বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপ-পরিষদের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র-২০২৫’ শীর্ষক সমীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ২৭ জুলাই ২০২৬ (সোমবার) সকাল ১১:০০ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিটি সুইডেন সরকারের (Sweden Sverige) সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনের মূল বিষয়বস্তু ও তথ্যসমূহ:
১. সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ:
সংবাদ সম্মেলনে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে নারী ও কন্যা শিশুদের ওপর ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি ও অন্যান্য অপরাধের সার্বিক চিত্র ও পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।
২. সহিংসতার ধরন ও প্রবণতা:
উপস্থাপিত প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, প্রচলিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি প্রযুক্তির মাধ্যমে (সাইবার বুলিং, সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্ত্যক্তকরণ ও ব্ল্যাকমেইলিং) নারী ও কিশোরীদের নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
৩. আইনি বাধা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি:
বক্তারা উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে ভিকটিম সঠিক সময়ে বিচার পান না এবং আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রধান সুপারিশসমূহ:
আইনের কঠোর প্রয়োগ: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের নিরপেক্ষ ও দ্রুত প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
দ্রুত বিচার ও সুরক্ষা:স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করা এবং ভিকটিম ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা জোরদার করা।
সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ: ডিজিটাল মাধ্যমে নারী ও কিশোরীদের হয়রানি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ সেল গঠন করা।
কাউন্সিলিং ও সহায়তা: তৃণমূল পর্যায়ে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, জরুরি হেল্পলাইন এবং মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সিলিং বৃদ্ধি করা।
সামাজিক সচেতনতা: নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের শীর্ষ নেত্রীবৃন্দ, গবেষক ও প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।