ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

বুড়িগঙ্গা নদী রচনা ,নদীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব


প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বুড়িগঙ্গা নদী রচনা ,নদীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব
বুড়িগঙ্গা নদী রচনা বাংলাদেশের ঐতিহ্য রক্ষার্থে এই নদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বুড়িগঙ্গা নদী শুধুমাত্র ঢাকার নয়, এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একসময় এই নদী প্রাণচঞ্চল ছিল, ঢাকার মানুষের জীবন ও জীবিকার অন্যতম উৎস ছিল। কিন্তু বর্তমানে এটি দূষণ ও দখলের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। যদি আমরা এখনই পদক্ষেপ না নেই, তাহলে এই নদী ভবিষ্যতে অস্তিত্ব হারাতে পারে। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

বুড়িগঙ্গা নদী রচনা

ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে মুঘল আমলে ঢাকার বিকাশ শুরু হয়।বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নদী অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত বুড়িগঙ্গা নদী একসময় এই অঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র ছিল। এই নদীর তীরে গড়ে উঠেছে ঢাকা শহর, যার বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা বহুলাংশে নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। বুড়িগঙ্গা নদী একসময় স্বচ্ছ ও গভীর ছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি দূষণ ও দখলের শিকার হয়ে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেছে। নদীর গুরুত্ব, বর্তমান অবস্থা ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করাই এই রচনার উদ্দেশ্য। এটি তৎকালীন সময়ে বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম ছিল।বুড়িগঙ্গা নদী বাংলাদেশের, বিশেষ করে ঢাকার, সংস্কৃতিতে একটি অসামান্য গুরুত্ব বহন করে। নদীটি ঢাকার জনজীবন, সংস্কৃতি, ইতিহাস, এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ,মুঘল সাম্রাজ্য, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, পাকিস্তানি আমল পেরিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ঢাকার বয়স ৪০০ বছর পেরিয়ে গেছে। জনপ্রিয় এই বুড়িগঙ্গা টিভি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ' বুড়িগঙ্গা নদী রচনা ' সম্পর্কে অল্প কথায় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে পুরনো ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদী সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে আমাদের এই ওয়েবসাইটে রয়েছে তথ্যবহুল পর্যালোচনা, শিক্ষার্থীসহ নানা পেশা মানুষদের গবেষণাধর্মী লেখাগুলো প্রকাশিত করা হয়।
বুড়িগঙ্গা নদীর পরিচিতি
বুড়িগঙ্গা নদী পদ্মার একটি শাখা নদী, যা ধলেশ্বরীর মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে ঢাকার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। এই নদী একসময় ঢাকার মানুষের জন্য পানীয় জল, নৌপরিবহন, কৃষিকাজ ও মৎস্য শিকারের প্রধান উৎস ছিল। বুড়িগঙ্গার নামকরণের পেছনে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, এটি অতীতের গঙ্গা নদীর প্রবাহিত ধারা ছিল এবং সময়ের পরিবর্তনে এর প্রবাহ কমে গেলে ‘বুড়ি’ বা পুরাতন গঙ্গা নামে পরিচিত হয়। বিগত শতাব্দীগুলিতে বুড়িগঙ্গা নদী শুধু ঢাকার নয়, গোটা বাংলার বাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। বিশেষ করে, মুঘল শাসনামলে এটি নৌবাণিজ্যের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
বুড়িগঙ্গা নদীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব
ঢাকা শহর গড়ে ওঠার পেছনে বুড়িগঙ্গা নদীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মুঘল আমলে যখন ইসলাম খান ঢাকাকে বাংলার রাজধানী ঘোষণা করেন, তখন এই নদীর তীরেই প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে ওঠে। সে সময় বুড়িগঙ্গা ছিল ঢাকার প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। কলকাতা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও শহরের সাথে নৌপথে সংযোগ স্থাপনের জন্য এই নদী ব্যবহৃত হতো। বিশেষ করে ঢাকার মসলিন শিল্পের খ্যাতি বিশ্বের দরবারে ছড়িয়ে পড়েছিল, আর এই বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল বুড়িগঙ্গা নদী। ব্যবসায়ীরা নৌকার মাধ্যমে তাদের পণ্য পরিবহন করতেন এবং নদীর তীরেই গড়ে উঠেছিল ব্যস্ততম ব্যবসায়িক এলাকা। [caption id="attachment_7000" align="alignnone" width="768"]বুড়িগঙ্গা নদী রচনা ,নদীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুড়িগঙ্গা নদী রচনা ,নদীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব[/caption] বর্তমান অবস্থা একসময় যেই বুড়িগঙ্গা ঢাকার জীবনরেখা ছিল, আজ তা দখল ও দূষণের কারণে সংকটের মুখে পড়েছে। শহরের অপরিকল্পিত বিস্তৃতি, শিল্প-কারখানার বর্জ্য, পলিথিন ও আবর্জনার স্তূপ নদীর পানিকে দূষিত করেছে। একসময় যেখানে স্বচ্ছ পানি প্রবাহিত হতো, সেখানে এখন কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানি দেখা যায়। দূষণের কারণ: ১. শিল্প-কারখানার বর্জ্য: ট্যানারি ও অন্যান্য কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হয়, যা পানি বিষাক্ত করে তুলছে। ২. প্লাস্টিক ও আবর্জনা: শহরের বাসিন্দারা নদীতে নিত্যদিনের বর্জ্য ফেলছে, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করছে। 3. নদী দখল: নদীর দুই তীর দখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে, যা নদী সংকুচিত করে ফেলছে। 4. নৌযান ও জ্বালানি দূষণ: নৌপরিবহনে ব্যবহৃত তেল ও রাসায়নিক পদার্থ নদীর পানি দূষিত করছে। দূষণের ফলাফল:
  • নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে, ফলে নৌপরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
  • নদীর জলজ প্রাণী হুমকির মুখে পড়েছে।
  • স্থানীয় বাসিন্দারা নানা ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
  • নদীর সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে, যা পর্যটন শিল্পের জন্যও ক্ষতিকর।
বুড়িগঙ্গা রক্ষায় উদ্যোগ বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষার জন্য বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এই উদ্যোগগুলো পর্যাপ্ত নয়, তবে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সরকারি উদ্যোগ:
  • অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
  • শিল্প-কারখানাগুলোকে ইটিপি (Effluent Treatment Plant) ব্যবহার করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
  • বুড়িগঙ্গার দুই পাড়ে সবুজায়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি ও নাগরিক উদ্যোগ:
  • পরিবেশবাদী সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা নদী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চালাচ্ছে।
  • সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
  • ব্যক্তি পর্যায়ে মানুষ যদি বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে এবং নদী সংরক্ষণে অংশগ্রহণ করে, তাহলে দূষণ কমবে।
বুড়িগঙ্গা রক্ষায় আমাদের করণীয়
বুড়িগঙ্গা নদীকে বাঁচাতে হলে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে—
  • শিল্প-কারখানার বর্জ্য পরিশোধন করে নদীতে ফেলার নিশ্চয়তা বিধান করা।
  • নদীর দুই তীর অবৈধ দখলমুক্ত রাখা।
  • নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষকে সচেতন করা, যেন তারা বর্জ্য না ফেলে।
  • সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো।
  • নৌযান থেকে তেল ও রাসায়নিক পদার্থ পড়া বন্ধ করা।
  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে নদী রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
আমরা যদি সবাই মিলে বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে পারি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি আবারও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। বুড়িগঙ্গাকে রক্ষা করা মানে শুধু একটি নদী সংরক্ষণ নয়, বরং ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করা।

শেষ কথা

বুড়িগঙ্গা নদী রচনা এই বিষয় সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরী, বুড়িগঙ্গা নদী বর্তমানে দূষণের কারণে সংকটে পড়েছে। শহরের বর্জ্য, শিল্প কারখানার বর্জ্য এবং পলিথিন দূষণের প্রধান কারণ। তবুও, এই নদী ঢাকার মানুষদের জন্য একটি ঐতিহ্যের প্রতীক,নদীটিকে দূষণমুক্ত করার জন্য সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে।

বুড়িগঙ্গা

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


বুড়িগঙ্গা নদী রচনা ,নদীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব

প্রকাশের তারিখ : ২১ মার্চ ২০২৫

featured Image
বুড়িগঙ্গা নদী রচনা বাংলাদেশের ঐতিহ্য রক্ষার্থে এই নদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বুড়িগঙ্গা নদী শুধুমাত্র ঢাকার নয়, এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একসময় এই নদী প্রাণচঞ্চল ছিল, ঢাকার মানুষের জীবন ও জীবিকার অন্যতম উৎস ছিল। কিন্তু বর্তমানে এটি দূষণ ও দখলের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। যদি আমরা এখনই পদক্ষেপ না নেই, তাহলে এই নদী ভবিষ্যতে অস্তিত্ব হারাতে পারে। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

বুড়িগঙ্গা নদী রচনা

ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে মুঘল আমলে ঢাকার বিকাশ শুরু হয়।বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নদী অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত বুড়িগঙ্গা নদী একসময় এই অঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র ছিল। এই নদীর তীরে গড়ে উঠেছে ঢাকা শহর, যার বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা বহুলাংশে নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। বুড়িগঙ্গা নদী একসময় স্বচ্ছ ও গভীর ছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি দূষণ ও দখলের শিকার হয়ে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেছে। নদীর গুরুত্ব, বর্তমান অবস্থা ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করাই এই রচনার উদ্দেশ্য। এটি তৎকালীন সময়ে বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম ছিল।বুড়িগঙ্গা নদী বাংলাদেশের, বিশেষ করে ঢাকার, সংস্কৃতিতে একটি অসামান্য গুরুত্ব বহন করে। নদীটি ঢাকার জনজীবন, সংস্কৃতি, ইতিহাস, এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ,মুঘল সাম্রাজ্য, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, পাকিস্তানি আমল পেরিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ঢাকার বয়স ৪০০ বছর পেরিয়ে গেছে। জনপ্রিয় এই বুড়িগঙ্গা টিভি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ' বুড়িগঙ্গা নদী রচনা ' সম্পর্কে অল্প কথায় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে পুরনো ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদী সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে আমাদের এই ওয়েবসাইটে রয়েছে তথ্যবহুল পর্যালোচনা, শিক্ষার্থীসহ নানা পেশা মানুষদের গবেষণাধর্মী লেখাগুলো প্রকাশিত করা হয়।
বুড়িগঙ্গা নদীর পরিচিতি
বুড়িগঙ্গা নদী পদ্মার একটি শাখা নদী, যা ধলেশ্বরীর মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে ঢাকার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। এই নদী একসময় ঢাকার মানুষের জন্য পানীয় জল, নৌপরিবহন, কৃষিকাজ ও মৎস্য শিকারের প্রধান উৎস ছিল। বুড়িগঙ্গার নামকরণের পেছনে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, এটি অতীতের গঙ্গা নদীর প্রবাহিত ধারা ছিল এবং সময়ের পরিবর্তনে এর প্রবাহ কমে গেলে ‘বুড়ি’ বা পুরাতন গঙ্গা নামে পরিচিত হয়। বিগত শতাব্দীগুলিতে বুড়িগঙ্গা নদী শুধু ঢাকার নয়, গোটা বাংলার বাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। বিশেষ করে, মুঘল শাসনামলে এটি নৌবাণিজ্যের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
বুড়িগঙ্গা নদীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব
ঢাকা শহর গড়ে ওঠার পেছনে বুড়িগঙ্গা নদীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মুঘল আমলে যখন ইসলাম খান ঢাকাকে বাংলার রাজধানী ঘোষণা করেন, তখন এই নদীর তীরেই প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে ওঠে। সে সময় বুড়িগঙ্গা ছিল ঢাকার প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। কলকাতা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও শহরের সাথে নৌপথে সংযোগ স্থাপনের জন্য এই নদী ব্যবহৃত হতো। বিশেষ করে ঢাকার মসলিন শিল্পের খ্যাতি বিশ্বের দরবারে ছড়িয়ে পড়েছিল, আর এই বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল বুড়িগঙ্গা নদী। ব্যবসায়ীরা নৌকার মাধ্যমে তাদের পণ্য পরিবহন করতেন এবং নদীর তীরেই গড়ে উঠেছিল ব্যস্ততম ব্যবসায়িক এলাকা। [caption id="attachment_7000" align="alignnone" width="768"]বুড়িগঙ্গা নদী রচনা ,নদীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুড়িগঙ্গা নদী রচনা ,নদীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব[/caption] বর্তমান অবস্থা একসময় যেই বুড়িগঙ্গা ঢাকার জীবনরেখা ছিল, আজ তা দখল ও দূষণের কারণে সংকটের মুখে পড়েছে। শহরের অপরিকল্পিত বিস্তৃতি, শিল্প-কারখানার বর্জ্য, পলিথিন ও আবর্জনার স্তূপ নদীর পানিকে দূষিত করেছে। একসময় যেখানে স্বচ্ছ পানি প্রবাহিত হতো, সেখানে এখন কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানি দেখা যায়। দূষণের কারণ: ১. শিল্প-কারখানার বর্জ্য: ট্যানারি ও অন্যান্য কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হয়, যা পানি বিষাক্ত করে তুলছে। ২. প্লাস্টিক ও আবর্জনা: শহরের বাসিন্দারা নদীতে নিত্যদিনের বর্জ্য ফেলছে, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করছে। 3. নদী দখল: নদীর দুই তীর দখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে, যা নদী সংকুচিত করে ফেলছে। 4. নৌযান ও জ্বালানি দূষণ: নৌপরিবহনে ব্যবহৃত তেল ও রাসায়নিক পদার্থ নদীর পানি দূষিত করছে। দূষণের ফলাফল:
  • নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে, ফলে নৌপরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
  • নদীর জলজ প্রাণী হুমকির মুখে পড়েছে।
  • স্থানীয় বাসিন্দারা নানা ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
  • নদীর সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে, যা পর্যটন শিল্পের জন্যও ক্ষতিকর।
বুড়িগঙ্গা রক্ষায় উদ্যোগ বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষার জন্য বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এই উদ্যোগগুলো পর্যাপ্ত নয়, তবে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সরকারি উদ্যোগ:
  • অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
  • শিল্প-কারখানাগুলোকে ইটিপি (Effluent Treatment Plant) ব্যবহার করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
  • বুড়িগঙ্গার দুই পাড়ে সবুজায়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি ও নাগরিক উদ্যোগ:
  • পরিবেশবাদী সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা নদী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চালাচ্ছে।
  • সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
  • ব্যক্তি পর্যায়ে মানুষ যদি বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে এবং নদী সংরক্ষণে অংশগ্রহণ করে, তাহলে দূষণ কমবে।
বুড়িগঙ্গা রক্ষায় আমাদের করণীয়
বুড়িগঙ্গা নদীকে বাঁচাতে হলে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে—
  • শিল্প-কারখানার বর্জ্য পরিশোধন করে নদীতে ফেলার নিশ্চয়তা বিধান করা।
  • নদীর দুই তীর অবৈধ দখলমুক্ত রাখা।
  • নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষকে সচেতন করা, যেন তারা বর্জ্য না ফেলে।
  • সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো।
  • নৌযান থেকে তেল ও রাসায়নিক পদার্থ পড়া বন্ধ করা।
  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে নদী রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
আমরা যদি সবাই মিলে বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে পারি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি আবারও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। বুড়িগঙ্গাকে রক্ষা করা মানে শুধু একটি নদী সংরক্ষণ নয়, বরং ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করা।

শেষ কথা

বুড়িগঙ্গা নদী রচনা এই বিষয় সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরী, বুড়িগঙ্গা নদী বর্তমানে দূষণের কারণে সংকটে পড়েছে। শহরের বর্জ্য, শিল্প কারখানার বর্জ্য এবং পলিথিন দূষণের প্রধান কারণ। তবুও, এই নদী ঢাকার মানুষদের জন্য একটি ঐতিহ্যের প্রতীক,নদীটিকে দূষণমুক্ত করার জন্য সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে।

বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
বুড়িগঙ্গা নদী রচনা ,নদীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব
0:00 0:00
1.0x