ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

বুড়িগঙ্গা নদী সম্পর্কে অনুচ্ছেদ


প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বুড়িগঙ্গা নদী সম্পর্কে অনুচ্ছেদ
বুড়িগঙ্গা নদী সম্পর্কে অনুচ্ছেদ বাংলাদেশের ঐতিহ্য রক্ষার্থে এই নদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ঢাকা নগরী ১৯১০ সালে বুড়িগঙ্গার তীরে গড়ে ওঠে,বুড়িগঙ্গা নদী ঢাকার প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক একটি নদী, যা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ দিয়ে প্রবাহিত। এটি ঢাকার ইতিহাস, সংস্কৃতি, এবং অর্থনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। বুড়িগঙ্গা নদী ঢাকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এবং একসময় এটি শহরের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম ও বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল।

বুড়িগঙ্গা নদী সম্পর্কে অনুচ্ছেদ

ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে মুঘল আমলে ঢাকার বিকাশ শুরু হয়।বুড়িগঙ্গা নদী বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই নদী শুধু একটি জলধারা নয়, এটি বহুকাল ধরে রাজধানী ঢাকার জীবনযাত্রার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বুড়িগঙ্গার তীরে গড়ে উঠেছে ঢাকা শহর, যার শুরুটা হয়েছিল মুগল আমলে। তখন এই নদী ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল পথ। নৌকা, পানসি, বড় বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত এই নদীপথে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় বুড়িগঙ্গার রূপ বদলে গেছে, তার গতি ও স্বচ্ছতা হারিয়ে ফেলেছে। জনপ্রিয় এই বুড়িগঙ্গা টিভি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ' বুড়িগঙ্গা নদী সম্পর্কে অনুচ্ছেদ ' সম্পর্কে অল্প কথায় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে পুরনো ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদী সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে আমাদের এই ওয়েবসাইটে রয়েছে তথ্যবহুল পর্যালোচনা, শিক্ষার্থীসহ নানা পেশা মানুষদের গবেষণাধর্মী লেখাগুলো প্রকাশিত করা হয়।
বুড়িগঙ্গার ভৌগোলিক অবস্থান
বুড়িগঙ্গা নদী বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে প্রবাহিত একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। এটি ধলেশ্বরী নদীর একটি শাখা, যা মূলত হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে পদ্মা এবং মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে। বুড়িগঙ্গা ঢাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরীর সাথে সংযুক্ত হয়েছে। একসময় এটি অত্যন্ত গভীর ও স্বচ্ছ জলধারা ছিল, যেখানে মাছ ধরা এবং কৃষিকাজের জন্য পানি সংগ্রহ করা যেত। বর্তমানে নদীর অনেক অংশ ভরাট হয়ে গেছে, জলপ্রবাহ কমে গেছে এবং দূষণের কারণে পানি কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে উঠেছে।
বুড়িগঙ্গার ঐতিহাসিক গুরুত্ব
ঢাকা শহরের প্রতিষ্ঠার পেছনে বুড়িগঙ্গার ভূমিকা অপরিসীম। মোগল আমলে যখন ইসলাম খান ঢাকাকে বাংলার রাজধানী ঘোষণা করেন, তখন বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষেই প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে ওঠে। মুঘল যুগে এই নদীপথ ব্যবহৃত হতো কলকাতা, চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগের জন্য। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্য, যেমন—মসলিন কাপড়, চামড়া, মসলা, শস্য ইত্যাদি পরিবহন করতেন এই নদীপথে। বুড়িগঙ্গার তীরে একসময় অসংখ্য ঘাট ছিল, যেখানে নৌকা ও বড় বড় জাহাজ ভিড়ত। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এলাকাগুলো—সদরঘাট, ফরাশগঞ্জ, ইসলামপুর ইত্যাদি বুড়িগঙ্গার সান্নিধ্যে গড়ে ওঠে। এই নদী শুধু বাণিজ্য নয়, বরং ঢাকা শহরের জনজীবন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম বাহক হয়ে উঠেছিল।
বুড়িগঙ্গার বর্তমান অবস্থা
একসময় ঢাকার মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান ভিত্তি ছিল এই নদী। কিন্তু বর্তমানে বুড়িগঙ্গা তার পুরনো সৌন্দর্য ও গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, শিল্প-কারখানার বর্জ্য, আবাসিক বর্জ্য, প্লাস্টিক দূষণ ও দখলের কারণে নদীর পানি এখন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ট্যানারি শিল্প এবং আশেপাশের কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হয়, যা নদীর পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে। একসময় যেখানে নদীর পানি স্বচ্ছ ছিল, সেখানে এখন কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এই দূষণের কারণে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, কারণ অনেকেই নদীর পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া নদীর দুপাশে দখলদাররা অবৈধভাবে স্থাপনা গড়ে তুলছে, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে। [caption id="attachment_7002" align="alignnone" width="768"]বুড়িগঙ্গা রক্ষায় নাগরিক দায়িত্ব বুড়িগঙ্গা রক্ষায় নাগরিক দায়িত্ব[/caption]

বুড়িগঙ্গা রক্ষার উদ্যোগ

বুড়িগঙ্গার দূষণ ও দখল রোধে সরকার এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। বিভিন্ন সময় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, তবে আবারও তারা নদীর পাড়ে দখলদারি শুরু করে। শিল্প-কারখানার বর্জ্য পরিশোধন করে নদীতে ফেলার নির্দেশ থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠান এটি মানছে না। তবে ইতিবাচক দিক হলো, সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে বুড়িগঙ্গা নদী পরিষ্কার ও দখলমুক্ত করার জন্য অভিযান পরিচালিত হয়েছে। নদীর দুপাশে সবুজায়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যাতে পুনরায় নদীর পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যায়। যদি এই উদ্যোগগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে বুড়িগঙ্গা আবারো তার হারানো গৌরব ফিরে পেতে পারে। বুড়িগঙ্গা রক্ষায় নাগরিক দায়িত্ব সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষদের সচেতন হতে হবে, তারা যেন নিজেদের বর্জ্য নদীতে না ফেলে। শিল্প-কারখানাগুলোর উচিত নিজস্ব বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বুড়িগঙ্গা একটি স্বচ্ছ, প্রাণবন্ত নদী হয়ে ওঠে। বুড়িগঙ্গা বাঁচাতে হলে গণসচেতনতা ও সরকারী নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন একসাথে হতে হবে। নদী আমাদের সম্পদ, এবং একে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। যদি সবাই মিলে এই উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে একদিন আমরা আবার সেই স্বচ্ছ, প্রাণবন্ত বুড়িগঙ্গা দেখতে পারব, যা একসময় ঢাকার প্রাণ ছিল। বুড়িগঙ্গা শুধু একটি নদী নয়, এটি ঢাকার ইতিহাস, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় এটি রাজধানীর প্রধান জীবনরেখা ছিল, কিন্তু আজ এটি দূষণের কবলে পড়ে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়েছে। যদি আমরা সবাই সচেতন হয়ে এই নদীকে রক্ষা করি, তবে এটি আবারো তার পুরনো রূপ ফিরে পাবে। দখলদার উচ্ছেদ, শিল্প-কারখানার বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা রক্ষা করা সম্ভব। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত ও সুস্থ পরিবেশে ফিরিয়ে আনা জরুরি, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নদী উপভোগ করতে পারে।

শেষ কথা

বুড়িগঙ্গা নদী সম্পর্কে অনুচ্ছেদ এই বিষয় সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরী, বুড়িগঙ্গা নদী বর্তমানে দূষণের কারণে সংকটে পড়েছে। শহরের বর্জ্য, শিল্প কারখানার বর্জ্য এবং পলিথিন দূষণের প্রধান কারণ। তবুও, এই নদী ঢাকার মানুষদের জন্য একটি ঐতিহ্যের প্রতীক,নদীটিকে দূষণমুক্ত করার জন্য সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে।

বুড়িগঙ্গা

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


বুড়িগঙ্গা নদী সম্পর্কে অনুচ্ছেদ

প্রকাশের তারিখ : ২১ মার্চ ২০২৫

featured Image
বুড়িগঙ্গা নদী সম্পর্কে অনুচ্ছেদ বাংলাদেশের ঐতিহ্য রক্ষার্থে এই নদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ঢাকা নগরী ১৯১০ সালে বুড়িগঙ্গার তীরে গড়ে ওঠে,বুড়িগঙ্গা নদী ঢাকার প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক একটি নদী, যা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ দিয়ে প্রবাহিত। এটি ঢাকার ইতিহাস, সংস্কৃতি, এবং অর্থনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। বুড়িগঙ্গা নদী ঢাকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এবং একসময় এটি শহরের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম ও বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল।

বুড়িগঙ্গা নদী সম্পর্কে অনুচ্ছেদ

ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে মুঘল আমলে ঢাকার বিকাশ শুরু হয়।বুড়িগঙ্গা নদী বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই নদী শুধু একটি জলধারা নয়, এটি বহুকাল ধরে রাজধানী ঢাকার জীবনযাত্রার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বুড়িগঙ্গার তীরে গড়ে উঠেছে ঢাকা শহর, যার শুরুটা হয়েছিল মুগল আমলে। তখন এই নদী ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল পথ। নৌকা, পানসি, বড় বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত এই নদীপথে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় বুড়িগঙ্গার রূপ বদলে গেছে, তার গতি ও স্বচ্ছতা হারিয়ে ফেলেছে। জনপ্রিয় এই বুড়িগঙ্গা টিভি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ' বুড়িগঙ্গা নদী সম্পর্কে অনুচ্ছেদ ' সম্পর্কে অল্প কথায় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে পুরনো ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদী সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে আমাদের এই ওয়েবসাইটে রয়েছে তথ্যবহুল পর্যালোচনা, শিক্ষার্থীসহ নানা পেশা মানুষদের গবেষণাধর্মী লেখাগুলো প্রকাশিত করা হয়।
বুড়িগঙ্গার ভৌগোলিক অবস্থান
বুড়িগঙ্গা নদী বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে প্রবাহিত একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। এটি ধলেশ্বরী নদীর একটি শাখা, যা মূলত হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে পদ্মা এবং মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে। বুড়িগঙ্গা ঢাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরীর সাথে সংযুক্ত হয়েছে। একসময় এটি অত্যন্ত গভীর ও স্বচ্ছ জলধারা ছিল, যেখানে মাছ ধরা এবং কৃষিকাজের জন্য পানি সংগ্রহ করা যেত। বর্তমানে নদীর অনেক অংশ ভরাট হয়ে গেছে, জলপ্রবাহ কমে গেছে এবং দূষণের কারণে পানি কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে উঠেছে।
বুড়িগঙ্গার ঐতিহাসিক গুরুত্ব
ঢাকা শহরের প্রতিষ্ঠার পেছনে বুড়িগঙ্গার ভূমিকা অপরিসীম। মোগল আমলে যখন ইসলাম খান ঢাকাকে বাংলার রাজধানী ঘোষণা করেন, তখন বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষেই প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে ওঠে। মুঘল যুগে এই নদীপথ ব্যবহৃত হতো কলকাতা, চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগের জন্য। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্য, যেমন—মসলিন কাপড়, চামড়া, মসলা, শস্য ইত্যাদি পরিবহন করতেন এই নদীপথে। বুড়িগঙ্গার তীরে একসময় অসংখ্য ঘাট ছিল, যেখানে নৌকা ও বড় বড় জাহাজ ভিড়ত। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এলাকাগুলো—সদরঘাট, ফরাশগঞ্জ, ইসলামপুর ইত্যাদি বুড়িগঙ্গার সান্নিধ্যে গড়ে ওঠে। এই নদী শুধু বাণিজ্য নয়, বরং ঢাকা শহরের জনজীবন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম বাহক হয়ে উঠেছিল।
বুড়িগঙ্গার বর্তমান অবস্থা
একসময় ঢাকার মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান ভিত্তি ছিল এই নদী। কিন্তু বর্তমানে বুড়িগঙ্গা তার পুরনো সৌন্দর্য ও গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, শিল্প-কারখানার বর্জ্য, আবাসিক বর্জ্য, প্লাস্টিক দূষণ ও দখলের কারণে নদীর পানি এখন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ট্যানারি শিল্প এবং আশেপাশের কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হয়, যা নদীর পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে। একসময় যেখানে নদীর পানি স্বচ্ছ ছিল, সেখানে এখন কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এই দূষণের কারণে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, কারণ অনেকেই নদীর পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া নদীর দুপাশে দখলদাররা অবৈধভাবে স্থাপনা গড়ে তুলছে, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে। [caption id="attachment_7002" align="alignnone" width="768"]বুড়িগঙ্গা রক্ষায় নাগরিক দায়িত্ব বুড়িগঙ্গা রক্ষায় নাগরিক দায়িত্ব[/caption]

বুড়িগঙ্গা রক্ষার উদ্যোগ

বুড়িগঙ্গার দূষণ ও দখল রোধে সরকার এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। বিভিন্ন সময় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, তবে আবারও তারা নদীর পাড়ে দখলদারি শুরু করে। শিল্প-কারখানার বর্জ্য পরিশোধন করে নদীতে ফেলার নির্দেশ থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠান এটি মানছে না। তবে ইতিবাচক দিক হলো, সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে বুড়িগঙ্গা নদী পরিষ্কার ও দখলমুক্ত করার জন্য অভিযান পরিচালিত হয়েছে। নদীর দুপাশে সবুজায়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যাতে পুনরায় নদীর পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যায়। যদি এই উদ্যোগগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে বুড়িগঙ্গা আবারো তার হারানো গৌরব ফিরে পেতে পারে। বুড়িগঙ্গা রক্ষায় নাগরিক দায়িত্ব সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষদের সচেতন হতে হবে, তারা যেন নিজেদের বর্জ্য নদীতে না ফেলে। শিল্প-কারখানাগুলোর উচিত নিজস্ব বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বুড়িগঙ্গা একটি স্বচ্ছ, প্রাণবন্ত নদী হয়ে ওঠে। বুড়িগঙ্গা বাঁচাতে হলে গণসচেতনতা ও সরকারী নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন একসাথে হতে হবে। নদী আমাদের সম্পদ, এবং একে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। যদি সবাই মিলে এই উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে একদিন আমরা আবার সেই স্বচ্ছ, প্রাণবন্ত বুড়িগঙ্গা দেখতে পারব, যা একসময় ঢাকার প্রাণ ছিল। বুড়িগঙ্গা শুধু একটি নদী নয়, এটি ঢাকার ইতিহাস, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় এটি রাজধানীর প্রধান জীবনরেখা ছিল, কিন্তু আজ এটি দূষণের কবলে পড়ে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়েছে। যদি আমরা সবাই সচেতন হয়ে এই নদীকে রক্ষা করি, তবে এটি আবারো তার পুরনো রূপ ফিরে পাবে। দখলদার উচ্ছেদ, শিল্প-কারখানার বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা রক্ষা করা সম্ভব। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত ও সুস্থ পরিবেশে ফিরিয়ে আনা জরুরি, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নদী উপভোগ করতে পারে।

শেষ কথা

বুড়িগঙ্গা নদী সম্পর্কে অনুচ্ছেদ এই বিষয় সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরী, বুড়িগঙ্গা নদী বর্তমানে দূষণের কারণে সংকটে পড়েছে। শহরের বর্জ্য, শিল্প কারখানার বর্জ্য এবং পলিথিন দূষণের প্রধান কারণ। তবুও, এই নদী ঢাকার মানুষদের জন্য একটি ঐতিহ্যের প্রতীক,নদীটিকে দূষণমুক্ত করার জন্য সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে।

বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
বুড়িগঙ্গা নদী সম্পর্কে অনুচ্ছেদ
0:00 0:00
1.0x