রাজনীতি ধীরে ধীরে একটি পেশায় পরিণত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক কেন্দ্রের সভাপতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মো. ইলিয়াস হোসেন মাঝি।
শুক্রবার (৩ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অনেকেই রাজনীতিকে জনগণ ও দেশের সেবার মাধ্যম হিসেবে না দেখে ক্ষমতা ও অর্থ উপার্জনের উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন, যাদের জীবিকা কেবল রাজনীতি, তারা প্রায়ই জনসেবার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে প্রতারিত করেন। ক্ষমতার লোভে তারা দুর্নীতির পথ বেছে নেন এবং ব্যক্তিস্বার্থে জনস্বার্থকে উপেক্ষা করেন।
ইলিয়াস হোসেন মাঝি বলেন, জনগণের টাকায় গড়া বাজেটের অপচয়, সরকারি প্রকল্পে লুটপাট এবং কমিশন বাণিজ্য এই চক্রেরই অংশ। এর ফলে সমাজে বৈষম্য বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। তাঁর মতে, রাজনীতির প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করা। কিন্তু যাদের কাছে রাজনীতি জীবিকার উৎস, তাদের কাছে ক্ষমতা ও অর্থের মোহই প্রধান হয়ে ওঠে। এতে জাতি ধীরে ধীরে অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতি কোনো পেশা নয়; এটি জাতির সেবা ও কল্যাণে নিবেদিত একটি দায়িত্ব। কিন্তু যারা এটিকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করেন, তারা জনস্বার্থের চেয়ে নিজেদের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেন। এ ধরনের দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের কারণে সমাজে অন্যায় ও বৈষম্য বাড়ছে। তাই জনগণকে সচেতন হয়ে সৎ, যোগ্য ও নীতিবান নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে অবৈধ লেনদেন, কমিশন বাণিজ্য ও তদবিরের মাধ্যমে যারা নিজেদের আখের গোছায়, ক্ষমতায় গেলে তারাই রাষ্ট্রের অর্থ ও সম্পদ লুটপাটে জড়িয়ে পড়ে। দেশের কল্যাণের পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বার্থই তাদের কাছে মুখ্য হয়ে ওঠে। ফলে সাধারণ মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি মনে করেন, লুটপাট, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার সমাজকে ধীরে ধীরে অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দেয়। তাই বৈষম্য দূর করতে, সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।