ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান, নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক যাত্রীছাউনি



সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান, নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক যাত্রীছাউনি

 

নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের সিংড়া পৌরশহরের প্রাণকেন্দ্র ও অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘদিনের যাত্রী দুর্ভোগের অবসান হতে যাচ্ছে। প্রায় আট বছর ধরে যাত্রীছাউনি না থাকায় প্রখর রোদ ও বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তির শিকার হওয়া যাত্রীদের জন্য এবার নির্মাণ করা হচ্ছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি যাত্রীছাউনি। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিদিন এই বাসস্ট্যান্ড দিয়ে রাজধানী ঢাকা, বিভাগীয় শহর রাজশাহী, বগুড়া এবং নাটোর জেলা সদরে শত শত মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু যাত্রীছাউনি না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই আশপাশের দোকানপাট, হোটেল কিংবা রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নিয়ে বাসের অপেক্ষা করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের সময় আগের ছোট যাত্রীছাউনিটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর দীর্ঘ আট বছরেও সেখানে নতুন কোনো যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাসের জন্য অপেক্ষমাণ নারী, শিশু ও প্রবীণ যাত্রীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। বসার ব্যবস্থা না থাকায় অনেককেই দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

রাজশাহীগামী যাত্রী আব্দুল মজিদ বলেন, সিংড়া এখন অনেক বড় শহর। প্রতিদিন এখান থেকে শত শত মানুষ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। অথচ এত বড় একটি বাসস্ট্যান্ডে বসার মতো কোনো জায়গা নেই। গরমে রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, আবার বৃষ্টি হলেই দোকানের নিচে আশ্রয় নিতে হয়।

ঢাকাগামী যাত্রী মোছা. রেহেনা পারভীন বলেন, কোলে শিশু নিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করা খুবই কষ্টকর। এখানে বসার জায়গা নেই, টয়লেটও নেই। নারী ও শিশুদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত আধুনিক যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা প্রয়োজন।

স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ব্যবসার প্রয়োজনে নিয়মিত বগুড়ায় যাতায়াত করি। প্রায়ই আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। যাত্রীছাউনি নির্মাণ এখন সিংড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি।

নাটোর জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, যাত্রীছাউনি না থাকায় যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু এমপি বলেন, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষ বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। যাত্রীদের এই কষ্ট আমি উপলব্ধি করেছি। ইতোমধ্যে আধুনিক ও সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি যাত্রীছাউনি নির্মাণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। খুব দ্রুতই কাজ শুরু হবে। এখানে বসার সুব্যবস্থা, আধুনিক টয়লেটসহ প্রয়োজনীয় সব সুবিধা থাকবে, যাতে দূরপাল্লার যাত্রীদের আর হোটেল বা দোকানে গিয়ে অপেক্ষা করতে না হয়।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যাত্রীছাউনি নির্মাণের উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সিংড়ার সাধারণ মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ হলে বহুদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান হবে।

বুড়িগঙ্গা

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান, নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক যাত্রীছাউনি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

 

নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের সিংড়া পৌরশহরের প্রাণকেন্দ্র ও অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘদিনের যাত্রী দুর্ভোগের অবসান হতে যাচ্ছে। প্রায় আট বছর ধরে যাত্রীছাউনি না থাকায় প্রখর রোদ ও বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তির শিকার হওয়া যাত্রীদের জন্য এবার নির্মাণ করা হচ্ছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি যাত্রীছাউনি। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


প্রতিদিন এই বাসস্ট্যান্ড দিয়ে রাজধানী ঢাকা, বিভাগীয় শহর রাজশাহী, বগুড়া এবং নাটোর জেলা সদরে শত শত মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু যাত্রীছাউনি না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই আশপাশের দোকানপাট, হোটেল কিংবা রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নিয়ে বাসের অপেক্ষা করেছেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের সময় আগের ছোট যাত্রীছাউনিটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর দীর্ঘ আট বছরেও সেখানে নতুন কোনো যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা হয়নি।


সরেজমিনে দেখা যায়, বাসের জন্য অপেক্ষমাণ নারী, শিশু ও প্রবীণ যাত্রীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। বসার ব্যবস্থা না থাকায় অনেককেই দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।


রাজশাহীগামী যাত্রী আব্দুল মজিদ বলেন, সিংড়া এখন অনেক বড় শহর। প্রতিদিন এখান থেকে শত শত মানুষ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। অথচ এত বড় একটি বাসস্ট্যান্ডে বসার মতো কোনো জায়গা নেই। গরমে রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, আবার বৃষ্টি হলেই দোকানের নিচে আশ্রয় নিতে হয়।


ঢাকাগামী যাত্রী মোছা. রেহেনা পারভীন বলেন, কোলে শিশু নিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করা খুবই কষ্টকর। এখানে বসার জায়গা নেই, টয়লেটও নেই। নারী ও শিশুদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত আধুনিক যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা প্রয়োজন।


স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ব্যবসার প্রয়োজনে নিয়মিত বগুড়ায় যাতায়াত করি। প্রায়ই আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। যাত্রীছাউনি নির্মাণ এখন সিংড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি।


নাটোর জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, যাত্রীছাউনি না থাকায় যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।


এ বিষয়ে নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু এমপি বলেন, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষ বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। যাত্রীদের এই কষ্ট আমি উপলব্ধি করেছি। ইতোমধ্যে আধুনিক ও সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি যাত্রীছাউনি নির্মাণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। খুব দ্রুতই কাজ শুরু হবে। এখানে বসার সুব্যবস্থা, আধুনিক টয়লেটসহ প্রয়োজনীয় সব সুবিধা থাকবে, যাতে দূরপাল্লার যাত্রীদের আর হোটেল বা দোকানে গিয়ে অপেক্ষা করতে না হয়।


দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যাত্রীছাউনি নির্মাণের উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সিংড়ার সাধারণ মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ হলে বহুদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান হবে।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান, নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক যাত্রীছাউনি
0:00 0:00
1.0x