ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

বাংলাদেশের অস্কার চলচ্চিত্র নির্বাচন ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন



বাংলাদেশের অস্কার চলচ্চিত্র নির্বাচন ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য একাডেমি (অস্কার) অ্যাওয়ার্ডসের ৯৯ তম আসরে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সিনেমা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশ অস্কার কমিটি দীর্ঘদিন নিজেদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যা ইচ্ছা তাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রত্যেক বছর বাংলাদেশ থেকে অস্কারের জন্য একটি সিনেমা সিলেকশন করে প্রেরণ করে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ থেকে অস্কারে চলচ্চিত্র পাঠানো উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবী, ফেডারেশন এর সদস্য ফিল্ম সোসাইটি, চলচ্চিত্র সংসদ ও ফিল্ম ক্লাব গুলোকে এই বিষয়ে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। অস্কার চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ ও মতামত কেন গ্রহণ করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফেডারেশনের একাংশ বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটিজ ফেডারেশন (বিএফএসএফ) এর দাবি, বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএসএফ) প্রায় দুই দশক ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনটির  নেতৃত্ব ও কার্যক্রমে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দখলে ছিল। নিজেদের দলীয় ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন, চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক অনিয়মের বিষয় বার বার ফুটে উঠেছে।  

বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটিজ ফেডারেশনের সভাপতি বড়ুয়া মনোজিত ধীমন বলেন, “চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা অস্বচ্ছতা গ্রহণযোগ্য নয়। অস্কারের মতো আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী চলচ্চিত্র নির্বাচনে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। চলচ্চিত্র সমতা উপেক্ষা করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকা উচিত নয়। অতীতের অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে। আমরা চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে গণতান্ত্রিক চর্চা, সাংগঠনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। চলচ্চিত্রের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট ও আপসহীন। ফেডারেশনের একাংশ যদি  দেশের সুনমাহানি করে, নিজেদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করে, সেটি বন্ধ করা সরকারের দায়িত্ব। আমি মনে করি এটি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব মেঘ আরো বলেন, বাংলাদেশ থেকে অষ্কারে সিনেমা প্রেরণ করা মানে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা, বাংলাদেশে একাধিক নামসর্বস্ব ফিল্ম সোসাইটির ফেডারেশন আছে, কোন অপেশাজীবি চলচ্চিত্র সংসদের ফেডারেশন এটা করতে পারেনা, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি অস্কার কমিটি গঠন করে, প্রযোজক সমিতির মাধ্যমে সিনেমা সংগ্রহ করে বাংলাদেশ থেকে অস্কারে সিনেমা প্রেরণ করা এখন সময়ের দাবি। পেশাজীবি সংগঠনের মধ্যে চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি সারাপৃথিবীতে চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে এবং অস্কারে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে বিবেচিত হয়।

বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটিজ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, সায়মান তারেক বলেন, আওয়ামী লীগের বি সংগঠন “বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম” এর নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারে সময় লুটপাট করে খেয়েছে, ৫ আগস্টের পরে, শর্ট ফিল্ম ফোরামের সভাপতি, আওয়ামী দোরসরদের সাথে নিয়ে বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএফএস) কমিটি পরিবর্তন করে নিজেকে বিএফএসএফ এর সভাপতি ঘোষণা করে অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় ফায়দা নিয়েছে, সব জায়গাতে পরিবর্তন হলেও ফ্যাসিস্টদের সংগঠন শর্ট ফিল্ম ফোরামের কোন পরিবর্তন হয়নি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী  দোসরদের কমিটি এখনো আছে। সরকারী ভাবে অস্কারে সিনেমা পাঠাতে হবে, আমরা এই অনিয়মের বিষয়টি অস্কার কমিটিকে অভিযোগ করবো।

চলচ্চিত্র সংসদ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএফএস) এর সদস্যদের না জানিয়ে গোপনে হোটেল সোনারগাঁয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রত্যেক বছর অর্থ হাতিয়ে নেয়। সদস্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়, কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবর্তে অভিযুক্ত ফেডারেশনের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে। বছরে একবার সদস্যদের সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোই যদি ফেডারেশনের প্র্রান কার্যক্রম হয়ে থাকে, তাহলে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের বিকাশ, সদস্যদের অধিকার রক্ষা এবং অস্কার বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাঁদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কীভাবে পালিত হচ্ছে এমন প্রশ্নও তুলেছেন চলচ্চিত্র সংসদ কর্মীরা।

অস্কারে পাঠানোর জন্য নির্বাচিত চলচ্চিত্রটির মান, নির্বাচনপদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, চলচ্চিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হোটেল সোনারগাঁওয়ের মতো পাঁচ তারকা হোটেলে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের ব্যয় কোন উৎস থেকে বহন করা হয়েছে, সে বিষয়েও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তাঁরা। ফেডারেশন এই অর্থ কোথা  থেকে গ্রহণ করেছে, পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার অতীতে অভিযুক্ত ফেডারেশনকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতো এখনো অর্থ দিয়ে দেশে নাশকতার ছক করতেছে কিনা খতিয়ে দেখা হোক। অস্কার বাংলাদেশ সিলেকশনের মতন একটি স্পর্শকাতর অনুষ্ঠান  কেনো গোপনে হবে? ভারত, পাকিস্তান প্রভৃতি দেশে সরকারী ভাবে অস্কার কমিটি গঠন হয়, এবং সবাইকে জানিয়ে সিনেমা নির্বাচন করা হয়।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা আরও দাবি করেছেন, অতীতেও সংশ্লিষ্ট সংগঠনটির বিরুদ্ধে সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ, সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ছিল। রাজনৈতিক ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর সংগঠনটির নেতৃত্বকারীরা ভোল পাল্টিয়ে নতুন করে সরকারি নানা সুযোগ সুবিধা আদায় করার যড়যন্ত্র শুরু করেছে।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, অস্কারের মতো আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী চলচ্চিত্র নির্বাচন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক সিদ্ধান্তের বিষয় হতে পারে না। এ প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত নীতিমালা, স্বচ্ছ নির্বাচনপদ্ধতি, যোগ্যতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কমিটির গঠন, সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব, চলচ্চিত্র নির্বাচনের মানন্ড এবং অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন।

এ অবস্থায় চলচ্চিত্র সংসদ ও ফিল্ম ক্লাব-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাংলাদেশ অস্কার কমিটির গঠন ও কার্যক্রম, চলচ্চিত্র নির্বাচনের প্রক্রিয়া, সদস্য সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত হওয়া উচিত।

চলচ্চিত্র অঙ্গনের স্বার্থে অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংগঠন ও চলচ্চিত্রকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বরা।

বুড়িগঙ্গা

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


বাংলাদেশের অস্কার চলচ্চিত্র নির্বাচন ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য একাডেমি (অস্কার) অ্যাওয়ার্ডসের ৯৯ তম আসরে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সিনেমা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।


বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশ অস্কার কমিটি দীর্ঘদিন নিজেদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যা ইচ্ছা তাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রত্যেক বছর বাংলাদেশ থেকে অস্কারের জন্য একটি সিনেমা সিলেকশন করে প্রেরণ করে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ থেকে অস্কারে চলচ্চিত্র পাঠানো উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবী, ফেডারেশন এর সদস্য ফিল্ম সোসাইটি, চলচ্চিত্র সংসদ ও ফিল্ম ক্লাব গুলোকে এই বিষয়ে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। অস্কার চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ ও মতামত কেন গ্রহণ করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।


ফেডারেশনের একাংশ বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটিজ ফেডারেশন (বিএফএসএফ) এর দাবি, বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএসএফ) প্রায় দুই দশক ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনটির  নেতৃত্ব ও কার্যক্রমে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দখলে ছিল। নিজেদের দলীয় ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন, চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক অনিয়মের বিষয় বার বার ফুটে উঠেছে।  


বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটিজ ফেডারেশনের সভাপতি বড়ুয়া মনোজিত ধীমন বলেন, “চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা অস্বচ্ছতা গ্রহণযোগ্য নয়। অস্কারের মতো আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী চলচ্চিত্র নির্বাচনে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। চলচ্চিত্র সমতা উপেক্ষা করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকা উচিত নয়। অতীতের অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে। আমরা চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে গণতান্ত্রিক চর্চা, সাংগঠনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। চলচ্চিত্রের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট ও আপসহীন। ফেডারেশনের একাংশ যদি  দেশের সুনমাহানি করে, নিজেদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করে, সেটি বন্ধ করা সরকারের দায়িত্ব। আমি মনে করি এটি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”


চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব মেঘ আরো বলেন, বাংলাদেশ থেকে অষ্কারে সিনেমা প্রেরণ করা মানে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা, বাংলাদেশে একাধিক নামসর্বস্ব ফিল্ম সোসাইটির ফেডারেশন আছে, কোন অপেশাজীবি চলচ্চিত্র সংসদের ফেডারেশন এটা করতে পারেনা, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি অস্কার কমিটি গঠন করে, প্রযোজক সমিতির মাধ্যমে সিনেমা সংগ্রহ করে বাংলাদেশ থেকে অস্কারে সিনেমা প্রেরণ করা এখন সময়ের দাবি। পেশাজীবি সংগঠনের মধ্যে চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি সারাপৃথিবীতে চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে এবং অস্কারে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে বিবেচিত হয়।

বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটিজ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, সায়মান তারেক বলেন, আওয়ামী লীগের বি সংগঠন “বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম” এর নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারে সময় লুটপাট করে খেয়েছে, ৫ আগস্টের পরে, শর্ট ফিল্ম ফোরামের সভাপতি, আওয়ামী দোরসরদের সাথে নিয়ে বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএফএস) কমিটি পরিবর্তন করে নিজেকে বিএফএসএফ এর সভাপতি ঘোষণা করে অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় ফায়দা নিয়েছে, সব জায়গাতে পরিবর্তন হলেও ফ্যাসিস্টদের সংগঠন শর্ট ফিল্ম ফোরামের কোন পরিবর্তন হয়নি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী  দোসরদের কমিটি এখনো আছে। সরকারী ভাবে অস্কারে সিনেমা পাঠাতে হবে, আমরা এই অনিয়মের বিষয়টি অস্কার কমিটিকে অভিযোগ করবো।


চলচ্চিত্র সংসদ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএফএস) এর সদস্যদের না জানিয়ে গোপনে হোটেল সোনারগাঁয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রত্যেক বছর অর্থ হাতিয়ে নেয়। সদস্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়, কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবর্তে অভিযুক্ত ফেডারেশনের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে। বছরে একবার সদস্যদের সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোই যদি ফেডারেশনের প্র্রান কার্যক্রম হয়ে থাকে, তাহলে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের বিকাশ, সদস্যদের অধিকার রক্ষা এবং অস্কার বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাঁদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কীভাবে পালিত হচ্ছে এমন প্রশ্নও তুলেছেন চলচ্চিত্র সংসদ কর্মীরা।


অস্কারে পাঠানোর জন্য নির্বাচিত চলচ্চিত্রটির মান, নির্বাচনপদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, চলচ্চিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হোটেল সোনারগাঁওয়ের মতো পাঁচ তারকা হোটেলে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের ব্যয় কোন উৎস থেকে বহন করা হয়েছে, সে বিষয়েও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তাঁরা। ফেডারেশন এই অর্থ কোথা  থেকে গ্রহণ করেছে, পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার অতীতে অভিযুক্ত ফেডারেশনকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতো এখনো অর্থ দিয়ে দেশে নাশকতার ছক করতেছে কিনা খতিয়ে দেখা হোক। অস্কার বাংলাদেশ সিলেকশনের মতন একটি স্পর্শকাতর অনুষ্ঠান  কেনো গোপনে হবে? ভারত, পাকিস্তান প্রভৃতি দেশে সরকারী ভাবে অস্কার কমিটি গঠন হয়, এবং সবাইকে জানিয়ে সিনেমা নির্বাচন করা হয়।


চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা আরও দাবি করেছেন, অতীতেও সংশ্লিষ্ট সংগঠনটির বিরুদ্ধে সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ, সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ছিল। রাজনৈতিক ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর সংগঠনটির নেতৃত্বকারীরা ভোল পাল্টিয়ে নতুন করে সরকারি নানা সুযোগ সুবিধা আদায় করার যড়যন্ত্র শুরু করেছে।


চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, অস্কারের মতো আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী চলচ্চিত্র নির্বাচন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক সিদ্ধান্তের বিষয় হতে পারে না। এ প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত নীতিমালা, স্বচ্ছ নির্বাচনপদ্ধতি, যোগ্যতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কমিটির গঠন, সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব, চলচ্চিত্র নির্বাচনের মানন্ড এবং অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন।


এ অবস্থায় চলচ্চিত্র সংসদ ও ফিল্ম ক্লাব-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাংলাদেশ অস্কার কমিটির গঠন ও কার্যক্রম, চলচ্চিত্র নির্বাচনের প্রক্রিয়া, সদস্য সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত হওয়া উচিত।


চলচ্চিত্র অঙ্গনের স্বার্থে অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংগঠন ও চলচ্চিত্রকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বরা।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
বাংলাদেশের অস্কার চলচ্চিত্র নির্বাচন ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
0:00 0:00
1.0x