কওমি ঘরানার ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে জামায়াত, বিএনপি ও স্বতন্ত্র বলয়ে থাকা কওমি ধারার দলগুলোর কাছে আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও করণীয় সম্পর্কে লিখিত মতামত চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামী দলের নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
হেফাজতের নেতারা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কওমি ঘরানার দলগুলো জামায়াত, বিএনপি ও স্বতন্ত্র—এই তিন ধারায় বিভক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাদের রাজনৈতিক শক্তি ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি হেফাজতের নেতাকর্মীদের মধ্যেও বিভক্তি ও প্রকাশ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ঘটনা ঘটে। এ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে সব কওমি ধারার দলকে এক ছাতার নিচে আনতেই নতুন জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিস এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ে থাকা দলগুলোকে অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
হেফাজত সূত্রে জানা গেছে, নতুন জোটে থাকতে আগ্রহী দলগুলোকে তাদের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্বিবেচনা করে অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে লিখিত মতামত দিতে হবে। মতামত পাওয়ার পর নতুন জোটের কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে। এরপর স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ ভবিষ্যতের বিভিন্ন নির্বাচনে সমন্বিতভাবে বা একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদ্রিস বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ে বিভক্ত হওয়ার কারণে নিচের সারির নেতাকর্মীদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণেই হেফাজতের আমির সবাইকে নিয়ে বৈঠক করেছেন। আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে দলগুলোকে তাদের লিখিত মতামত দিতে বলা হয়েছে। এরপর পরবর্তী বৈঠকে নতুন রাজনৈতিক জোট ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ ভবিষ্যতে একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আগে জোট গঠন হোক। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
হেফাজতের আরেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, “কওমি ঘরানার দলগুলোকে নিয়ে আলাদা একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের লক্ষ্যে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। সামনে আরও কয়েকটি বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। কওমি ধারার দলগুলোকে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।”