সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপনের উদ্যোগের পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন নেতার সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে সারজিস আলম দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সমকামী ও ট্রান্স অধিকারকর্মীদের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে মঞ্চ ভাগ করে নিয়েছেন। তাঁর পোস্টে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিনসহ বিএনপির আরও কয়েকজন নেতার উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়।সারজিস আলম তাঁর পোস্টে বিএনপির ধর্মীয় মূল্যবোধের অবস্থান এবং কথিত ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে প্রশ্ন তোলেন। তিনি এটিকে ‘দ্বিচারিতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বিএনপির অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেন।পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশে সমকামিতা ও ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ক কর্মকাণ্ড নিয়ে আইন ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রশ্ন রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি এ ধরনের বিষয়কে ‘প্রমোট’ না করে পুনর্বাসন ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।সারজিস আলম এর আগেও সমকামিতা ও ট্রান্সজেন্ডার অধিকার নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান জানিয়েছেন। ২০২৫ সালের মে মাসে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি নারীর অধিকার রক্ষার যৌক্তিক দাবির প্রতি সমর্থন জানালেও LGBTQ সংস্কৃতি প্রচারের বিরোধিতা করার কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে সে সময় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।এদিকে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।তবে সারজিস আলমের পোস্টে উত্থাপিত জুবাইদা রহমান ও বিএনপির অন্যান্য নেতাদের কথিত অনুষ্ঠানে উপস্থিতির তথ্যটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান, ছবি বা ভিডিওর পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।সারজিস আলমের পোস্টটি ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।