নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত আজ
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো (নবম পে-স্কেল) চূড়ান্ত করতে আজ বুধবার (১৫ জুলাই) বৈঠকে বসছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে গ্রেডভিত্তিক বেতনের সুপারিশ চূড়ান্ত হতে পারে। অনুমোদন হলে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো (নবম পে-স্কেল) চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে বৈঠকে বসছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রস্তাবিত সুপারিশমালা চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে পারে।বর্তমানে ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ২০টি বেতন গ্রেড চালু রয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।নতুন পে-স্কেলেও ২০টি গ্রেড বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের জন্য যথাক্রমে ১ লাখ ৩২ হাজার, ১ লাখ ১৩ হাজার, ১ লাখ এবং ৮৬ হাজার টাকা মূল বেতন প্রস্তাব করা হয়েছে।ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডের প্রস্তাবিত মূল বেতন যথাক্রমে ৭১ হাজার, ৫৮ হাজার, ৪৭ হাজার ২০০, ৪৫ হাজার ১০০ এবং ৩২ হাজার টাকা।এছাড়া ১১তম থেকে ১৫তম গ্রেডের জন্য মূল বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে যথাক্রমে ২৫ হাজার, ২৪ হাজার ৩০০, ২৪ হাজার, ২৩ হাজার ৫০০ এবং ২২ হাজার ৮০০ টাকা।অন্যদিকে ১৬তম গ্রেডে ২১ হাজার ৯০০, ১৭তম গ্রেডে ২১ হাজার ৪০০, ১৮তম গ্রেডে ২১ হাজার, ১৯তম গ্রেডে ২০ হাজার ৫০০ এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।প্রস্তাবিত এই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।তবে আজকের বৈঠকে কোনো কারণে সুপারিশ চূড়ান্ত না হলে পরবর্তী বৈঠকে তা অনুমোদন করে সরাসরি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য পাঠানো হবে।অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই নতুন পে-স্কেলের মূল বেতনের পুরো অংশ সরকারি কোষাগার থেকে পরিশোধ করা হবে। তবে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে বর্তমানে চালু থাকা ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ ভাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ সচিব কমিটির বৈঠকে সুপারিশ চূড়ান্ত হলে তা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত অনুমোদনের পর খসড়াটি মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর অর্থ বিভাগ থেকে নবম পে-স্কেলের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন (গেজেট) জারি করা হবে।
১৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম