ঢাকা    শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

ঘাতকমুক্ত সড়ক চাই, নিরাপদে বাঁচতে চাই



ঘাতকমুক্ত সড়ক চাই, নিরাপদে বাঁচতে চাই


বাংলাদেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রশ্ন হলো এর জন্য দায়ী কে? আইনের দুর্বল প্রয়োগ, জনগণের অসচেতনতা, নাকি চালকদের বেপরোয়া গতি?প্রতিদিন পত্রিকার পাতা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলেই সড়ক দুর্ঘটনার মর্মান্তিক খবর চোখে পড়ে। এটি আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং যেন এক স্থায়ী মৃত্যুফাঁদ। প্রতিদিন কেউ না কেউ হারাচ্ছেন বাবা-মা, সন্তান, স্বামী-স্ত্রী কিংবা প্রিয়জনকে। অনেকের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে, কেউ আবার সারাজীবনের জন্য কর্মক্ষমতা হারাচ্ছেন। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখি, এই মৃত্যুর দায় কার?

দেশের মহাসড়কগুলোতে যেভাবে দুর্ঘটনা ঘটছে এবং হতাহতের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে দ্রুত কার্যকর বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। সড়কে প্রতিটি অকালমৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজ রাষ্ট্রের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। এটি দেশের উন্নয়ন মানবসম্পদ গঠনের পথেও বড় বাধা।

এই সংকট একদিনে সৃষ্টি হয়নি। বছরের পর বছর ধরে সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের জীবনের এক নির্মম বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। মানুষ মারা যাচ্ছে, আমরা শিরোনাম পড়ছি; আবার মানুষ মারা যাচ্ছে, আবার নতুন শিরোনাম হচ্ছে। ধীরে ধীরে যেন রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান, সমাজ সবাই এই মৃত্যুর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। আর এটাই সবচেয়ে ভয়ংকর। আমাদের অনুভূতি এতটাই ভোঁতা হয়ে গেছে যে, আমরা বুঝতেই পারি না সঠিক উদ্যোগ নিলে এই মৃত্যুর অনেকগুলোই এড়ানো সম্ভব ছিল।

যারা প্রাণ হারাচ্ছেন, তাদের অধিকাংশই সাধারণ মানুষ কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, মধ্যবিত্ত, গ্রাম থেকে শহরে কাজের সন্ধানে আসা মানুষ, মোটরসাইকেলে কর্মস্থলে যাওয়া কর্মজীবী কিংবা বাসে বাড়ি ফেরা যাত্রী। তাদের মৃত্যু সংবাদ হয়, কিন্তু তা নীতিনির্ধারকদের বিবেককে খুব কমই নাড়া দেয়। প্রতিমাসে প্রায় একইভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে, অথচ আমরা যেন নীরব দর্শক।

সড়ক দুর্ঘটনা কেবল দুর্ঘটনা নয়; অনেক ক্ষেত্রেই এটি অবহেলা দায়িত্বহীনতার ফল। অপরিকল্পিত সড়ক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, অদক্ষ লাইসেন্সবিহীন চালক, ট্রাফিক আইন অমান্য, অতিরিক্ত গতি, বিপজ্জনক ওভারটেকিং এবং আইন প্রয়োগে শিথিলতা সব মিলিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিটি দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, শোক প্রকাশ করা হয়, মানববন্ধন হয়, নানা প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেসব তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে আসে না, অপরাধীদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি দায়ীদের আরও বেপরোয়া করে তোলে, আর সাধারণ মানুষকে রক্ত দিয়ে তার মূল্য দিতে হয়।

এখনই সময় সড়ক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার। কঠোরভাবে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, দক্ষ চালক তৈরি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, আধুনিক সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি এসব বিষয়ে সরকার, সংশ্লিষ্ট সংস্থা সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।

সড়ক যেন আর মৃত্যুর ফাঁদ না হয়। আমরা চাই একটি ঘাতকমুক্ত সড়কব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে। কারণ নিরাপদ সড়ক কোনো বিলাসিতা নয় এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।



বুড়িগঙ্গা

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬


ঘাতকমুক্ত সড়ক চাই, নিরাপদে বাঁচতে চাই

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image


বাংলাদেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রশ্ন হলো এর জন্য দায়ী কে? আইনের দুর্বল প্রয়োগ, জনগণের অসচেতনতা, নাকি চালকদের বেপরোয়া গতি?প্রতিদিন পত্রিকার পাতা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলেই সড়ক দুর্ঘটনার মর্মান্তিক খবর চোখে পড়ে। এটি আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং যেন এক স্থায়ী মৃত্যুফাঁদ। প্রতিদিন কেউ না কেউ হারাচ্ছেন বাবা-মা, সন্তান, স্বামী-স্ত্রী কিংবা প্রিয়জনকে। অনেকের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে, কেউ আবার সারাজীবনের জন্য কর্মক্ষমতা হারাচ্ছেন। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখি, এই মৃত্যুর দায় কার?

দেশের মহাসড়কগুলোতে যেভাবে দুর্ঘটনা ঘটছে এবং হতাহতের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে দ্রুত কার্যকর বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। সড়কে প্রতিটি অকালমৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজ রাষ্ট্রের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। এটি দেশের উন্নয়ন মানবসম্পদ গঠনের পথেও বড় বাধা।

এই সংকট একদিনে সৃষ্টি হয়নি। বছরের পর বছর ধরে সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের জীবনের এক নির্মম বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। মানুষ মারা যাচ্ছে, আমরা শিরোনাম পড়ছি; আবার মানুষ মারা যাচ্ছে, আবার নতুন শিরোনাম হচ্ছে। ধীরে ধীরে যেন রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান, সমাজ সবাই এই মৃত্যুর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। আর এটাই সবচেয়ে ভয়ংকর। আমাদের অনুভূতি এতটাই ভোঁতা হয়ে গেছে যে, আমরা বুঝতেই পারি না সঠিক উদ্যোগ নিলে এই মৃত্যুর অনেকগুলোই এড়ানো সম্ভব ছিল।

যারা প্রাণ হারাচ্ছেন, তাদের অধিকাংশই সাধারণ মানুষ কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, মধ্যবিত্ত, গ্রাম থেকে শহরে কাজের সন্ধানে আসা মানুষ, মোটরসাইকেলে কর্মস্থলে যাওয়া কর্মজীবী কিংবা বাসে বাড়ি ফেরা যাত্রী। তাদের মৃত্যু সংবাদ হয়, কিন্তু তা নীতিনির্ধারকদের বিবেককে খুব কমই নাড়া দেয়। প্রতিমাসে প্রায় একইভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে, অথচ আমরা যেন নীরব দর্শক।

সড়ক দুর্ঘটনা কেবল দুর্ঘটনা নয়; অনেক ক্ষেত্রেই এটি অবহেলা দায়িত্বহীনতার ফল। অপরিকল্পিত সড়ক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, অদক্ষ লাইসেন্সবিহীন চালক, ট্রাফিক আইন অমান্য, অতিরিক্ত গতি, বিপজ্জনক ওভারটেকিং এবং আইন প্রয়োগে শিথিলতা সব মিলিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিটি দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, শোক প্রকাশ করা হয়, মানববন্ধন হয়, নানা প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেসব তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে আসে না, অপরাধীদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি দায়ীদের আরও বেপরোয়া করে তোলে, আর সাধারণ মানুষকে রক্ত দিয়ে তার মূল্য দিতে হয়।

এখনই সময় সড়ক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার। কঠোরভাবে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, দক্ষ চালক তৈরি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, আধুনিক সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি এসব বিষয়ে সরকার, সংশ্লিষ্ট সংস্থা সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।

সড়ক যেন আর মৃত্যুর ফাঁদ না হয়। আমরা চাই একটি ঘাতকমুক্ত সড়কব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে। কারণ নিরাপদ সড়ক কোনো বিলাসিতা নয় এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।




বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
ঘাতকমুক্ত সড়ক চাই, নিরাপদে বাঁচতে চাই
0:00 0:00
1.0x