ঢাকা    সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে নতুন প্রশাসন



ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে নতুন প্রশাসন

রাজধানীর ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ইইউবি)-এর সাবেক ট্রাস্টি বোর্ডের বিরুদ্ধে বিপুল অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও সম্পদ তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং শ্যামলী ও মিরপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল টাকার সম্পদ তছরুপের প্রমাণ পেয়েছে রাষ্ট্রপতির নিয়োগকৃত নতুন ‘বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস’। এসব আর্থিক অপরাধের স্বাধীন তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং সিআইডিকে আহ্বান জানিয়েছে নতুন প্রশাসন।

রোববার (১৯ জুলাই) বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস-এর কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ তানভীর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাবেক ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যদের পারস্পরিক অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও দুর্নীতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি গত ৫ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রশাসক নিয়োগ দেন। গত ৭ জুলাই নতুন বোর্ড কাজ শুরু করে। তবে পূর্ববর্তী বোর্ডের নিয়োগকৃত জনবলের অসহযোগিতার কারণে প্রশাসনকে কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে।

 

বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস জানায়, জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টির কোনো ট্রাস্টি বোর্ডের নিবন্ধন নেই। এমনকি পূর্বের বোর্ড গঠনের পেছনে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। সাবেক ট্রাস্টি বোর্ডের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী সম্পদ তছরুপের গুরুতর প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শ্যামলীর রূপায়ন শেলফোর্ড ভবনে প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের ৯ হাজার স্কয়ার ফুটের একটি ফ্লোর এবং মিরপুর-২ এর শাহ আলীবাগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত একটি ১০ তলা ভবন উল্লেখযোগ্য।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক হিসাবে বিপুল গরমিল ও সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত করা হয়েছে। ক্রয়, প্রকল্প ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি এবং কর ও ভ্যাট ফাঁকিরও প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ বা আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে বলে জানিয়েছে নতুন প্রশাসন।

 

আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি একাডেমিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও চরম স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদনের চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি, সার্টিফিকেট বাণিজ্য এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মাত্র একটি সমাবর্তন আয়োজন করা হয়েছে। ইউজিসির শর্ত অনুযায়ী ন্যূনতম জমি না থাকা সত্ত্বেও স্থায়ী ক্যাম্পাস ও ভবনের অনুমোদনহীন কার্যক্রম চালানোর অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া নিয়োগ, পদোন্নতি ও দায়িত্ব বণ্টনে আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে চরম স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অযৌক্তিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সাবেক প্রশাসন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী গ্রুপ ব্যবহার করে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হয়রানি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়েছে।

 

সার্বিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা কামনা করেছে বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস। একটি নতুন ও গ্রহণযোগ্য ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে বিশ্বাস তাদের।

বুড়িগঙ্গা

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬


ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে নতুন প্রশাসন

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাজধানীর ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ইইউবি)-এর সাবেক ট্রাস্টি বোর্ডের বিরুদ্ধে বিপুল অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও সম্পদ তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং শ্যামলী ও মিরপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল টাকার সম্পদ তছরুপের প্রমাণ পেয়েছে রাষ্ট্রপতির নিয়োগকৃত নতুন ‘বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস’। এসব আর্থিক অপরাধের স্বাধীন তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং সিআইডিকে আহ্বান জানিয়েছে নতুন প্রশাসন।


রোববার (১৯ জুলাই) বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস-এর কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ তানভীর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাবেক ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যদের পারস্পরিক অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও দুর্নীতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি গত ৫ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রশাসক নিয়োগ দেন। গত ৭ জুলাই নতুন বোর্ড কাজ শুরু করে। তবে পূর্ববর্তী বোর্ডের নিয়োগকৃত জনবলের অসহযোগিতার কারণে প্রশাসনকে কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে।

 

বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস জানায়, জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টির কোনো ট্রাস্টি বোর্ডের নিবন্ধন নেই। এমনকি পূর্বের বোর্ড গঠনের পেছনে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। সাবেক ট্রাস্টি বোর্ডের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী সম্পদ তছরুপের গুরুতর প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শ্যামলীর রূপায়ন শেলফোর্ড ভবনে প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের ৯ হাজার স্কয়ার ফুটের একটি ফ্লোর এবং মিরপুর-২ এর শাহ আলীবাগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত একটি ১০ তলা ভবন উল্লেখযোগ্য।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক হিসাবে বিপুল গরমিল ও সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত করা হয়েছে। ক্রয়, প্রকল্প ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি এবং কর ও ভ্যাট ফাঁকিরও প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ বা আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে বলে জানিয়েছে নতুন প্রশাসন।

 

আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি একাডেমিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও চরম স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদনের চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি, সার্টিফিকেট বাণিজ্য এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মাত্র একটি সমাবর্তন আয়োজন করা হয়েছে। ইউজিসির শর্ত অনুযায়ী ন্যূনতম জমি না থাকা সত্ত্বেও স্থায়ী ক্যাম্পাস ও ভবনের অনুমোদনহীন কার্যক্রম চালানোর অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া নিয়োগ, পদোন্নতি ও দায়িত্ব বণ্টনে আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে চরম স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অযৌক্তিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সাবেক প্রশাসন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী গ্রুপ ব্যবহার করে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হয়রানি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়েছে।

 

সার্বিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা কামনা করেছে বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস। একটি নতুন ও গ্রহণযোগ্য ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে বিশ্বাস তাদের।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে নতুন প্রশাসন
0:00 0:00
1.0x