সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ১৫৫ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ঐই সব স্কুলে সহকারী শিক্ষকেরা প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া উপজেলায় ৬১টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এই দিকে সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় বিদ্যালয়ের লেখাপড়া রীতিমতো ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয় গুলোতে কমপক্ষে ৬ জন সহকারী শিক্ষক থাকার বিধান থাকলেও অধিকাংশ স্কুলে মাত্র ৩ জন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে একজন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় তাকে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজে প্রায়ই উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। সে ক্ষেত্রে মাত্র ২ জন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষের পাঠদান খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। শুধু তাই নয় সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় স্কুলের অপর সহকারী শিক্ষকেরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন না বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রধান শিক্ষক নেই এমন কয়েকটি স্কুল ঘুরে ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যলয় সূত্রে জানা যায়,উপজেলায় ২২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এই সব বিদ্যালয়ে মোট ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ৩৩ হাজার ৭৫২ জনের মধ্যে উপজেলার মাদলা,দাবারিয়া, দরগাহপাড়া,রূপপুর,কায়েমপুর,মশিপুর উত্তরপাড়া,তালগাছি,বড়চানতারা,তাড়টিয়া, বৃ-হাতকোড়া,বাঙ্গালা,ভাটদিঘুলিয়া ও রূপবাটি সহ ১৫৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। তদুপরি এই সব বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত সহকারী শিক্ষক না থাকায় স্কুলে শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ের দুর্গম এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো সবচাইতে বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা ও ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যানুপাতে সহকারী শিক্ষক না থাকায় বিষয়ভিত্তিক পাঠদান কার্যক্রমে রীতিমতো অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে অভিভাবকদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করেছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের অনেকেই বাধ্য হয়ে তাদের ছেলে-মেয়েদের বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে ভর্তি করেছেন। উপজেলার রূপপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা জানিয়েছেন,দীর্ঘদিন ধরে তার স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। তদুপরি ৫ জন সহকারী শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও মাত্র ৩ জন শিক্ষক দিয়ে স্কুল চালাতে হচ্ছে। তিনি আরো জানিয়েছেন,তার বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ২৪৮ জন। দাবারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুপা সরকার বলেছেন, বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১৭০ জন। তিনি সহ মাত্র ৩ শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। তাড়টিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেহানা পারভিন বলেছেন,তার স্কুলে ১৫২ জন ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করেছে।শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৮০ ভাগ থাকলেও বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছে মাত্র ৩ জন। তিনি আরো জানিয়েছেন,তাকে দাপ্তরিক কাজে প্রায়ই উপজেলা সদরে যেতে হয়। তাই পাঠদানে নানা প্রতিবন্ধকতা লেগেই আছে। এছাড়া যমুনা তীরবর্তী সোনাতনী,চনী,গালা ও রূপবাটি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এই সব স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। অন্যদিকে ২ থেকে ৩ জন সহকারী শিক্ষক দিয়েই চলছে নামমাত্র পাঠদান। কিরণবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ উজ্জল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন,প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। তারা ক্ষোভের সঙ্গে আরো বলেছেন,১৬ বছরেও তাদের পদোন্নতি হয়নি। যার কারণে এই সব সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মুরাদ হোসেন জানিয়েছেন,উপজেলার ২২৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫৫ টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। তিনি বলেছেন,শুধু শিক্ষক সংকটই নয়,তার কার্যলয়ে জনবল সংকটের কারনে কোনো কিছুই সুষ্ঠুভাবে চলছে না। এই প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন,তার কার্যলয়ে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ৯ টি পদ থাকলেও মাত্র ৪ জন কর্মকর্তা দিয়ে ২২৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়েয়ের প্রায় ৩৪ হাজার শিক্ষার্থীর লেখাপড়াসহ সব ধরনের খোঁজখবর নিতে হচ্ছে। এছাড়া তার কার্যলয়ে কার্যলয় সহকারি ৪ টি পদই শূন্য রয়েছে। মাত্র একজন ইউডিএ পুরো কার্যলয় দাপ্তরিক কাজ করেছেন। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে ও তিনি জানিয়েছেন।