‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সম্প্রীতি অলিম্পিয়াড ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলার পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯৮ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ১১টায় তরুণদের সামাজিক উদ্যোগ প্রকল্পের আওতায় ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপ (ওয়াইপিএজি) এর আয়োজনে ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়।
ওয়াইপিএজির সদস্য সানজিদা স্মৃতির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের জয়েন্ট কো-অর্ডিনেটর ইসরাত আর্শিয়ানা মৌ। পরে সংগঠনের কার্যক্রম ও পরিচিতি তুলে ধরেন ওয়াইপিএজির সদস্য দিয়াড়ী সরকার বৃন্দা।
সম্প্রীতি অলিম্পিয়াডে উচাখিলা উচ্চ বিদ্যালয়, বড়হিত উচ্চ বিদ্যালয়, চরনিখলা উচ্চ বিদ্যালয়, ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঈশ্বরগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯৮ জন শিক্ষার্থী বহু নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন।
অলিম্পিয়াডে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী তিন শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট এবং আরও সাতজনকে মেডেল প্রদান করা হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সনদপত্র দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ। তাই তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ভিন্নমতের প্রতি সম্মানবোধ গড়ে তোলা জরুরি। সংঘাত ও বিভাজনের পরিবর্তে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শান্তির চর্চার মাধ্যমে একটি সুন্দর ও সহনশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
পিএফজি কো-অর্ডিনেটর সাইফুল ইসলাম তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মনি। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতেই। তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির চর্চা বাড়াতে হবে। মতের ভিন্নতা থাকলেও পরস্পরের প্রতি সম্মান দেখিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পিএফজি অ্যাম্বাসেডর নীলকণ্ঠ আইচ মজুমদার, হাবিবুর রহমান হাবিব, পিএফজি অ্যাম্বাসেডর ও ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মহিলা কাউন্সিলর মমতাজ বেগম, ওয়াইপিএজির সদস্য ইশতিয়াক আহমেদ ইসহাক, দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর আখতারুজ্জামানসহ আয়োজক সংগঠনের সদস্যরা।
আয়োজকেরা জানান, তরুণদের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও তরুণদের সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।