ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলার বিচার দাবি



শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলার বিচার দাবি
আজ সকাল ১০টায় সদর হাসপাতাল-সংলগ্ন শরীয়তপুর-ঢাকা সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক নাসির ইসলামের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তাঁরা মানববন্ধন ও কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি পালন করেছেন।

রোববার (১৭ মে) সকাল ১০টায় সদর হাসপাতাল-সংলগ্ন শরীয়তপুর-ঢাকা সড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, কর্মচারী ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন।

মানববন্ধন থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় কর্মবিরতিসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

মানববন্ধনে সিভিল সার্জন রেহান উদ্দিন বলেন, ‘চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর পরিকল্পিত সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের হামলার পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। এতে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাঁরা ডিউটি করতে ভয় পাচ্ছেন। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।’

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) শরীয়তপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক আকরাম এলাহি বলেন, ‘দায়িত্বরত চিকিৎসকের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে আমরা কালো ব্যাজ ধারণ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছি। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৫০) হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এরপর চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে রাত ১টার দিকে নিহত ব্যক্তির স্বজনসহ ৪০-৫০ জন হাসপাতালের ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে ঢুকে দায়িত্বরত চিকিৎসক নাসির ইসলামের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে মারধর করতে করতে কক্ষ থেকে বের করে আনে।

এ সময় হাসপাতালের অফিস সহায়ক এসকেন্দার ও পাঁচ আনসার সদস্য চিকিৎসককে উদ্ধার করতে গেলে তারাও হামলার শিকার হন। এতে পুরো হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গুরুতর আহত অবস্থায় ডা. নাসির ইসলামকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে শনিবার দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি ডা. নাসির ইসলামকে টেনেহিঁচড়ে কক্ষ থেকে বের করে এনে মারধর করছেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেও তিনি ব্যর্থ হন। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও হামলা অব্যাহত থাকে। একপর্যায়ে হাসপাতালের বাইরেও তাঁকে মারধর করা হয়। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।

ঘটনার পর শনিবার সকালে হাসপাতালে যান শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম এবং পুলিশ সুপার রওনক জাহান। তাঁরা হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।

এই ঘটনায় ডা. আকরাম এলাহি বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে পালং মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, মামলার পর এ পর্যন্ত ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বিষয় : হামলা জেলার খবর শরীয়তপুর ঢাকা বিভাগ হাসপাতাল শরীয়তপুর সদর চিকিৎসক

বুড়িগঙ্গা

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলার বিচার দাবি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক নাসির ইসলামের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তাঁরা মানববন্ধন ও কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি পালন করেছেন।

রোববার (১৭ মে) সকাল ১০টায় সদর হাসপাতাল-সংলগ্ন শরীয়তপুর-ঢাকা সড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, কর্মচারী ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন।

মানববন্ধন থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় কর্মবিরতিসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

মানববন্ধনে সিভিল সার্জন রেহান উদ্দিন বলেন, ‘চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর পরিকল্পিত সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের হামলার পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। এতে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাঁরা ডিউটি করতে ভয় পাচ্ছেন। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।’

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) শরীয়তপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক আকরাম এলাহি বলেন, ‘দায়িত্বরত চিকিৎসকের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে আমরা কালো ব্যাজ ধারণ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছি। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৫০) হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এরপর চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে রাত ১টার দিকে নিহত ব্যক্তির স্বজনসহ ৪০-৫০ জন হাসপাতালের ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে ঢুকে দায়িত্বরত চিকিৎসক নাসির ইসলামের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে মারধর করতে করতে কক্ষ থেকে বের করে আনে।

এ সময় হাসপাতালের অফিস সহায়ক এসকেন্দার ও পাঁচ আনসার সদস্য চিকিৎসককে উদ্ধার করতে গেলে তারাও হামলার শিকার হন। এতে পুরো হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গুরুতর আহত অবস্থায় ডা. নাসির ইসলামকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে শনিবার দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি ডা. নাসির ইসলামকে টেনেহিঁচড়ে কক্ষ থেকে বের করে এনে মারধর করছেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেও তিনি ব্যর্থ হন। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও হামলা অব্যাহত থাকে। একপর্যায়ে হাসপাতালের বাইরেও তাঁকে মারধর করা হয়। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।

ঘটনার পর শনিবার সকালে হাসপাতালে যান শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম এবং পুলিশ সুপার রওনক জাহান। তাঁরা হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।

এই ঘটনায় ডা. আকরাম এলাহি বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে পালং মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, মামলার পর এ পর্যন্ত ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলার বিচার দাবি
0:00 0:00
1.0x