সুশীলনের ডেপুটি ডিরেক্টর মোস্তফার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি, কামরুল ইসলাম, টেকনাফ, কক্সবাজার
এনজিও সংস্থা সুশীলনের Child Sponsorship Program (CSP)-এর ডেপুটি ডিরেক্টর মোস্তফা বকুলুজ্জামানের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীর সঙ্গে অনৈতিক ঘনিষ্ঠতা, পছন্দের ব্যক্তিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং স্বার্থের সংঘাতসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মীর দাবি, সুশীলনে কর্মরত ‘আ’ আদ্যক্ষরের এক নারী Field Facilitator-এর সঙ্গে মোস্তফা বকুলুজ্জামানের কর্মক্ষেত্রের সীমারেখা অতিক্রম করে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব ও কাজের সুযোগকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ঢাকার গেস্ট হাউস এবং কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে তারা একসঙ্গে অবস্থান করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, মোস্তফা বকুলুজ্জামান ঢাকায় কর্মরত অবস্থায় ওই নারী সহকর্মীকে বিভিন্ন সময়ে ঢাকায় ডেকে গেস্ট হাউসে থাকার ব্যবস্থা করতেন। একইভাবে কাজের প্রয়োজনে কক্সবাজারে আসার সময় তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ এবং বিভিন্ন হোটেলে অবস্থানের অভিযোগও রয়েছে।
পদ দেওয়ার প্রচেষ্টার অভিযোগ
অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ওই নারী Field Facilitator-কে Project Coordinator পদে নিয়োগের জন্য ডেপুটি ডিরেক্টর মোস্তফা বকুলুজ্জামানের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে কয়েকজন Project Coordinator দায়িত্ব পালন করলেও তারা দীর্ঘমেয়াদে ওই পদে স্থায়ীভাবে থাকতে পারেননি। এরই মধ্যে বর্তমান ওই নারী Field Facilitator-কে Project Coordinator হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে প্রকল্পের একাধিক কর্মীর আপত্তি রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি। আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তাকে পদটিতে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করা হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, মেধাভিত্তিক নির্বাচন এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যক্তিগত সম্পর্কের সঙ্গে পদ দেওয়ার আশ্বাসের অভিযোগ
অভিযোগের মধ্যে আরও বলা হয়েছে, ওই নারী সহকর্মী নিজেই এমন বক্তব্য দিয়েছেন যে, ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ সম্পর্কের সময় মোস্তফা বকুলুজ্জামান তাকে ভবিষ্যতে Project Coordinator পদে দায়িত্ব দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে এ বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যদি ব্যক্তিগত সম্পর্কের সঙ্গে চাকরির পদ, পদোন্নতি বা দায়িত্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতি যুক্ত করেন, তাহলে বিষয়টি ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থের সংঘাত এবং কর্মক্ষেত্রে অসম সুবিধা প্রদানের অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ফলে অভিযোগটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনুযায়ী তদন্তের দাবি রাখে।
কর্মীদের মধ্যে আলোচনা, প্রকাশ্যে কথা বলতে অনীহা
অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়গুলো সুশীলনের ঢাকা অফিস এবং উখিয়া-কক্সবাজার অফিসের কর্মীদের মধ্যে আগে থেকেই আলোচিত। তবে চাকরি হারানোর আশঙ্কা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রভাব এবং কর্মক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে আগ্রহী নন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কর্মীরা যদি চাকরি হারানোর ভয় বা প্রশাসনিক প্রতিকূলতার আশঙ্কায় কোনো অনিয়মের বিষয়ে কথা বলতে না পারেন, তাহলে তা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ও কর্মপরিবেশের জন্য উদ্বেগের বিষয় হতে পারে।
নীতিমালা অনুযায়ী তদন্তের দাবি
একটি উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে সুশীলনের কর্মীদের পেশাগত আচরণ, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অধীনস্থ কর্মীর মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগ এবং সেই সম্পর্কের সঙ্গে পদ বা দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ যুক্ত হলে বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের Code of Conduct, Conflict of Interest, Safeguarding ও সংশ্লিষ্ট মানবসম্পদ নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নিরপেক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
মোস্তফা বকুলুজ্জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুশীলনের ডেপুটি ডিরেক্টর মোস্তফা বকুলুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।