“রেশন, পেনশন, সারা বছর কাজ, প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধীনে জলমহল এবং ন্যায্য মজুরির নিশ্চয়তা চাই”—এই চার দফা দাবি সামনে রেখে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বাংলাদেশ ক্ষেত মজুর সমিতির উপজেলা কমিটির উদ্যোগে প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কমরেড সুবাস হাজং। কমরেড রঞ্জন সাহার সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সদস্য কমরেড ডা. দিবালোক সিংহ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সিপিবি নেত্রকোনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড আলকাস উদ্দিন মীর এবং বাংলাদেশ ক্ষেত মজুর সমিতি নেত্রকোনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড হাবিবুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিপিবি কলমাকান্দা উপজেলা কমিটির সভাপতি কমরেড সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী দুর্গাপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি কমরেড শামসুল আলম খানসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সভায় বক্তারা বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে ক্ষেতমজুর ও প্রান্তিক কৃষকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও তারা নানা সংকটে রয়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও সে তুলনায় মজুরি বাড়ছে না। বছরের একটি বড় সময় কাজের অভাবে গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করেন।
বক্তারা গ্রামীণ জনপদে স্থায়ী রেশন ব্যবস্থা চালু, ক্ষেতমজুরদের পেনশনের আওতায় আনা, সারা বছর কাজের আইনি নিশ্চয়তা এবং জলমহল থেকে মধ্যস্বত্বভোগী ও ইজারাদারদের সিন্ডিকেট বন্ধ করে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় জলমহল দেওয়ার দাবি জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কমরেড ডা. দিবালোক সিংহ বলেন, দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ক্ষেতমজুর ও মেহনতি মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। অথচ স্বাধীনতার এত বছর পরও তারা দুই বেলা খাবার ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য সংগ্রাম করছেন।
তিনি বলেন, কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে কাজের অভাবে ক্ষেতমজুররা সংকটে পড়ছেন। শ্রমের ন্যায্য মূল্য ও ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত না হলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হতে পারে না।
সভা থেকে চার দফা দাবি আদায়ে আগামী দিনে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়।