ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)-এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছে। প্রতিনিধিদলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ১০ জন সদস্য রয়েছেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় প্রতিনিধিদলটি তেহরানে পৌঁছে। বাংলাদেশ সময় দুপুর পৌনে ১টার দিকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে অবস্থান করছেন। রাজধানীর গ্র্যান্ড মুসল্লায় তাঁর মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছে এবং সেখানে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বরাতে জানান, বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল গ্র্যান্ড মুসল্লায় গিয়ে মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। শনিবার অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রীয় জানাজায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)-এর নেতৃত্বে পুরো প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। জানাজা শেষে তারা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শোকবার্তা বিনিময় করবেন বলেও জানা গেছে।
জানা যায়, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তেহরানজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। সরকারি ভবন, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদের জন্যও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইরান সরকার।
শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মুসল্লায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর কয়েক দফা রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে আগামী ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে, তাঁর জন্মস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে। জানাজা ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ইরানের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর মৃত্যুতে ইরানজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, রাজনৈতিক নেতা এবং আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।