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "প্রত্যেকের ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত পোশাক ও স্বাধীন পছন্দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। আমি চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী যেন ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত পোশাকের কারণে অস্বস্তিকর মন্তব্যের শিকার না হন এবং সবাই যেন সম্মানজনক পরিবেশে নিজের কথা বলতে পারেন।"

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে হল প্রভোস্ট ড. আঞ্জুমান আরা বলেন, "এই ইস্যুতে আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফ্রেমিং করা হচ্ছে। ছাত্রীহলের প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীই পর্দা করেন। আবার ছাত্রীসংস্থার কোনো শিক্ষার্থী কেন তুলি, এসব নিয়েও আমাকে নানা কথা শুনতে হয়। আমি কোনো দল বা মতাদর্শ বিবেচনা করি না; যার প্রকৃত প্রয়োজন, তাকেই সিট দেওয়ার চেষ্টা করি।"

তিনি বলেন, "যে বক্তব্যটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে, সেটি আমি আমার কক্ষের ভেতরে বলেছিলাম। আমার কথা ছিল, ভাইভা নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীর মুখ না দেখলে তাকে কীভাবে শনাক্ত করব। তাই বলেছিলাম, আমার কক্ষের ভেতরে ভাইভার সময় এতটা পর্দার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই কথাটিকেই বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ভিন্ন অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।"

প্রভোস্ট আরও বলেন, "জকসুর একজনকে দেখলাম ঢাল-তলোয়ার নিয়ে নেমে গেছে। আমাকে ট্যাগিং বা অপপ্রচার করে কোনো লাভ হবে না। আমি সবসময় দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষভাবে আমার দায়িত্ব পালন করেছি।"

বুড়িগঙ্গা

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


নিকাব নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগ, অস্বীকার করলেন জবি হল প্রভোস্ট

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে নিকাব পরা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এক শিক্ষার্থী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রভোস্ট দাবি করেছেন, তার বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় একটি কাজে তিনি হল প্রভোস্টের কার্যালয়ে যান। সে সময় তিনি নিকাব পরিহিত ছিলেন। তার দাবি, নিকাব পরা নিয়ে প্রভোস্ট এমন মন্তব্য করেন, যা তাকে অপমানিত ও বিব্রত করেছে।


শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রভোস্ট তাকে বলেন, "ফাজলামো করতে আসছো? মুসলিমদের এভাবে পর্দা করতে হবে সেটা ইসলামে কোথায় লেখা আছে দেখাও? পর্দা করতে চাইলে হাতমোজা পরবা, মুখ ঢাকতে হবে কেন?"


এ বিষয়ে ওই শিক্ষার্থী বলেন, "অফিসে মুখ ঢেকে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো প্রশাসনিক নিয়ম থাকলে সেটি জানিয়ে আমাকে মুখ খুলতে বলা যেত। আগে ভাইভা দিতে গিয়ে মুখ না খোলার কারণে বকা খেলে সেটিও মেনে নিতাম। কিন্তু ইসলামের পর্দা নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য আমাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে।"


তিনি আরও বলেন, "প্রত্যেকের ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত পোশাক ও স্বাধীন পছন্দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। আমি চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী যেন ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত পোশাকের কারণে অস্বস্তিকর মন্তব্যের শিকার না হন এবং সবাই যেন সম্মানজনক পরিবেশে নিজের কথা বলতে পারেন।"


এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে হল প্রভোস্ট ড. আঞ্জুমান আরা বলেন, "এই ইস্যুতে আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফ্রেমিং করা হচ্ছে। ছাত্রীহলের প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীই পর্দা করেন। আবার ছাত্রীসংস্থার কোনো শিক্ষার্থী কেন তুলি, এসব নিয়েও আমাকে নানা কথা শুনতে হয়। আমি কোনো দল বা মতাদর্শ বিবেচনা করি না; যার প্রকৃত প্রয়োজন, তাকেই সিট দেওয়ার চেষ্টা করি।"


তিনি বলেন, "যে বক্তব্যটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে, সেটি আমি আমার কক্ষের ভেতরে বলেছিলাম। আমার কথা ছিল, ভাইভা নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীর মুখ না দেখলে তাকে কীভাবে শনাক্ত করব। তাই বলেছিলাম, আমার কক্ষের ভেতরে ভাইভার সময় এতটা পর্দার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই কথাটিকেই বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ভিন্ন অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।"


প্রভোস্ট আরও বলেন, "জকসুর একজনকে দেখলাম ঢাল-তলোয়ার নিয়ে নেমে গেছে। আমাকে ট্যাগিং বা অপপ্রচার করে কোনো লাভ হবে না। আমি সবসময় দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষভাবে আমার দায়িত্ব পালন করেছি।"


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
নিকাব নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগ, অস্বীকার করলেন জবি হল প্রভোস্ট
0:00 0:00
1.0x