রইক্ক্যং দক্ষিণ পাড়ায় অবৈধ মালামাল আনার অভিযোগ, বাধা দেওয়ায় সুরত আলমকে মারধরের দাবি
বিশেষ প্রতিনিধি, টেকনাফ
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রইক্ক্যং দক্ষিণ পাড়ায় মিয়ানমার থেকে কথিত অবৈধভাবে মালামাল আনা ও তা নিয়ে স্থানীয়ভাবে বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বাধা দেওয়ায় সুরত আলম নামে এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রইক্ক্যং দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা সুরত আলম, পিতা আলী আকবর, সীমান্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে কথিত অবৈধ মালামাল আনা এবং তা স্থানীয়ভাবে সরবরাহের বিষয়ে আপত্তি জানান। এ নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন—রইক্ক্যং দক্ষিণ পাড়ার সুরত আলমের আপন ভাই জাগির হোছাইন ও আইয়াজ উদ্দিন, উভয়ের পিতা আলী আকবর; গুরাইয়া, পিতা জুহুর আলম; এছাড়া আবু তৈয়ব ও তার ছোট ভাই হাফেজ আব্দুল মালেকের নামও অভিযোগে এসেছে।
সুরত আলমের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকা থেকে মিয়ানমারের কথিত অবৈধ মালামাল এনে এলাকায় রাখার বিষয়ে তিনি আপত্তি জানান। বিশেষ করে এসব মালামালের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কথা বলার পরই তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, আবু তৈয়ব ও তার ছোট ভাই হাফেজ আব্দুল মালেক সীমান্ত এলাকা থেকে কথিত অবৈধ মালামাল আনা-নেওয়ার সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রতিবাদ করায় সুরত আলমকে ভয়ভীতি দেখানো ও মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, সীমান্তবর্তী হওয়ায় হোয়াইক্যংয়ের বিভিন্ন এলাকায় মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে মালামাল প্রবেশের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব মালামালকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ, সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে নির্দিষ্টভাবে কারা এসব মালামাল আনা-নেওয়ার সঙ্গে জড়িত, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে সুরত আলমকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তার স্বজনরা। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকা দিয়ে কথিত অবৈধ মালামাল প্রবেশ বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত আবু তৈয়ব, হাফেজ আব্দুল মালেকসহ অন্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে টেকনাফ থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি উঠেছে।