লম্বাবিল সরকারি হাজী মোহাম্মদ হোসেন প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে নানা অভিযোগ
মামলা ও স্টে অর্ডারে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বাধাগ্রস্ত, অনিয়মের অভিযোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম, টেকনাফ
কক্সবাজারের টেকনাফের লম্বাবিল সরকারি হাজী মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে মামলা, প্রধান শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা, সরকারি অনুদান ও এনজিওর সহায়তা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিলের অর্থ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং নিয়মিত প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের পক্ষে মামলার ফলাফল এলেও পুনরায় তদবিরের মাধ্যমে মামলায় স্টে অর্ডার নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে সরকারি অনুদান, এনজিওর সহায়তা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। এসব অর্থের আয়-ব্যয় ও ব্যবহারের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি এসব বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে দুই দফা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগগুলোতে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় তুলে ধরে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে, অভিযোগকারী সাবেক সভাপতির সঙ্গে এক বহিরাগত শিক্ষিকার জামাই আশিষের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও গালাগালির অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তারা বিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেন ও বরাদ্দকৃত অর্থের হিসাব যাচাই, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রধান শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা, আশিষ এবং উপজেলা শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।