ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা : এক নতুন আশার গল্প


প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা : এক নতুন আশার গল্প
বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা বাংলাদেশের ঐতিহ্য রক্ষার্থে এই নদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে সাম্প্রতিক সময়ে বুড়িগঙ্গাকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা—এই পরিবর্তন কি টেকসই হবে? নাকি এটি শুধুই ক্ষণস্থায়ী প্রচেষ্টা? এই নিবন্ধে আমরা সেই পরিবর্তনের গল্প এবং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করব।

বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা

বুড়িগঙ্গা নদী একসময় ঢাকার প্রাণ ছিল। তবে ঢাকার জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে, পরিবেশ সুস্থ হবে এবং নৌপরিবহন ব্যবস্থাও কার্যকর হবে। তবে এই পরিবর্তনকে টেকসই করতে হলে শুধু সরকার নয়, সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা আবারো ঢাকা শহরের হৃদস্পন্দন হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে বুড়িগঙ্গা তার পুরনো রূপ হারিয়ে ফেলে—দূষিত জল, দখলদারিত্ব আর অব্যবস্থাপনার শিকার হয় এই ঐতিহ্যবাহী নদী। জনপ্রিয় এই বুড়িগঙ্গা টিভি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ' বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা ' সম্পর্কে অল্প কথায় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে পুরনো ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদী সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে আমাদের এই ওয়েবসাইটে রয়েছে তথ্যবহুল পর্যালোচনা, শিক্ষার্থীসহ নানা পেশা মানুষদের গবেষণাধর্মী লেখাগুলো প্রকাশিত করা হয়। বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, লেখক, সাহিত্যিকরা ভারত উপমহাদেশের এই ঐতিহ্য বুড়িগঙ্গা নদীকে স্মৃতিচারণ করে সারা পৃথিবীর বুকে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, এই ঐতিহ্য রক্ষার্থে এখন কাজ করতে হবে।
বুড়িগঙ্গার অতীত ও বর্তমান সংকট
এক সময়ের স্বচ্ছ নদী বুড়িগঙ্গার ইতিহাস বহু শতাব্দী প্রাচীন। মুঘল আমলে, বিশেষ করে যখন ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকা শহরকে বাংলার রাজধানী ঘোষণা করেন, তখন থেকেই এই নদী বাণিজ্য ও পরিবহনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। নদীপথে মালবাহী নৌকা, পালতোলা জাহাজ, এবং যাত্রীবাহী নৌযানের সরগরম পরিবেশ ছিল এক চিরচেনা দৃশ্য। বুড়িগঙ্গার পানি একসময় এতটাই স্বচ্ছ ছিল যে সরাসরি তা পান করাও সম্ভব ছিল। এই নদীর ওপর নির্ভর করেই গড়ে উঠেছিল সদরঘাট, বাদামতলী ঘাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌবন্দর।
দূষণের শিকার বুড়িগঙ্গা
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বুড়িগঙ্গার দুর্দশা বাড়তে থাকে। ঢাকার অনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থার অভাব, এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে এই নদী আজ দূষণের স্তূপে পরিণত হয়েছে।
  • শিল্প বর্জ্য: ঢাকার আশপাশে গড়ে ওঠা ট্যানারি, ডাইং কারখানা ও অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলছে।
  • গৃহস্থালি বর্জ্য: প্রতিদিন শহর থেকে প্রচুর কঠিন ও তরল বর্জ্য বুড়িগঙ্গায় ফেলা হয়, যা নদীর পানি ব্যবহারের অনুপযুক্ত করে তুলেছে।
  • অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারিত্ব: নদীর দুই পাড়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্থাপনা, যা নদীর প্রস্থ কমিয়ে ফেলেছে এবং পানিপ্রবাহ ব্যাহত করেছে।
  • পানি প্রবাহের বাধা: বুড়িগঙ্গার সাথে সংযুক্ত অন্যান্য খাল ও নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুকনো মৌসুমে এর পানির স্তর খুব কমে যায়, ফলে নৌপরিবহনের জন্য এটি অকার্যকর হয়ে পড়ে।
[caption id="attachment_7018" align="alignnone" width="768"]বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা : এক নতুন আশার গল্প বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা : এক নতুন আশার গল্প[/caption]
বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা: নতুন উদ্যোগ ও সম্ভাবনা
তবে সবকিছুর পরেও বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। ১. অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান সাম্প্রতিক সময়ে সরকার বুড়িগঙ্গার দুই পাড় থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA) ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে বহু অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে নদীর প্রশস্ততা কিছুটা হলেও ফিরে আসছে। ২. দূষণ নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগ শিল্পকারখানাগুলোর জন্য বর্জ্য পরিশোধনাগার (Effluent Treatment Plant - ETP) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বুড়িগঙ্গায় সরাসরি বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এটি কার্যকর করার জন্য কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। বেশ কয়েকটি সংস্থার সমন্বয়ে বুড়িগঙ্গার পানি পরিশোধন ও দূষণ রোধের দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ৩. খনন প্রকল্প ও নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি বুড়িগঙ্গার পলি জমে নদীর তলদেশ ক্রমশ উঁচু হয়ে যাওয়ায় গভীরতা কমে গিয়েছিল। এখন নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সরকার ঘোষণা করেছে যে বুড়িগঙ্গার সংযোগ খালগুলো পুনরুদ্ধার করা হবে, যাতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় থাকে। ৪. নদী পার্ক ও নান্দনিক উন্নয়ন প্রকল্প নদীর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার জন্য বুড়িগঙ্গার তীরে পরিকল্পিত ও নান্দনিক নদী পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে নদীর পাড় দখলমুক্ত রাখা যাবে এবং সাধারণ মানুষ নদীকে আরও সচেতনভাবে ব্যবহার করতে উৎসাহী হবে।
পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ ভাবনা
বুড়িগঙ্গা নিয়ে নেওয়া উদ্যোগগুলো ইতিবাচক হলেও, এগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে কিছু বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। ১. টেকসই পরিকল্পনার অভাব অনেক সময় দেখা যায়, উচ্ছেদ অভিযান বা খনন কার্যক্রম শুরু হয় কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা সফল হয় না। নতুন স্থাপনা তৈরির মাধ্যমে পুনরায় দখল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ২. জনসচেতনতার অভাব নদী রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও ভূমিকা রাখতে হবে। বুড়িগঙ্গায় বর্জ্য না ফেলার জন্য জনগণকে আরও সচেতন করা দরকার। ৩. রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা দখলদারদের পক্ষে অবস্থান নেন, যা নদী রক্ষার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করে। প্রশাসনের আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয় ছাড়া এই পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা—এই পরিবর্তন ধীর গতিতে হলেও ইতিবাচক দিকগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সরকার, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বুড়িগঙ্গা আবারো তার হারানো গৌরব ফিরে পেতে পারে। একসময়ের স্বচ্ছ, প্রাণবন্ত বুড়িগঙ্গা যদি আবারো তার স্রোতস্বিনী রূপ ফিরে পায়, বুড়িগঙ্গার জাগরণ শুধু একটি নদী পুনরুদ্ধারের গল্প নয়, বরং এটি এক উন্নত, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।

শেষ কথা

বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা এই বিষয় সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরী, তাহলে আমাদের এই বুড়িগঙ্গা নদীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, তরুণ প্রজন্মসহ সারা পৃথিবীতে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবো, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে বুড়িগঙ্গা নদী বা পুরনো ঢাকা কেন্দ্রিক বিভিন্ন আদি ইতিহাস কে তুলে ধরতে হবে, যা খুব সহজে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তের মানুষ, আমাদের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে।

বুড়িগঙ্গা

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা : এক নতুন আশার গল্প

প্রকাশের তারিখ : ২০ মার্চ ২০২৫

featured Image
বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা বাংলাদেশের ঐতিহ্য রক্ষার্থে এই নদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে সাম্প্রতিক সময়ে বুড়িগঙ্গাকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা—এই পরিবর্তন কি টেকসই হবে? নাকি এটি শুধুই ক্ষণস্থায়ী প্রচেষ্টা? এই নিবন্ধে আমরা সেই পরিবর্তনের গল্প এবং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করব।

বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা

বুড়িগঙ্গা নদী একসময় ঢাকার প্রাণ ছিল। তবে ঢাকার জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে, পরিবেশ সুস্থ হবে এবং নৌপরিবহন ব্যবস্থাও কার্যকর হবে। তবে এই পরিবর্তনকে টেকসই করতে হলে শুধু সরকার নয়, সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা আবারো ঢাকা শহরের হৃদস্পন্দন হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে বুড়িগঙ্গা তার পুরনো রূপ হারিয়ে ফেলে—দূষিত জল, দখলদারিত্ব আর অব্যবস্থাপনার শিকার হয় এই ঐতিহ্যবাহী নদী। জনপ্রিয় এই বুড়িগঙ্গা টিভি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ' বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা ' সম্পর্কে অল্প কথায় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে পুরনো ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদী সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে আমাদের এই ওয়েবসাইটে রয়েছে তথ্যবহুল পর্যালোচনা, শিক্ষার্থীসহ নানা পেশা মানুষদের গবেষণাধর্মী লেখাগুলো প্রকাশিত করা হয়। বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, লেখক, সাহিত্যিকরা ভারত উপমহাদেশের এই ঐতিহ্য বুড়িগঙ্গা নদীকে স্মৃতিচারণ করে সারা পৃথিবীর বুকে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, এই ঐতিহ্য রক্ষার্থে এখন কাজ করতে হবে।
বুড়িগঙ্গার অতীত ও বর্তমান সংকট
এক সময়ের স্বচ্ছ নদী বুড়িগঙ্গার ইতিহাস বহু শতাব্দী প্রাচীন। মুঘল আমলে, বিশেষ করে যখন ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকা শহরকে বাংলার রাজধানী ঘোষণা করেন, তখন থেকেই এই নদী বাণিজ্য ও পরিবহনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। নদীপথে মালবাহী নৌকা, পালতোলা জাহাজ, এবং যাত্রীবাহী নৌযানের সরগরম পরিবেশ ছিল এক চিরচেনা দৃশ্য। বুড়িগঙ্গার পানি একসময় এতটাই স্বচ্ছ ছিল যে সরাসরি তা পান করাও সম্ভব ছিল। এই নদীর ওপর নির্ভর করেই গড়ে উঠেছিল সদরঘাট, বাদামতলী ঘাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌবন্দর।
দূষণের শিকার বুড়িগঙ্গা
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বুড়িগঙ্গার দুর্দশা বাড়তে থাকে। ঢাকার অনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থার অভাব, এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে এই নদী আজ দূষণের স্তূপে পরিণত হয়েছে।
  • শিল্প বর্জ্য: ঢাকার আশপাশে গড়ে ওঠা ট্যানারি, ডাইং কারখানা ও অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলছে।
  • গৃহস্থালি বর্জ্য: প্রতিদিন শহর থেকে প্রচুর কঠিন ও তরল বর্জ্য বুড়িগঙ্গায় ফেলা হয়, যা নদীর পানি ব্যবহারের অনুপযুক্ত করে তুলেছে।
  • অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারিত্ব: নদীর দুই পাড়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্থাপনা, যা নদীর প্রস্থ কমিয়ে ফেলেছে এবং পানিপ্রবাহ ব্যাহত করেছে।
  • পানি প্রবাহের বাধা: বুড়িগঙ্গার সাথে সংযুক্ত অন্যান্য খাল ও নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুকনো মৌসুমে এর পানির স্তর খুব কমে যায়, ফলে নৌপরিবহনের জন্য এটি অকার্যকর হয়ে পড়ে।
[caption id="attachment_7018" align="alignnone" width="768"]বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা : এক নতুন আশার গল্প বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা : এক নতুন আশার গল্প[/caption]
বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা: নতুন উদ্যোগ ও সম্ভাবনা
তবে সবকিছুর পরেও বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। ১. অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান সাম্প্রতিক সময়ে সরকার বুড়িগঙ্গার দুই পাড় থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA) ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে বহু অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে নদীর প্রশস্ততা কিছুটা হলেও ফিরে আসছে। ২. দূষণ নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগ শিল্পকারখানাগুলোর জন্য বর্জ্য পরিশোধনাগার (Effluent Treatment Plant - ETP) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বুড়িগঙ্গায় সরাসরি বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এটি কার্যকর করার জন্য কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। বেশ কয়েকটি সংস্থার সমন্বয়ে বুড়িগঙ্গার পানি পরিশোধন ও দূষণ রোধের দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ৩. খনন প্রকল্প ও নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি বুড়িগঙ্গার পলি জমে নদীর তলদেশ ক্রমশ উঁচু হয়ে যাওয়ায় গভীরতা কমে গিয়েছিল। এখন নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সরকার ঘোষণা করেছে যে বুড়িগঙ্গার সংযোগ খালগুলো পুনরুদ্ধার করা হবে, যাতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় থাকে। ৪. নদী পার্ক ও নান্দনিক উন্নয়ন প্রকল্প নদীর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার জন্য বুড়িগঙ্গার তীরে পরিকল্পিত ও নান্দনিক নদী পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে নদীর পাড় দখলমুক্ত রাখা যাবে এবং সাধারণ মানুষ নদীকে আরও সচেতনভাবে ব্যবহার করতে উৎসাহী হবে।
পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ ভাবনা
বুড়িগঙ্গা নিয়ে নেওয়া উদ্যোগগুলো ইতিবাচক হলেও, এগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে কিছু বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। ১. টেকসই পরিকল্পনার অভাব অনেক সময় দেখা যায়, উচ্ছেদ অভিযান বা খনন কার্যক্রম শুরু হয় কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা সফল হয় না। নতুন স্থাপনা তৈরির মাধ্যমে পুনরায় দখল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ২. জনসচেতনতার অভাব নদী রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও ভূমিকা রাখতে হবে। বুড়িগঙ্গায় বর্জ্য না ফেলার জন্য জনগণকে আরও সচেতন করা দরকার। ৩. রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা দখলদারদের পক্ষে অবস্থান নেন, যা নদী রক্ষার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করে। প্রশাসনের আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয় ছাড়া এই পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা—এই পরিবর্তন ধীর গতিতে হলেও ইতিবাচক দিকগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সরকার, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বুড়িগঙ্গা আবারো তার হারানো গৌরব ফিরে পেতে পারে। একসময়ের স্বচ্ছ, প্রাণবন্ত বুড়িগঙ্গা যদি আবারো তার স্রোতস্বিনী রূপ ফিরে পায়, বুড়িগঙ্গার জাগরণ শুধু একটি নদী পুনরুদ্ধারের গল্প নয়, বরং এটি এক উন্নত, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।

শেষ কথা

বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা এই বিষয় সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরী, তাহলে আমাদের এই বুড়িগঙ্গা নদীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, তরুণ প্রজন্মসহ সারা পৃথিবীতে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবো, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে বুড়িগঙ্গা নদী বা পুরনো ঢাকা কেন্দ্রিক বিভিন্ন আদি ইতিহাস কে তুলে ধরতে হবে, যা খুব সহজে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তের মানুষ, আমাদের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে।

বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
বদলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা : এক নতুন আশার গল্প
0:00 0:00
1.0x