ঢাকা    শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর তিশীখালীর মাজার

বর্ষার জলে প্রাণ ফিরেছে চলনবিলে


প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বর্ষার জলে প্রাণ ফিরেছে চলনবিলে

চলনবিলে বর্ষার পানি প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতি ও জনজীবনে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। পানিতে টইটম্বুর বিলের মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দর্শনার্থী, পর্যটক ও ভক্তরা। বিশেষ করে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ঐতিহাসিক তিশীখালী পীর ঘাসী দেওয়ান (রহ.)-এর মাজারে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

শনিবার (৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে তিশীখালী মাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে সারিবদ্ধভাবে নোঙর করা রয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি ছোট-বড় নৌকা ও ট্রলার। মাজার প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। মানুষের উপস্থিতি বাড়ায় জমে উঠেছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসাও। খাবার, খেলনা ও প্রসাধনী সামগ্রীর দোকানগুলোতে চলছে ব্যাপক বেচাকেনা।

মাজারের খোলা জায়গায় ভক্তদের ছোট-বড় দলে রান্না করতে দেখা যায়। কেউ মানত পূরণে খাসি, আবার কেউ মোরগ-মুরগি নিয়ে এসেছেন। রান্না শেষে সেই খাবার শিন্নি হিসেবে আগত মানুষের মধ্যে বিতরণ করছেন তারা।

রাজশাহীর পবা উপজেলা থেকে আসা স্কুলশিক্ষক বাবুল হাসান জানান, তিন মেয়ের পর ছেলে সন্তান হওয়ায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় এবং পীর সাহেবের মাজারে দোয়ার উদ্দেশ্যে মানত করেছিলেন। সেই মানত পূরণ করতে তিনি প্রায় ৫০ জন স্বজনকে নিয়ে সাতপুকুরিয়া হয়ে নৌকায় করে মাজারে এসেছেন। সঙ্গে এনেছেন এক জোড়া খাসিও।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার চামেলি বেগম বলেন, মেয়ের একটি মানত পূরণ করতে দুটি মোরগ নিয়ে এসেছেন। মাজারেই রান্না করে শিন্নি হিসেবে সবার মধ্যে তা বিতরণ করবেন।

বর্ষার পানিতে বিল ভরে উঠতে শুরু করায় দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে আশাবাদী স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। মাজার এলাকার চানাচুর বিক্রেতা ঝড়ু মিয়া বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। শুক্রবার হওয়ায় বিক্রিও ছিল অনেক ভালো।

চায়ের দোকানি চঞ্চল জানান, কয়েক মাস ব্যবসা প্রায় বন্ধের মতো ছিল। এখন প্রতিদিনই দেশ-বিদেশের পর্যটক আসছেন। পানি আরও বাড়লে ব্যবসা আরও জমে উঠবে বলে তিনি আশা করছেন।

যাত্রী পারাপারে নিয়োজিত শ্যালো নৌকার মাঝি সুজন আলী জানান, সাতপুকুরিয়া থেকে তিশীখালী মাজার পর্যন্ত জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। অনেক পরিবার আবার পুরো নৌকাই ভাড়া নিয়ে বিল ভ্রমণ করছেন।

সাতপুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম খাঁন বলেন, তিশীখালীর মাজার চলনবিলের অন্যতম ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান। সারা বছরই এখানে জিয়ারতকারীরা এলেও বর্ষা মৌসুমে দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তিনি আশা করেন, বর্ষা পুরোদমে শুরু হলে তিশীখালীর মাজারের পাশাপাশি সিংড়া পেট্রোবাংলা পয়েন্টের নৌকা ঘাটেও পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম হবে।

বুড়িগঙ্গা

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬


বর্ষার জলে প্রাণ ফিরেছে চলনবিলে

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

চলনবিলে বর্ষার পানি প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতি ও জনজীবনে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। পানিতে টইটম্বুর বিলের মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দর্শনার্থী, পর্যটক ও ভক্তরা। বিশেষ করে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ঐতিহাসিক তিশীখালী পীর ঘাসী দেওয়ান (রহ.)-এর মাজারে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

শনিবার (৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে তিশীখালী মাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে সারিবদ্ধভাবে নোঙর করা রয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি ছোট-বড় নৌকা ও ট্রলার। মাজার প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। মানুষের উপস্থিতি বাড়ায় জমে উঠেছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসাও। খাবার, খেলনা ও প্রসাধনী সামগ্রীর দোকানগুলোতে চলছে ব্যাপক বেচাকেনা।


মাজারের খোলা জায়গায় ভক্তদের ছোট-বড় দলে রান্না করতে দেখা যায়। কেউ মানত পূরণে খাসি, আবার কেউ মোরগ-মুরগি নিয়ে এসেছেন। রান্না শেষে সেই খাবার শিন্নি হিসেবে আগত মানুষের মধ্যে বিতরণ করছেন তারা।


রাজশাহীর পবা উপজেলা থেকে আসা স্কুলশিক্ষক বাবুল হাসান জানান, তিন মেয়ের পর ছেলে সন্তান হওয়ায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় এবং পীর সাহেবের মাজারে দোয়ার উদ্দেশ্যে মানত করেছিলেন। সেই মানত পূরণ করতে তিনি প্রায় ৫০ জন স্বজনকে নিয়ে সাতপুকুরিয়া হয়ে নৌকায় করে মাজারে এসেছেন। সঙ্গে এনেছেন এক জোড়া খাসিও।


বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার চামেলি বেগম বলেন, মেয়ের একটি মানত পূরণ করতে দুটি মোরগ নিয়ে এসেছেন। মাজারেই রান্না করে শিন্নি হিসেবে সবার মধ্যে তা বিতরণ করবেন।


বর্ষার পানিতে বিল ভরে উঠতে শুরু করায় দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে আশাবাদী স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। মাজার এলাকার চানাচুর বিক্রেতা ঝড়ু মিয়া বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। শুক্রবার হওয়ায় বিক্রিও ছিল অনেক ভালো।


চায়ের দোকানি চঞ্চল জানান, কয়েক মাস ব্যবসা প্রায় বন্ধের মতো ছিল। এখন প্রতিদিনই দেশ-বিদেশের পর্যটক আসছেন। পানি আরও বাড়লে ব্যবসা আরও জমে উঠবে বলে তিনি আশা করছেন।


যাত্রী পারাপারে নিয়োজিত শ্যালো নৌকার মাঝি সুজন আলী জানান, সাতপুকুরিয়া থেকে তিশীখালী মাজার পর্যন্ত জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। অনেক পরিবার আবার পুরো নৌকাই ভাড়া নিয়ে বিল ভ্রমণ করছেন।


সাতপুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম খাঁন বলেন, তিশীখালীর মাজার চলনবিলের অন্যতম ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান। সারা বছরই এখানে জিয়ারতকারীরা এলেও বর্ষা মৌসুমে দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তিনি আশা করেন, বর্ষা পুরোদমে শুরু হলে তিশীখালীর মাজারের পাশাপাশি সিংড়া পেট্রোবাংলা পয়েন্টের নৌকা ঘাটেও পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম হবে।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
বর্ষার জলে প্রাণ ফিরেছে চলনবিলে
0:00 0:00
1.0x