ঢাকা    শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

ফর্সা হতে যা করবেন


প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ফর্সা হতে যা করবেন

ত্বকের রং মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্য। কারও গায়ের রং ফর্সা, কারও শ্যামলা, আবার কারও গাঢ়, সবই স্বাভাবিক। তাই স্থায়ীভাবে গায়ের রং পরিবর্তন করার কোনো নিরাপদ উপায় নেই। তবে সঠিক যত্ন নিলে ত্বকের কালচে ভাব, রোদে পোড়া দাগ, মলিনতা ও নিস্তেজভাব কমিয়ে ত্বককে আরও ফর্সা, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত রাখা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই দ্রুত ফর্সা হওয়ার আশায় স্টেরয়েডযুক্ত বা ক্ষতিকর রাসায়নিকসমৃদ্ধ ক্রিম ব্যবহার করেন। এতে সাময়িকভাবে ত্বক উজ্জ্বল দেখালেও দীর্ঘমেয়াদে ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, ব্রণ, অ্যালার্জি, এমনকি স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে। তাই নিরাপদ উপায়েই ত্বকের যত্ন নেওয়া উচিত।

প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে বের হওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কালচে ভাব, বলিরেখা ও বিভিন্ন দাগের অন্যতম কারণ। বাইরে দীর্ঘ সময় থাকলে প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর সানস্ক্রিন পুনরায় ব্যবহার করা ভালো।

ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে নিয়মিত মুখ পরিষ্কার করাও গুরুত্বপূর্ণ। দিনে অন্তত দুইবার নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত ঘষাঘষি বা বারবার মুখ ধোয়া থেকে বিরত থাকুন, কারণ এতে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা নষ্ট হতে পারে।

সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন হালকা এক্সফোলিয়েশন করলে ত্বকের মৃত কোষ দূর হয় এবং ত্বক আরও সতেজ দেখায়। তবে অতিরিক্ত স্ক্রাব ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালাপোড়া বা সংবেদনশীলতা তৈরি হতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পানও সুস্থ ত্বকের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের আর্দ্রতা বজায় থাকে, যা ত্বককে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফল, শাকসবজি, বাদাম, মাছ, ডিম ও ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। এসব খাবারে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

পর্যাপ্ত ঘুমেরও বিকল্প নেই। প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে এবং চোখের নিচের কালো দাগ কমাতে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও অনিদ্রা ত্বককে দ্রুত নিস্তেজ করে দিতে পারে।

বাড়িতে তৈরি কিছু ফেসপ্যাক, যেমন টক দই, মধু বা অ্যালোভেরা জেল অনেকের ত্বকে সতেজ অনুভূতি দিতে পারে। তবে যেকোনো নতুন উপাদান ব্যবহারের আগে হাতে অল্প পরিমাণে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। লেবুর রস বা বেকিং সোডার মতো উপাদান সরাসরি মুখে ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ এগুলো ত্বকে জ্বালাপোড়া বা ক্ষতি করতে পারে।

যদি মুখে অতিরিক্ত কালো দাগ, মেছতা, ব্রণের দাগ বা ত্বকের অন্য কোনো সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তাহলে নিজে নিজে ক্রিম ব্যবহার না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

মনে রাখতে হবে, সৌন্দর্যের একমাত্র মানদণ্ড ফর্সা ত্বক নয়। সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও আত্মবিশ্বাসী ত্বকই প্রকৃত সৌন্দর্যের পরিচয়। তাই ক্ষতিকর প্রসাধনের পেছনে না ছুটে নিয়মিত যত্ন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সঠিক অভ্যাসের মাধ্যমে ত্বককে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত রাখাই হোক মূল লক্ষ্য।

বুড়িগঙ্গা

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬


ফর্সা হতে যা করবেন

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image



ত্বকের রং মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্য। কারও গায়ের রং ফর্সা, কারও শ্যামলা, আবার কারও গাঢ়, সবই স্বাভাবিক। তাই স্থায়ীভাবে গায়ের রং পরিবর্তন করার কোনো নিরাপদ উপায় নেই। তবে সঠিক যত্ন নিলে ত্বকের কালচে ভাব, রোদে পোড়া দাগ, মলিনতা ও নিস্তেজভাব কমিয়ে ত্বককে আরও ফর্সা, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত রাখা সম্ভব।


বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই দ্রুত ফর্সা হওয়ার আশায় স্টেরয়েডযুক্ত বা ক্ষতিকর রাসায়নিকসমৃদ্ধ ক্রিম ব্যবহার করেন। এতে সাময়িকভাবে ত্বক উজ্জ্বল দেখালেও দীর্ঘমেয়াদে ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, ব্রণ, অ্যালার্জি, এমনকি স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে। তাই নিরাপদ উপায়েই ত্বকের যত্ন নেওয়া উচিত।


প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে বের হওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কালচে ভাব, বলিরেখা ও বিভিন্ন দাগের অন্যতম কারণ। বাইরে দীর্ঘ সময় থাকলে প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর সানস্ক্রিন পুনরায় ব্যবহার করা ভালো।


ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে নিয়মিত মুখ পরিষ্কার করাও গুরুত্বপূর্ণ। দিনে অন্তত দুইবার নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত ঘষাঘষি বা বারবার মুখ ধোয়া থেকে বিরত থাকুন, কারণ এতে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা নষ্ট হতে পারে।


সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন হালকা এক্সফোলিয়েশন করলে ত্বকের মৃত কোষ দূর হয় এবং ত্বক আরও সতেজ দেখায়। তবে অতিরিক্ত স্ক্রাব ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালাপোড়া বা সংবেদনশীলতা তৈরি হতে পারে।


পর্যাপ্ত পানি পানও সুস্থ ত্বকের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের আর্দ্রতা বজায় থাকে, যা ত্বককে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফল, শাকসবজি, বাদাম, মাছ, ডিম ও ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। এসব খাবারে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।


পর্যাপ্ত ঘুমেরও বিকল্প নেই। প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে এবং চোখের নিচের কালো দাগ কমাতে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও অনিদ্রা ত্বককে দ্রুত নিস্তেজ করে দিতে পারে।


বাড়িতে তৈরি কিছু ফেসপ্যাক, যেমন টক দই, মধু বা অ্যালোভেরা জেল অনেকের ত্বকে সতেজ অনুভূতি দিতে পারে। তবে যেকোনো নতুন উপাদান ব্যবহারের আগে হাতে অল্প পরিমাণে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। লেবুর রস বা বেকিং সোডার মতো উপাদান সরাসরি মুখে ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ এগুলো ত্বকে জ্বালাপোড়া বা ক্ষতি করতে পারে।


যদি মুখে অতিরিক্ত কালো দাগ, মেছতা, ব্রণের দাগ বা ত্বকের অন্য কোনো সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তাহলে নিজে নিজে ক্রিম ব্যবহার না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।


মনে রাখতে হবে, সৌন্দর্যের একমাত্র মানদণ্ড ফর্সা ত্বক নয়। সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও আত্মবিশ্বাসী ত্বকই প্রকৃত সৌন্দর্যের পরিচয়। তাই ক্ষতিকর প্রসাধনের পেছনে না ছুটে নিয়মিত যত্ন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সঠিক অভ্যাসের মাধ্যমে ত্বককে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত রাখাই হোক মূল লক্ষ্য।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
ফর্সা হতে যা করবেন
0:00 0:00
1.0x