উত্তরা ইউসিবি চত্বরের ফ্লাইওভারের মুখে ঢাকা কলেজের বিজয়-৭১ বাসের সঙ্গে আইইউবিএটির একটি বাসের সামান্য ধাক্কাকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে দুই বাসের মধ্যে সামান্য ঘষা লাগে। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী আইইউবিএটির বাসের একটি জানালার কাচ ভেঙে ফেলেন। ওই জানালার পাশে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
আইইউবিএটির শিক্ষার্থীদের দাবি, দুই বাসের মধ্যে সামান্য ঘষা লাগার পর বিষয়টি বড় কোনো ঘটনা ছিল না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের বাসের জানালার কাচ ভেঙে দেন। এতে বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
তাদের অভিযোগ, জানালার পাশে নারী শিক্ষার্থীরা বসে ছিলেন। ভাঙা কাচ কারও চোখ, মুখ বা শরীরে লাগলে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। পরে কয়েকজনকে লাঠি ও রড হাতে এগিয়ে আসতেও দেখা যায় বলে তারা দাবি করেন। তাদের মতে, সামান্য একটি বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হলেও সেটি সংঘাতের দিকে নেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত।
অন্যদিকে, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবি, দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে উত্তরা ইউসিবি চত্বরের ফ্লাইওভারের মুখে ঢাকা কলেজের বিজয়-৭১ বাস ও আইইউবিএটির একটি বাস একই রাস্তায় অবস্থান করছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই বাসের কোনোটিই ফ্লাইওভারে ওঠার কথা ছিল না। আইইউবিএটির বাসটি এমনভাবে অবস্থান করছিল যে পেছনের অন্যান্য যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, তাদের বাস থেকে সাইড দিতে বলা হলে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে সমাধানের পরিবর্তে আইইউবিএটির বাসের হেলপার ও বাসে থাকা কয়েকজনের আচরণ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আইইউবিএটির বাসে থাকা এক নারী শিক্ষার্থী অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।
তাদের দাবি, এ ঘটনায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে আইইউবিএটির বাসের একটি জানালার কাচ ভাঙার ঘটনা ঘটে। তবে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরাও স্বীকার করেছেন, বাসের কাচ ভাঙার ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
তাদের বক্তব্য, একইসঙ্গে ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে হলো, বাসটি কেন রাস্তা আটকে অবস্থান করছিল এবং পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে দুই বাসের মধ্যে সংঘর্ষ বা ঘষা লাগার পরিস্থিতি তৈরি হলো—এসব বিষয়ও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
দুই পক্ষের বক্তব্যেই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরির বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে সামান্য যানবাহন-সংক্রান্ত ঘটনা যেন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ বা দুর্ঘটনার কারণ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।
এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থী, বাসচালক ও সংশ্লিষ্টদের সংযত আচরণ এবং আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান।