ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে ইরানের পাশে পাকিস্তান!



মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে ইরানের পাশে পাকিস্তান!
সংগৃহীত

ইরান ও পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবার এক নতুন মোড় নিচ্ছে। দু’দেশের ট্রানজিট আর সীমান্ত বাণিজ্যকে আরো জোরদার করতে ভেতরে ভেতরে বড় ধরনের প্রস্তুতি চলছে।

সম্প্রতি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি আকস্মিকভাবে তেহরান সফরে যান। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া এই সফর কূটনৈতিক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে।

রোববার ইরানের বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি জানিয়েছে, এই সফরে পাকিস্তানি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনির মধ্যে হওয়া উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে বাণিজ্য গতিশীল করতে দুই দেশই এখন একমত।

করাচি ও গোয়াদার বন্দর ব্যবহারের সুযোগ

এই আলোচনার সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে পাকিস্তানের নতুন ট্রানজিট পলিসি। চলতি মাসেই ইসলামাবাদ ‘ট্রানজিট গুডস থ্রু পাকিস্তান ২০২৬’ নামের একটি নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে। এর আওতায় ইরানের জন্য ছয়টি বিশেষ বাণিজ্য করিডোর চালু করা হয়েছে। এখন থেকে ইরানের পণ্য পাকিস্তানের করাচি ও গোয়াদার বন্দর ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে পারবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে সমুদ্র বাণিজ্যে ইরান যে বড় ধরনের চাপের মুখে ছিল, পাকিস্তানের এই সাহসী পদক্ষেপ তা কাটাতে কৌশলগতভাবে দারুণ সাহায্য করবে। নতুন সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র খোলার ব্যাপারেও দু’দেশের মধ্যে ইতিবাচক কথা হয়েছে।

মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ

শুধু ব্যবসাই নয়, কূটনীতিতেও পাকিস্তানের ভূমিকা এখন বেশ নজর কাড়ছে। বিশেষ করে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমাতে ইসলামাবাদ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনের পর পাকিস্তান নিজের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়িয়েছে। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইশহাক দার, সেনাপ্রধান জেনারেল অসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভির একের পর এক তেহরান সফর দু’দেশের সম্পর্কের বরফ গলার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

সব মিলিয়ে নিষেধাজ্ঞা আর আঞ্চলিক রাজনীতির নানা চাপকে পাশে ঠেলে ইরান ও পাকিস্তান এখন একে অপরের সাথে এক হয়ে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত হাত মেলানোর দিকেই এগোচ্ছে।

বিষয় : ইরান যুক্তরাষ্ট্র ইরানে মার্কিন-ইসরাইল হামলা পাকিস্তান

বুড়িগঙ্গা

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে ইরানের পাশে পাকিস্তান!

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

ইরান ও পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবার এক নতুন মোড় নিচ্ছে। দু’দেশের ট্রানজিট আর সীমান্ত বাণিজ্যকে আরো জোরদার করতে ভেতরে ভেতরে বড় ধরনের প্রস্তুতি চলছে।

সম্প্রতি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি আকস্মিকভাবে তেহরান সফরে যান। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া এই সফর কূটনৈতিক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে।

রোববার ইরানের বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি জানিয়েছে, এই সফরে পাকিস্তানি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনির মধ্যে হওয়া উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে বাণিজ্য গতিশীল করতে দুই দেশই এখন একমত।

করাচি ও গোয়াদার বন্দর ব্যবহারের সুযোগ

এই আলোচনার সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে পাকিস্তানের নতুন ট্রানজিট পলিসি। চলতি মাসেই ইসলামাবাদ ‘ট্রানজিট গুডস থ্রু পাকিস্তান ২০২৬’ নামের একটি নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে। এর আওতায় ইরানের জন্য ছয়টি বিশেষ বাণিজ্য করিডোর চালু করা হয়েছে। এখন থেকে ইরানের পণ্য পাকিস্তানের করাচি ও গোয়াদার বন্দর ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে পারবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে সমুদ্র বাণিজ্যে ইরান যে বড় ধরনের চাপের মুখে ছিল, পাকিস্তানের এই সাহসী পদক্ষেপ তা কাটাতে কৌশলগতভাবে দারুণ সাহায্য করবে। নতুন সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র খোলার ব্যাপারেও দু’দেশের মধ্যে ইতিবাচক কথা হয়েছে।

মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ

শুধু ব্যবসাই নয়, কূটনীতিতেও পাকিস্তানের ভূমিকা এখন বেশ নজর কাড়ছে। বিশেষ করে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমাতে ইসলামাবাদ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনের পর পাকিস্তান নিজের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়িয়েছে। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইশহাক দার, সেনাপ্রধান জেনারেল অসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভির একের পর এক তেহরান সফর দু’দেশের সম্পর্কের বরফ গলার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

সব মিলিয়ে নিষেধাজ্ঞা আর আঞ্চলিক রাজনীতির নানা চাপকে পাশে ঠেলে ইরান ও পাকিস্তান এখন একে অপরের সাথে এক হয়ে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত হাত মেলানোর দিকেই এগোচ্ছে।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে ইরানের পাশে পাকিস্তান!
0:00 0:00
1.0x