ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

ফাঁস হওয়া ফোনালাপে আন্দোলন দমনের কৌশল, শেখ হাসিনাকে ইনুর পরামর্শ



ফাঁস হওয়া ফোনালাপে আন্দোলন দমনের কৌশল, শেখ হাসিনাকে ইনুর পরামর্শ

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রকাশ্যে আসে দলটির শীর্ষ নেতাদের কয়েকটি ফোনালাপ। এসব কথোপকথনের একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন পরামর্শ দিতে শোনা যায় হাসানুল হক ইনুকে। কথোপকথনের সম্পাদিত অংশ নিচে তুলে ধরা হলো:

হাসানুল হক ইনু: আসসালামু আলাইকুম।

শেখ হাসিনা: ওয়ালাইকুম সালাম। কী হয়েছে?

ইনু: আমি মনে করি, আপনার নেওয়া পদক্ষেপ সঠিক হয়েছে। এখন পর্যন্ত যে রিপোর্ট পাচ্ছি, ঢাকার রামপুরা ছাড়া অন্য কিছু এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ে খবর আসছে।

শেখ হাসিনা: রামপুরা ক্লিয়ার। শনির আখড়ায় কিছুটা ঝামেলা আছে।

ইনু: ওখানে কিছু মোল্লা...

শেখ হাসিনা: শুধু মোল্লা নয়, অনেক মাদরাসাও আছে। ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনীও নামানো হচ্ছে।

এরপর শেখ হাসিনা বলেন, প্রাণহানি চান না, তবে ব্যারিকেড সরাতে সেনা মোতায়েনের কথা জানান। তিনি হেলিকপ্টার ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেন।

ইনু: কারফিউ শেষ হওয়ার পর যেন আর মিছিল না হতে পারে, সেজন্য উত্তরা, বাড্ডা, গুলশান, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় যারা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করা দরকার। বড় নেতাদের গ্রেপ্তারের চেয়ে মাঠপর্যায়ের নেতৃত্বকে আটক করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কুষ্টিয়ায় এসপি ইতোমধ্যে তালিকা তৈরি করছেন। আমি বলেছি, আজ রাতেই তাদের তুলে নিতে।

শেখ হাসিনা: ঠিক আছে।

ইনু: ঢাকাতেও গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় নেতাদের সহায়তায় তালিকা করে আজ রাতেই সবাইকে হেফাজতে নিলে আর মিছিল করার লোক থাকবে না।

শেখ হাসিনা: স্থানীয় নেতাদেরও এ কাজে লাগানো উচিত।

পরে ইনু বলেন, মোহাম্মদপুর থেকে গণভবন ঘেরাওয়ের প্রস্তুতি ছিল এবং আগের রাতের পদক্ষেপ সঠিক হয়েছে।

ইনু: সিদ্ধান্তটি খুবই সঠিক হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা: ধন্যবাদ। আমরা রণক্ষেত্রের সাথী।

ইনু: আজই গ্রেপ্তারের কাজটা করতে বলেন।

শেখ হাসিনা: বলা আছে, আবারও বলছি।

এরপর ইন্টারনেট চালুর প্রসঙ্গ তোলেন ইনু।

ইনু: ইন্টারনেট চালু করলে আমাদের পক্ষের প্রচারণায় সুবিধা হবে।

শেখ হাসিনা: ডাটা সেন্টার পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখনই চালু করা সম্ভব নয়।

ইনু: আমি টেলিভিশনে গিয়ে বলব, সরকারের সঙ্গে কোটা আন্দোলনকারীদের বিরোধ নেই; বিরোধ নাশকতাকারী বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে। ইন্টারনেট থাকলে এই প্রচার আরও জোরালো করা যেত।

শেখ হাসিনা: আমি নিজেও এ কথা বলেছি।

কথোপকথনের শেষ দিকে শেখ হাসিনা বলেন, বিভিন্ন এলাকায় তালিকা তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

শেখ হাসিনা: আপনার যেখানে যেখানে লোক আছে, তালিকা করান। আমরাও করছি।

ইনু: ঢাকা শহরে জামায়াত-শিবিরের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে হবে। আপনি যা দায়িত্ব দেবেন, আমি করব।

শেখ হাসিনা: শিবিরের যারা আছে, তাদের তথ্য সংগ্রহ করুন।

এরপর দুজন কথোপকথন শেষ করেন।

বুড়িগঙ্গা

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


ফাঁস হওয়া ফোনালাপে আন্দোলন দমনের কৌশল, শেখ হাসিনাকে ইনুর পরামর্শ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রকাশ্যে আসে দলটির শীর্ষ নেতাদের কয়েকটি ফোনালাপ। এসব কথোপকথনের একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন পরামর্শ দিতে শোনা যায় হাসানুল হক ইনুকে। কথোপকথনের সম্পাদিত অংশ নিচে তুলে ধরা হলো:

হাসানুল হক ইনু: আসসালামু আলাইকুম।

শেখ হাসিনা: ওয়ালাইকুম সালাম। কী হয়েছে?

ইনু: আমি মনে করি, আপনার নেওয়া পদক্ষেপ সঠিক হয়েছে। এখন পর্যন্ত যে রিপোর্ট পাচ্ছি, ঢাকার রামপুরা ছাড়া অন্য কিছু এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ে খবর আসছে।


শেখ হাসিনা: রামপুরা ক্লিয়ার। শনির আখড়ায় কিছুটা ঝামেলা আছে।


ইনু: ওখানে কিছু মোল্লা...


শেখ হাসিনা: শুধু মোল্লা নয়, অনেক মাদরাসাও আছে। ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনীও নামানো হচ্ছে।


এরপর শেখ হাসিনা বলেন, প্রাণহানি চান না, তবে ব্যারিকেড সরাতে সেনা মোতায়েনের কথা জানান। তিনি হেলিকপ্টার ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেন।


ইনু: কারফিউ শেষ হওয়ার পর যেন আর মিছিল না হতে পারে, সেজন্য উত্তরা, বাড্ডা, গুলশান, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় যারা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করা দরকার। বড় নেতাদের গ্রেপ্তারের চেয়ে মাঠপর্যায়ের নেতৃত্বকে আটক করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কুষ্টিয়ায় এসপি ইতোমধ্যে তালিকা তৈরি করছেন। আমি বলেছি, আজ রাতেই তাদের তুলে নিতে।


শেখ হাসিনা: ঠিক আছে।


ইনু: ঢাকাতেও গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় নেতাদের সহায়তায় তালিকা করে আজ রাতেই সবাইকে হেফাজতে নিলে আর মিছিল করার লোক থাকবে না।


শেখ হাসিনা: স্থানীয় নেতাদেরও এ কাজে লাগানো উচিত।


পরে ইনু বলেন, মোহাম্মদপুর থেকে গণভবন ঘেরাওয়ের প্রস্তুতি ছিল এবং আগের রাতের পদক্ষেপ সঠিক হয়েছে।


ইনু: সিদ্ধান্তটি খুবই সঠিক হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।


শেখ হাসিনা: ধন্যবাদ। আমরা রণক্ষেত্রের সাথী।


ইনু: আজই গ্রেপ্তারের কাজটা করতে বলেন।


শেখ হাসিনা: বলা আছে, আবারও বলছি।


এরপর ইন্টারনেট চালুর প্রসঙ্গ তোলেন ইনু।


ইনু: ইন্টারনেট চালু করলে আমাদের পক্ষের প্রচারণায় সুবিধা হবে।


শেখ হাসিনা: ডাটা সেন্টার পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখনই চালু করা সম্ভব নয়।


ইনু: আমি টেলিভিশনে গিয়ে বলব, সরকারের সঙ্গে কোটা আন্দোলনকারীদের বিরোধ নেই; বিরোধ নাশকতাকারী বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে। ইন্টারনেট থাকলে এই প্রচার আরও জোরালো করা যেত।


শেখ হাসিনা: আমি নিজেও এ কথা বলেছি।


কথোপকথনের শেষ দিকে শেখ হাসিনা বলেন, বিভিন্ন এলাকায় তালিকা তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

শেখ হাসিনা: আপনার যেখানে যেখানে লোক আছে, তালিকা করান। আমরাও করছি।


ইনু: ঢাকা শহরে জামায়াত-শিবিরের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে হবে। আপনি যা দায়িত্ব দেবেন, আমি করব।

শেখ হাসিনা: শিবিরের যারা আছে, তাদের তথ্য সংগ্রহ করুন।

এরপর দুজন কথোপকথন শেষ করেন।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
ফাঁস হওয়া ফোনালাপে আন্দোলন দমনের কৌশল, শেখ হাসিনাকে ইনুর পরামর্শ
0:00 0:00
1.0x