ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, এমপি।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের সরকারি বাসভবনে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে এক আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উভয় পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রগতি, জাতীয় উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে মতবিনিময় করেন।
সাক্ষাৎকালে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমনের জন্য মাননীয় প্রতিমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দেশের কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম জোরদার করা সময়ের দাবি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, কৃষি উদ্ভাবন এবং মাঠপর্যায়ে গবেষণালব্ধ জ্ঞান সম্প্রসারণে মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে।
ভাইস-চ্যান্সেলর আরও বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং দেশের কৃষি উন্নয়ন, কৃষি গবেষণা, মানবসম্পদ তৈরি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার বিকাশে একটি অগ্রণী প্রতিষ্ঠান। কৃষির আধুনিকায়ন, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনমূলক কাজ আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।
এ সময় মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, এমপি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কৃষি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, নদীভাঙন, অতিবৃষ্টি, খরা কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণানির্ভর পরিকল্পনা, টেকসই কৃষি প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেশের কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, কৃষি পুনর্বাসন, জলবায়ু সহনশীল ফসল উদ্ভাবন এবং দুর্যোগ-পরবর্তী কৃষি ব্যবস্থাপনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও অভিজ্ঞতা জাতীয় পর্যায়ে আরও বেশি কাজে লাগানো যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তা দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, কৃষি খাতের টেকসই অগ্রগতি, দুর্যোগ মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা, কৃষি উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীলতা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী কৃষি পুনরুদ্ধার বিষয়ে ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সৌজন্য সাক্ষাতে উভয় পক্ষ পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং জাতীয় স্বার্থে কৃষি, গবেষণা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় দেশের কৃষি শিক্ষা, গবেষণা এবং দুর্যোগ সহনশীল উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।