ঢাকা    সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

২৪-এর আন্দোলন ছিল চূড়ান্ত যুদ্ধের মহড়া: জামায়াত আমির


প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

২৪-এর আন্দোলন ছিল চূড়ান্ত যুদ্ধের মহড়া: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনকে চূড়ান্ত যুদ্ধ মনে করার সুযোগ নেই। এটি ছিল চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি বা মহড়া। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে জেগে ওঠা তরুণরা ফ্যাসিবাদের মোকাবিলায় এখনো সজাগ রয়েছেন। যে কোনো সময় তারা আবার জেগে উঠবেন। 

রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে রোববার সীরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আ ন ম রফিকুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তৃতা করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আ ক ম আব্দুর কাদেরের উপস্থাপিত প্রবন্ধের ওপর সেমিনারে আরও বক্তৃতা করেন সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপিসহ নেতারা।

 ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘২৪-এ যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সব কিছু প্রত্যক্ষ করছেন। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়। তাদের কসরত করতে হয়, মহড়া দিতে হয়। এরা যেন ২৪কে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে। এটা ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল।’

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের পর আশা করেছিলাম দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ পরিষ্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি; বরং আবর্জনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।

জামায়াত আমির বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ একটা সংক্রামক ব্যাধি। এটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাস যার ওপরই ভর করবে, সে-ই ফ্যাসিবাদী হবে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার যে রাস্তায় হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও সেই রাস্তা ধরেই হাঁটছে। এই রাস্তা পরিবর্তন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই রাস্তা ফ্যাসিবাদীদের রাস্তা, আয়নাঘরের রাস্তা, অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে খুন করার রাস্তা। বাংলাদেশের মানুষ কাউকে ওই পথে চলতে দেবে না।’

জুলাই জাদুঘর থেকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরিয়ে ফেলা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সচেতন নাগরিকদের প্রত্যেকেরই এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতির দুঃখের ঘটনাগুলো এখানে তুলে ধরা হয়েছিল। বিশেষ একটি দেশকে খুশি করার জন্য এর অনেক উপাদান এখান থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৪৬ বা ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে অনেক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনে যারা পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তাদের তুলে ধরা হয়েছিল। এর অনেক কিছু এখন গায়েব করে ফেলা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট দলের লোকদের স্মৃতি রেখে বাকিগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনকে ২০০ দিন রিমান্ডে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার নাম নিয়ে আক্ষেপ করেছিলেন। তার একটি স্মৃতিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে। সীমান্তে ফেলানীকে অমানবিকভাবে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেই স্মৃতিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এটি ভালো লক্ষণ নয়। ক্ষমতায় এসেই ক্ষমতার বলে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, সবাই ইতিহাস বিকৃতির নায়ক ছিল। এই অপকর্ম থেকে কেউ বের হতে পারেনি।’

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের শক্তি নিয়েও কথা বলেন জামায়াতের আমির। 

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি। বিশ্বের কাছে দেশের মানুষের সম্মানের একটি মানদণ্ড হচ্ছে পাসপোর্টের শক্তি। বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিষয় : জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ডা. শফিকুর রহমান

বুড়িগঙ্গা

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


২৪-এর আন্দোলন ছিল চূড়ান্ত যুদ্ধের মহড়া: জামায়াত আমির

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনকে চূড়ান্ত যুদ্ধ মনে করার সুযোগ নেই। এটি ছিল চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি বা মহড়া। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে জেগে ওঠা তরুণরা ফ্যাসিবাদের মোকাবিলায় এখনো সজাগ রয়েছেন। যে কোনো সময় তারা আবার জেগে উঠবেন। 

রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে রোববার সীরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আ ন ম রফিকুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তৃতা করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আ ক ম আব্দুর কাদেরের উপস্থাপিত প্রবন্ধের ওপর সেমিনারে আরও বক্তৃতা করেন সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপিসহ নেতারা।

 ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘২৪-এ যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সব কিছু প্রত্যক্ষ করছেন। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়। তাদের কসরত করতে হয়, মহড়া দিতে হয়। এরা যেন ২৪কে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে। এটা ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল।’

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের পর আশা করেছিলাম দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ পরিষ্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি; বরং আবর্জনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।

জামায়াত আমির বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ একটা সংক্রামক ব্যাধি। এটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাস যার ওপরই ভর করবে, সে-ই ফ্যাসিবাদী হবে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার যে রাস্তায় হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও সেই রাস্তা ধরেই হাঁটছে। এই রাস্তা পরিবর্তন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই রাস্তা ফ্যাসিবাদীদের রাস্তা, আয়নাঘরের রাস্তা, অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে খুন করার রাস্তা। বাংলাদেশের মানুষ কাউকে ওই পথে চলতে দেবে না।’

জুলাই জাদুঘর থেকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরিয়ে ফেলা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সচেতন নাগরিকদের প্রত্যেকেরই এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতির দুঃখের ঘটনাগুলো এখানে তুলে ধরা হয়েছিল। বিশেষ একটি দেশকে খুশি করার জন্য এর অনেক উপাদান এখান থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৪৬ বা ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে অনেক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনে যারা পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তাদের তুলে ধরা হয়েছিল। এর অনেক কিছু এখন গায়েব করে ফেলা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট দলের লোকদের স্মৃতি রেখে বাকিগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনকে ২০০ দিন রিমান্ডে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার নাম নিয়ে আক্ষেপ করেছিলেন। তার একটি স্মৃতিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে। সীমান্তে ফেলানীকে অমানবিকভাবে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেই স্মৃতিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এটি ভালো লক্ষণ নয়। ক্ষমতায় এসেই ক্ষমতার বলে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, সবাই ইতিহাস বিকৃতির নায়ক ছিল। এই অপকর্ম থেকে কেউ বের হতে পারেনি।’

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের শক্তি নিয়েও কথা বলেন জামায়াতের আমির। 

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি। বিশ্বের কাছে দেশের মানুষের সম্মানের একটি মানদণ্ড হচ্ছে পাসপোর্টের শক্তি। বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
২৪-এর আন্দোলন ছিল চূড়ান্ত যুদ্ধের মহড়া: জামায়াত আমির
0:00 0:00
1.0x