মিঠাপানির জলাভূমি নামে খ্যাত এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরে জেলেদের জালে এবারও ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। আগেও এই হাওরে ইলিশ মাছ ধরা পড়লেও অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কয়েকগুণ বেশি ইলিশ ধরা পড়েছে বলে মনে করছেন মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় জেলেরা।
এতে হাকালুকি হাওর পারের জেলেদের মধ্যে আনন্দ উল্লাস বিরাজ করছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে হাকালুকি হাওরে বেশ ইলিশ ধরা পড়েছিল। মাঝখানে আর তেমন দেখা মেলেনি। তবে এবার আবারও জেলেদের জালে অনেক ইলিশ ধরা পড়ায় তা স্থানীয় বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি হচ্ছে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও হাওরে মিঠাপানিতে ইলিশের আবাসস্থল গড়ে উঠেছে। হাকালুকি হাওর কুশিয়ারা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় নদীতে অবস্থানরত ইলিশ অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর বেশি পরিমাণ হাকালুকিতে প্রবেশ করায় ইলিশের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সম্প্রতি কুলাউড়া-বড়লেখা-চান্দগ্রাম সড়কের আছুরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় কয়েকজন জেলে হাওর থেকে ধরা বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ নিয়ে বসে আছেন। সেখানে দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছের সঙ্গে কয়েকটি ইলিশের দেখা মেলে। সেগুলোর ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম।
কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের জেলে রাহুল মিয়া, মো. উমর আলী, সুফিয়ান আহমদ জমির মিয়া, আহাদ মিয়া বলেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে হাওরে কয়েকজন মিলে বেড়জাল টেনে মাছ ধরছিলেন। এক টানে সব মাছ ওঠেনি। ৪-৫ বার জাল টেনে কয়েকটি ইলিশের দেখা মেলে। কয়েক দিন ধরে অনেকের জালেই ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে। প্রিয় কুলাউড়া।
হঠাৎ জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ায় তারা মহাখুশি। তাদের প্রত্যাশা, ইলিশের মতো এবছর দেশীয় প্রজাতির মাছেরও উৎপাদন বাড়বে।
শিক্ষার্থী ফারদিন কাওসার তানিম ও ফাহমিদুর রহমান আবির বলেন, লোকেমুখে শুনি কুলাউড়ার বিভিন্ন বাজারে দেশীয় মাছের সঙ্গে ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে। লোভ সামলাতে না পেরে স্বচক্ষে ইলিশ মাছ দেখতে কয়েকটি বাজার ঘুরেছি।
কুলাউড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ জানান, মেঘনা ও কুশিয়ার নদীর সঙ্গে হাকালুকি হাওরের সংযোগ থাকিায় প্রতি বছর হাওরে ছোট ছোট ২-৪টি ইলিশ ধরা পড়লেও এবার ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ব্যাপক ইলিশ ধরা পড়ছে। এতে জেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে।
তিনি আরো বলেন, আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢল যখন নামে তখন হাকালুকি হাওরের পানি মূলত কুশিয়ারা নদী দিয়ে পদ্মায় গিয়ে মিলিত হয়। ফলে ইলিশ মাছ প্রজননের জন্য স্রোতের বিপরীতে আসতে থাকে। আসতে আসতে তাদের শেষ স্থান হয় হাকালুকি হাওর। ফলে আগাম বন্যা হলেই হাকালুকি হাওরে ইলিশের দেখা মেলে। কয়েক বছরের মধ্যে হাকালুকিতে ইলিশ মাছের উৎপাদন রেকর্ড সৃষ্টি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা।