ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

কাজে পুনর্বহালের দাবিতে হিরাঝিল শ্রমিকদের শ্রম ভবন ঘেরাও কর্মসূচি



কাজে পুনর্বহালের দাবিতে হিরাঝিল শ্রমিকদের শ্রম ভবন ঘেরাও কর্মসূচি

হিরাঝিল হোটেলের কর্মচ্যুত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, সরকার নির্ধারিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান এবং মালিকের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি কার্যকরের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শ্রমিকরা। এছাড়া কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৫ অক্টোবর সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে জমায়েত হয়ে উপমহাপরিদর্শকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া ও শ্রম ভবন ঘেরাও এবং ৮ অক্টোবর  জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংহতি সমাবেশ করার ঘোষণা দেন তারা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হিরাঝিল শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। 

এ সময় শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে তাদের হোটেল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় শতাধিক পুলিশ সদস্য ও মতিঝিল থানার কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও তাদের রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

শ্রমিকদের দাবি, গত ১২ এপ্রিল মতিঝিল থানার মাধ্যমে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের একটি চুক্তি হয়। সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন অনুযায়ী ওই চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। তবে চুক্তি বাস্তবায়নের কথা বলার পরই তাদের হোটেল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শ্রমিকরা বলেন, হিরাঝিল হোটেলে শতাধিক শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা কাজ করানো হলেও অতিরিক্ত কাজের মজুরি দেওয়া হয়নি। অনেক শ্রমিককে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

শ্রমিকরা আরও বলেন, ২০২৫ সালের ৫ মে হোটেল, রেস্তোরাঁ, মিষ্টি ও বেকারি খাতের শ্রমিকদের জন্য সরকার নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করে। গেজেট অনুযায়ী ‘বি’ শ্রেণির প্রতিষ্ঠানে একজন ওয়েটারের মজুরি ১৬ হাজার ৩৫০ টাকা এবং গ্লাস বয়ের মজুরি ১৪ হাজার ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু হিরাঝিলের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রমিকরা চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল, ৩১ আগস্ট ও ১৩ সেপ্টেম্বর স্মারকলিপি দেন। পাশাপাশি ১৯ জানুয়ারি হিরাঝিল হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেল পরিদর্শন করে শ্রম পরিদর্শকদের একটি দল। ওই পরিদর্শনে বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন কার্যকর না থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তারা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, হোটেল থেকে বের করে দেওয়ার পর তারা গত ১৩ দিন ধরে ঢাকার বিভিন্ন ফুটপাতে অবস্থান করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পুলিশ দিয়ে হয়রানি, মিথ্যা জিডি এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেন তারা। হিরাঝিল হোটেলের মালিকের পক্ষের লোকজন তাদের হুমকি দিচ্ছে বলেও দাবি করেন শ্রমিকরা।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকরা কর্মচ্যুত সব শ্রমিককে দ্রুত কাজে পুনর্বহাল, গেজেট অনুযায়ী মালিকের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়ন, শ্রম অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত এবং শ্রমিকদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

বুড়িগঙ্গা

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


কাজে পুনর্বহালের দাবিতে হিরাঝিল শ্রমিকদের শ্রম ভবন ঘেরাও কর্মসূচি

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

হিরাঝিল হোটেলের কর্মচ্যুত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, সরকার নির্ধারিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান এবং মালিকের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি কার্যকরের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শ্রমিকরা। এছাড়া কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৫ অক্টোবর সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে জমায়েত হয়ে উপমহাপরিদর্শকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া ও শ্রম ভবন ঘেরাও এবং ৮ অক্টোবর  জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংহতি সমাবেশ করার ঘোষণা দেন তারা।


শনিবার (৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হিরাঝিল শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। 


এ সময় শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে তাদের হোটেল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় শতাধিক পুলিশ সদস্য ও মতিঝিল থানার কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও তাদের রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।


শ্রমিকদের দাবি, গত ১২ এপ্রিল মতিঝিল থানার মাধ্যমে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের একটি চুক্তি হয়। সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন অনুযায়ী ওই চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। তবে চুক্তি বাস্তবায়নের কথা বলার পরই তাদের হোটেল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকরা।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শ্রমিকরা বলেন, হিরাঝিল হোটেলে শতাধিক শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা কাজ করানো হলেও অতিরিক্ত কাজের মজুরি দেওয়া হয়নি। অনেক শ্রমিককে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।


শ্রমিকরা আরও বলেন, ২০২৫ সালের ৫ মে হোটেল, রেস্তোরাঁ, মিষ্টি ও বেকারি খাতের শ্রমিকদের জন্য সরকার নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করে। গেজেট অনুযায়ী ‘বি’ শ্রেণির প্রতিষ্ঠানে একজন ওয়েটারের মজুরি ১৬ হাজার ৩৫০ টাকা এবং গ্লাস বয়ের মজুরি ১৪ হাজার ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু হিরাঝিলের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।


লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রমিকরা চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল, ৩১ আগস্ট ও ১৩ সেপ্টেম্বর স্মারকলিপি দেন। পাশাপাশি ১৯ জানুয়ারি হিরাঝিল হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেল পরিদর্শন করে শ্রম পরিদর্শকদের একটি দল। ওই পরিদর্শনে বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন কার্যকর না থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তারা।


শ্রমিকদের অভিযোগ, হোটেল থেকে বের করে দেওয়ার পর তারা গত ১৩ দিন ধরে ঢাকার বিভিন্ন ফুটপাতে অবস্থান করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পুলিশ দিয়ে হয়রানি, মিথ্যা জিডি এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেন তারা। হিরাঝিল হোটেলের মালিকের পক্ষের লোকজন তাদের হুমকি দিচ্ছে বলেও দাবি করেন শ্রমিকরা।


সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকরা কর্মচ্যুত সব শ্রমিককে দ্রুত কাজে পুনর্বহাল, গেজেট অনুযায়ী মালিকের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়ন, শ্রম অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত এবং শ্রমিকদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।



বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
কাজে পুনর্বহালের দাবিতে হিরাঝিল শ্রমিকদের শ্রম ভবন ঘেরাও কর্মসূচি
0:00 0:00
1.0x