ঢাকা    রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

দুর্গাপুরে বইয়ের নেশায় আলোর ফেরিওয়ালা নাজমুল হুদা সারোয়ার


আসিফ খান
আসিফ খান
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

দুর্গাপুরে বইয়ের নেশায় আলোর ফেরিওয়ালা নাজমুল হুদা সারোয়ার

বই যার নেশা, জ্ঞান ও মননের চর্চাই যার জীবনের অন্যতম সাধনা—তিনি নাজমুল হুদা সারোয়ার। ভোগ-বিলাসের মোহ নয়, বরং মানুষের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্নে যিনি ছুটে চলেছেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। সেলুন, হোটেল, ফার্মেসি, অটোরিকশা কিংবা নৌকা—যেখানেই মানুষের অবসর, সেখানেই বই পৌঁছে দেওয়ার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগের নাম ‘পথ পাঠাগার’।

২০২০ সালের ২ জুন ছোট পরিসরে পথ পাঠাগারের যাত্রা শুরু করেন কবি ও সাহিত্যকর্মী নাজমুল হুদা সারোয়ার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উদ্যোগটি ছড়িয়ে পড়ে ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকায়। বর্তমানে দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন স্থানে পথ পাঠাগারের একাধিক শাখা রয়েছে। কোথাও সেলুনে, কোথাও হোটেলে, আবার কোথাও ফার্মেসি, অটোরিকশা কিংবা নৌকায় গড়ে উঠেছে ছোট ছোট পাঠাগার।

শনিবার বিকেলে দুর্গাপুর পৌরসভার তেরীবাজার এলাকায় একটি সেলুন শাখায় নতুন বই সংরক্ষণের সময় উদ্যোক্তা নাজমুল হুদা সারোয়ারের সঙ্গে কথা হয়।

তিনি মনে করেন, বই শুধু জ্ঞান দেয় না; মানুষের চিন্তা, বিবেক ও মননকে শাণিত করে। সেই বিশ্বাস থেকেই নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন জনবহুল স্থান, গ্রাম, হাট-বাজার, দোকান, সেলুন ও ফার্মেসিতে বই, সেলফ ও ব্যানার দিয়ে গড়ে তুলছেন পাঠের ছোট ছোট পরিসর। সেখানে শ্রেণি-পেশার কোনো বিভাজন নেই। যে কেউ দাঁড়িয়ে, বসে কিংবা অবসরের কয়েকটি মুহূর্তে বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

দুর্গাপুর পৌর শহরের বাগিচাপাড়ায় জন্ম নেওয়া নাজমুল হুদা সারোয়ারের বাবা মরহুম হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও মা মরহুম হেলেনা বেগম। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জনপদ সুসং দুর্গাপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আবহে বেড়ে ওঠা নাজমুল হুদা ছাত্রজীবন থেকেই শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি সংবাদকর্মী এবং দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

দুই বাংলার কবিদের নিয়ে কবিতা উৎসব আয়োজন, দুর্গাপুর সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং গুণীজনদের সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। তবে তাঁর সবচেয়ে ব্যতিক্রমী পরিচয় তৈরি হয়েছে পথ পাঠাগারকে ঘিরে।

উদ্যোক্তার তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পথ পাঠাগারের প্রায় ২৫টি শাখা স্থাপন করা হয়েছে। দুর্গাপুর পৌর শহরের এমকে সিএম মোড়ের সুমন সাহার টি-স্টলে রয়েছে একটি শাখা। চণ্ডিগড় ইউনিয়নের সাতাশি বাজারে আজিজুল ইসলামের ফার্মেসিতে রয়েছে ৩২টি বইয়ের শাখা। উপজেলা প্রেসক্লাব মোড়ের খোকন মিয়ার হোটেলে রয়েছে ২৫টির বেশি বই। নাজিরপুর মোড়ের তোতা মিয়ার অলম্যান সেলুনে রয়েছে প্রায় ৩০টি বই।

এ ছাড়া রিকশাচালক তারা মিয়ার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাতেও রয়েছে ভ্রাম্যমাণ পথ পাঠাগার। কুল্লাগড়া ইউনিয়নের ভেন্নাকান্দা চৌরাস্তা গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ফার্মেসিতে রয়েছে ২৫টি বইয়ের শাখা। বহেরাতলী গ্রামের মোবারক হোসেন মিলনের সেলুনে রয়েছে প্রায় ৩৫টি বই।

দুবাউড়া উপজেলার চারুয়াপাড়া গ্রামের শামসুল হক মৃধার ফার্মেসিতে রয়েছে প্রায় ৫০টি বইয়ের শাখা। ধোবাউড়ার তিলক সরকারের গার্মেন্টসে রয়েছে ৪০টি বই। ধরমপাশায় ধনা মিয়ার নৌকায় রয়েছে ভাসমান পথ পাঠাগার, যেখানে বই রয়েছে প্রায় ২০টি। পাঁচগাঁওয়ের বকুল মাস্টারের ফার্মেসিতেও রয়েছে ৩০টি বই।

পথ পাঠাগারের কার্যক্রম শুধু বই পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জাতীয় দিবস পালন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা ও কুইজসহ বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছে সংগঠনটি।

শুরু থেকেই একদল উদ্যমী তরুণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন নাজমুল হুদা সারোয়ার। পথ পাঠাগার পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে রয়েছেন রাজেশ গৌড়, তন্ময় সাহা, জিয়াউল হক শুভ, শফিকুল আলম সজীব, নির্মল রবিদাস, এ কে এম মইনুল ইসলাম, লতিফা আক্তারসহ অনেকে। প্রতিদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বইপ্রেমীরা এসব পাঠাগারে এসে বই পড়ছেন।

প্রবীণ লেখক ও আদিবাসী গবেষক মতিলাল হাজং বলেন, “মানুষকে আলোকিত করার যে স্বপ্ন নিয়ে পথ পাঠাগার এগিয়ে যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়। এই স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখতে সমাজের উদার ও মননশীল মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে।”

কবি লোকান্ত শাওন বলেন, “একটি বই কখনো শুধু কাগজের কয়েকটি পৃষ্ঠা নয়; একটি বই একটি মানুষের চিন্তার দরজা খুলে দিতে পারে। নাজমুল হুদা সারোয়ারের পথ পাঠাগার সেই দরজা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের কাছে ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ সময়ের দাবি।”

দুর্গাপুর সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক কলি হাসান বলেন, “পথ পাঠাগার নিছক একটি পাঠাগার নয়, এটি মানুষের মধ্যে জ্ঞান, মনন ও মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার একটি সামাজিক আন্দোলন। সেলুন, হোটেল, ফার্মেসি, অটোরিকশা কিংবা নৌকায় বই পৌঁছে দিয়ে নাজমুল হুদা সারোয়ার প্রমাণ করেছেন, পাঠাগার মানেই নির্দিষ্ট চার দেয়াল নয়।”

পথ পাঠাগারের উদ্যোক্তা ও স্বপ্নদ্রষ্টা কবি নাজমুল হুদা সারোয়ার বলেন, “শুরুতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে’—এই আহ্বানকে সামনে রেখেই পথ চলেছিলাম। এখন আর একলা চলতে হয় না। পাঠকদের উপস্থিতিই বলে দেয়, পথ পাঠাগার আজ মানুষের ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। সবার সহযোগিতায় এটি আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে। তরুণ সমাজ বইয়ের সঙ্গে থাকলে তারা নানা অপকর্ম থেকে দূরে থাকবে।”

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, “পথ পাঠাগারের চলমান কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।”

পাহাড়, নদী আর প্রকৃতির সৌন্দর্যে ঘেরা সুসং দুর্গাপুরে নাজমুল হুদা সারোয়ারের এই উদ্যোগ যেন একের পর এক প্রদীপ জ্বালানোর গল্প। একটি বই, একটি তাক, একটি ছোট্ট পাঠের জায়গা—সেখান থেকেই বদলে যেতে পারে একজন মানুষের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি।

নাজমুল হুদা সারোয়ারের স্বপ্ন, পথ পাঠাগার শুধু বই পড়ার জায়গা হয়ে থাকবে না; এটি হয়ে উঠবে একটি তথ্যনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ নির্মাণের আন্দোলন। আর সেই আন্দোলনের হাত ধরে আগামী প্রজন্ম আবারও ফিরে আসবে বইয়ের কাছে—এমন প্রত্যাশাই তাঁর।

বুড়িগঙ্গা

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দুর্গাপুরে বইয়ের নেশায় আলোর ফেরিওয়ালা নাজমুল হুদা সারোয়ার

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বই যার নেশা, জ্ঞান ও মননের চর্চাই যার জীবনের অন্যতম সাধনা—তিনি নাজমুল হুদা সারোয়ার। ভোগ-বিলাসের মোহ নয়, বরং মানুষের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্নে যিনি ছুটে চলেছেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। সেলুন, হোটেল, ফার্মেসি, অটোরিকশা কিংবা নৌকা—যেখানেই মানুষের অবসর, সেখানেই বই পৌঁছে দেওয়ার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগের নাম ‘পথ পাঠাগার’।

২০২০ সালের ২ জুন ছোট পরিসরে পথ পাঠাগারের যাত্রা শুরু করেন কবি ও সাহিত্যকর্মী নাজমুল হুদা সারোয়ার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উদ্যোগটি ছড়িয়ে পড়ে ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকায়। বর্তমানে দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন স্থানে পথ পাঠাগারের একাধিক শাখা রয়েছে। কোথাও সেলুনে, কোথাও হোটেলে, আবার কোথাও ফার্মেসি, অটোরিকশা কিংবা নৌকায় গড়ে উঠেছে ছোট ছোট পাঠাগার।

শনিবার বিকেলে দুর্গাপুর পৌরসভার তেরীবাজার এলাকায় একটি সেলুন শাখায় নতুন বই সংরক্ষণের সময় উদ্যোক্তা নাজমুল হুদা সারোয়ারের সঙ্গে কথা হয়।

তিনি মনে করেন, বই শুধু জ্ঞান দেয় না; মানুষের চিন্তা, বিবেক ও মননকে শাণিত করে। সেই বিশ্বাস থেকেই নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন জনবহুল স্থান, গ্রাম, হাট-বাজার, দোকান, সেলুন ও ফার্মেসিতে বই, সেলফ ও ব্যানার দিয়ে গড়ে তুলছেন পাঠের ছোট ছোট পরিসর। সেখানে শ্রেণি-পেশার কোনো বিভাজন নেই। যে কেউ দাঁড়িয়ে, বসে কিংবা অবসরের কয়েকটি মুহূর্তে বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

দুর্গাপুর পৌর শহরের বাগিচাপাড়ায় জন্ম নেওয়া নাজমুল হুদা সারোয়ারের বাবা মরহুম হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও মা মরহুম হেলেনা বেগম। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জনপদ সুসং দুর্গাপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আবহে বেড়ে ওঠা নাজমুল হুদা ছাত্রজীবন থেকেই শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি সংবাদকর্মী এবং দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

দুই বাংলার কবিদের নিয়ে কবিতা উৎসব আয়োজন, দুর্গাপুর সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং গুণীজনদের সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। তবে তাঁর সবচেয়ে ব্যতিক্রমী পরিচয় তৈরি হয়েছে পথ পাঠাগারকে ঘিরে।

উদ্যোক্তার তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পথ পাঠাগারের প্রায় ২৫টি শাখা স্থাপন করা হয়েছে। দুর্গাপুর পৌর শহরের এমকে সিএম মোড়ের সুমন সাহার টি-স্টলে রয়েছে একটি শাখা। চণ্ডিগড় ইউনিয়নের সাতাশি বাজারে আজিজুল ইসলামের ফার্মেসিতে রয়েছে ৩২টি বইয়ের শাখা। উপজেলা প্রেসক্লাব মোড়ের খোকন মিয়ার হোটেলে রয়েছে ২৫টির বেশি বই। নাজিরপুর মোড়ের তোতা মিয়ার অলম্যান সেলুনে রয়েছে প্রায় ৩০টি বই।

এ ছাড়া রিকশাচালক তারা মিয়ার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাতেও রয়েছে ভ্রাম্যমাণ পথ পাঠাগার। কুল্লাগড়া ইউনিয়নের ভেন্নাকান্দা চৌরাস্তা গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ফার্মেসিতে রয়েছে ২৫টি বইয়ের শাখা। বহেরাতলী গ্রামের মোবারক হোসেন মিলনের সেলুনে রয়েছে প্রায় ৩৫টি বই।

দুবাউড়া উপজেলার চারুয়াপাড়া গ্রামের শামসুল হক মৃধার ফার্মেসিতে রয়েছে প্রায় ৫০টি বইয়ের শাখা। ধোবাউড়ার তিলক সরকারের গার্মেন্টসে রয়েছে ৪০টি বই। ধরমপাশায় ধনা মিয়ার নৌকায় রয়েছে ভাসমান পথ পাঠাগার, যেখানে বই রয়েছে প্রায় ২০টি। পাঁচগাঁওয়ের বকুল মাস্টারের ফার্মেসিতেও রয়েছে ৩০টি বই।

পথ পাঠাগারের কার্যক্রম শুধু বই পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জাতীয় দিবস পালন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা ও কুইজসহ বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছে সংগঠনটি।

শুরু থেকেই একদল উদ্যমী তরুণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন নাজমুল হুদা সারোয়ার। পথ পাঠাগার পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে রয়েছেন রাজেশ গৌড়, তন্ময় সাহা, জিয়াউল হক শুভ, শফিকুল আলম সজীব, নির্মল রবিদাস, এ কে এম মইনুল ইসলাম, লতিফা আক্তারসহ অনেকে। প্রতিদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বইপ্রেমীরা এসব পাঠাগারে এসে বই পড়ছেন।

প্রবীণ লেখক ও আদিবাসী গবেষক মতিলাল হাজং বলেন, “মানুষকে আলোকিত করার যে স্বপ্ন নিয়ে পথ পাঠাগার এগিয়ে যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়। এই স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখতে সমাজের উদার ও মননশীল মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে।”

কবি লোকান্ত শাওন বলেন, “একটি বই কখনো শুধু কাগজের কয়েকটি পৃষ্ঠা নয়; একটি বই একটি মানুষের চিন্তার দরজা খুলে দিতে পারে। নাজমুল হুদা সারোয়ারের পথ পাঠাগার সেই দরজা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের কাছে ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ সময়ের দাবি।”

দুর্গাপুর সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক কলি হাসান বলেন, “পথ পাঠাগার নিছক একটি পাঠাগার নয়, এটি মানুষের মধ্যে জ্ঞান, মনন ও মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার একটি সামাজিক আন্দোলন। সেলুন, হোটেল, ফার্মেসি, অটোরিকশা কিংবা নৌকায় বই পৌঁছে দিয়ে নাজমুল হুদা সারোয়ার প্রমাণ করেছেন, পাঠাগার মানেই নির্দিষ্ট চার দেয়াল নয়।”

পথ পাঠাগারের উদ্যোক্তা ও স্বপ্নদ্রষ্টা কবি নাজমুল হুদা সারোয়ার বলেন, “শুরুতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে’—এই আহ্বানকে সামনে রেখেই পথ চলেছিলাম। এখন আর একলা চলতে হয় না। পাঠকদের উপস্থিতিই বলে দেয়, পথ পাঠাগার আজ মানুষের ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। সবার সহযোগিতায় এটি আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে। তরুণ সমাজ বইয়ের সঙ্গে থাকলে তারা নানা অপকর্ম থেকে দূরে থাকবে।”

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, “পথ পাঠাগারের চলমান কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।”

পাহাড়, নদী আর প্রকৃতির সৌন্দর্যে ঘেরা সুসং দুর্গাপুরে নাজমুল হুদা সারোয়ারের এই উদ্যোগ যেন একের পর এক প্রদীপ জ্বালানোর গল্প। একটি বই, একটি তাক, একটি ছোট্ট পাঠের জায়গা—সেখান থেকেই বদলে যেতে পারে একজন মানুষের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি।

নাজমুল হুদা সারোয়ারের স্বপ্ন, পথ পাঠাগার শুধু বই পড়ার জায়গা হয়ে থাকবে না; এটি হয়ে উঠবে একটি তথ্যনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ নির্মাণের আন্দোলন। আর সেই আন্দোলনের হাত ধরে আগামী প্রজন্ম আবারও ফিরে আসবে বইয়ের কাছে—এমন প্রত্যাশাই তাঁর।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
দুর্গাপুরে বইয়ের নেশায় আলোর ফেরিওয়ালা নাজমুল হুদা সারোয়ার
0:00 0:00
1.0x