ঢাকা    মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চাওয়ার পরদিনই আটক গোদাগাড়ীর ব্যবসায়ী আজাদ



প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চাওয়ার পরদিনই আটক গোদাগাড়ীর ব্যবসায়ী আজাদ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানমালের নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার আবেদন জানানোর একদিন পরই রাজশাহীর গোদাগাড়ীর শীর্ষ ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক মো. আবুল কালাম আজাদকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২০ জুলাই) মধ্যরাতে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও গোদাগাড়ী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিষালবাড়ী (সাগরপাড়া) এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগের দিন, ১৯ জুলাই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ প্রশাসনের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন দপ্তরে লিখিত আবেদন দিয়ে নিজের নিরাপত্তা এবং ব্যবসা পরিচালনায় সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

আবুল কালাম আজাদের পরিবারের দাবি, কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই মধ্যরাতে তাকে বাসা থেকে আটক করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, চাচা ও সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পারিবারিক জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মাদক মামলা দায়ের করান। সরকার পরিবর্তনের পরও একই চক্র তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে বলে পরিবারের অভিযোগ। স্বজনদের ভাষ্য, সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের ইন্ধনে অন্য সাংবাদিকদের ব্যবহার করে আবুল কালাম আজাদকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে এবং সাম্প্রতিক আটকের ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।

তবে আটকের বিষয়ে গোদাগাড়ী থানা পুলিশ ও রাজশাহী জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তাকে আটক করা হয়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং ঘটনায় তার প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে আটক করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া লিখিত আবেদনে আবুল কালাম আজাদ উল্লেখ করেন, তিনি মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স এম.এ ব্রিকস ও মা ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী। এছাড়া তিনি সোনামসজিদ আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ এবং রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আরসিসিআই) নিয়মিত সদস্য। তিনি দাবি করেন, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিবছর প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ লাখ টাকা ভ্যাট ও আয়কর পরিশোধ করে আসছেন।

আবেদনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী হওয়ায় গত ১৭ বছর ধরে তিনি নানা ধরনের বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তৎকালীন প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় তাকে পলাতক আসামি করে একাধিক সাজানো মামলা দেওয়া হয়। সরকার পরিবর্তনের পরও একটি চক্র তার বৈধ ব্যবসা ধ্বংস করতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ অবস্থায় স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনা, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলেন তিনি। তবে সেই আবেদন জমা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তার আটকের ঘটনায় গোদাগাড়ী এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বুড়িগঙ্গা

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চাওয়ার পরদিনই আটক গোদাগাড়ীর ব্যবসায়ী আজাদ

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

featured Image



প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানমালের নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার আবেদন জানানোর একদিন পরই রাজশাহীর গোদাগাড়ীর শীর্ষ ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক মো. আবুল কালাম আজাদকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২০ জুলাই) মধ্যরাতে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও গোদাগাড়ী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিষালবাড়ী (সাগরপাড়া) এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগের দিন, ১৯ জুলাই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ প্রশাসনের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন দপ্তরে লিখিত আবেদন দিয়ে নিজের নিরাপত্তা এবং ব্যবসা পরিচালনায় সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

আবুল কালাম আজাদের পরিবারের দাবি, কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই মধ্যরাতে তাকে বাসা থেকে আটক করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, চাচা ও সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পারিবারিক জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মাদক মামলা দায়ের করান। সরকার পরিবর্তনের পরও একই চক্র তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে বলে পরিবারের অভিযোগ। স্বজনদের ভাষ্য, সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের ইন্ধনে অন্য সাংবাদিকদের ব্যবহার করে আবুল কালাম আজাদকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে এবং সাম্প্রতিক আটকের ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।

তবে আটকের বিষয়ে গোদাগাড়ী থানা পুলিশ ও রাজশাহী জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তাকে আটক করা হয়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং ঘটনায় তার প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে আটক করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া লিখিত আবেদনে আবুল কালাম আজাদ উল্লেখ করেন, তিনি মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স এম.এ ব্রিকস ও মা ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী। এছাড়া তিনি সোনামসজিদ আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ এবং রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আরসিসিআই) নিয়মিত সদস্য। তিনি দাবি করেন, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিবছর প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ লাখ টাকা ভ্যাট ও আয়কর পরিশোধ করে আসছেন।

আবেদনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী হওয়ায় গত ১৭ বছর ধরে তিনি নানা ধরনের বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তৎকালীন প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় তাকে পলাতক আসামি করে একাধিক সাজানো মামলা দেওয়া হয়। সরকার পরিবর্তনের পরও একটি চক্র তার বৈধ ব্যবসা ধ্বংস করতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ অবস্থায় স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনা, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলেন তিনি। তবে সেই আবেদন জমা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তার আটকের ঘটনায় গোদাগাড়ী এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চাওয়ার পরদিনই আটক গোদাগাড়ীর ব্যবসায়ী আজাদ
0:00 0:00
1.0x