ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

বাঁশের সাঁকোই ৩০ গ্রামের একমাত্র ভরসা



বাঁশের সাঁকোই ৩০ গ্রামের একমাত্র ভরসা
চলাচলের একমাত্র ভরসা সাঁকো

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের পালগ্রাম-মুকুন্দপুর সড়কের ফানাই নদীর ওপর নির্মিত পাকা সেতুটি বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে তলিয়ে গেছে। এতে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ভেঙে যাওয়া সেতুর পাশেই এলাকাবাসীর অর্থায়নে নির্মিত নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোটি এখন তাদের পারাপারের একমাত্র ভরসা। তবে পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বাড়লে সাঁকোটিও তলিয়ে যায় পানির স্রোতে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে পালগ্রাম-মুকুন্দপুর সড়কের ফানাই নদীর ওপর পাকা সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় পাঁচ বছর আগে বন্যার পানির প্রবল স্রোতে সেতুটি ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেখানে নতুন সেতু নির্মাণ হয়নি। পরে এলাকাবাসীর অর্থায়নে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে কোনোরকমে যাতায়াত চালু রাখা হয়। বর্তমানেও চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় পালগ্রাম, বাগাজুরা, একিদত্তপুর, কবিরাজি, মিনারমহল, প্রতাবী, গুতগুতি, শংকরপুর, কালিটি চা-বাগান, রাঙ্গিছড়া চা-বাগান, গাজিপুর চা-বাগান, বনগাঁও, লক্ষ্মীপুর, করেরগ্রাম, রুস্তমপুর, বাবনিয়া, হাসিমপুর ও বেরীসহ প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে ছয়-সাতটি ঘনবসতিপূর্ণ গ্রামের শতাধিক স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপার করতে হচ্ছে।

স্থানীয় লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজ, মাস্টার শরাফত আলী উচ্চ বিদ্যালয়, চৌধুরী বাজার আলিম মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য শিক্ষার্থীদের এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বাঁশের সাঁকো পানিতে ডুবে গেলে তাদের যাতায়াত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

বর্তমানে সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, বিয়ে-শাদির গাড়ি, ধান-চাল, গরু-মহিষ, শাকসবজিসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। স্থানীয়দের দূরবর্তী বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।

কলেজ শিক্ষার্থী মাহিনুর মিনহাজ, অলক মালাকার, মাদরাসা শিক্ষার্থী মাইশা জান্নাত এবং স্কুল শিক্ষার্থী স্বর্ণা মল্লিক, পলক, সানি ও রনজিৎ বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী সাঁকো পারাপারে ভয় পাওয়ায় নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার আগ্রহ হারাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য এম এ করিম, পশ্চিম মুকুন্দপুর জামে মসজিদের সাবেক সেক্রেটারি রাশিদ আলী, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ক্যাম্পের মসজিদের ইমাম সারওয়ার হোসেন রাজু, সংবাদকর্মী কেফায়েত হোসেন সুলমান, সুবল মালাকার ও গৃহবধূ সেলিনা বেগম বলেন, সেতুটি নির্মাণের ১০ বছর না পেরোতেই ভেঙে পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর থেকে নতুন সেতু না হওয়ায় এলাকার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, তিনি কুলাউড়ায় নতুন যোগদান করেছেন। তাই বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। খোঁজ নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুড়িগঙ্গা

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


বাঁশের সাঁকোই ৩০ গ্রামের একমাত্র ভরসা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের পালগ্রাম-মুকুন্দপুর সড়কের ফানাই নদীর ওপর নির্মিত পাকা সেতুটি বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে তলিয়ে গেছে। এতে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ভেঙে যাওয়া সেতুর পাশেই এলাকাবাসীর অর্থায়নে নির্মিত নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোটি এখন তাদের পারাপারের একমাত্র ভরসা। তবে পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বাড়লে সাঁকোটিও তলিয়ে যায় পানির স্রোতে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে পালগ্রাম-মুকুন্দপুর সড়কের ফানাই নদীর ওপর পাকা সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় পাঁচ বছর আগে বন্যার পানির প্রবল স্রোতে সেতুটি ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেখানে নতুন সেতু নির্মাণ হয়নি। পরে এলাকাবাসীর অর্থায়নে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে কোনোরকমে যাতায়াত চালু রাখা হয়। বর্তমানেও চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় পালগ্রাম, বাগাজুরা, একিদত্তপুর, কবিরাজি, মিনারমহল, প্রতাবী, গুতগুতি, শংকরপুর, কালিটি চা-বাগান, রাঙ্গিছড়া চা-বাগান, গাজিপুর চা-বাগান, বনগাঁও, লক্ষ্মীপুর, করেরগ্রাম, রুস্তমপুর, বাবনিয়া, হাসিমপুর ও বেরীসহ প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে ছয়-সাতটি ঘনবসতিপূর্ণ গ্রামের শতাধিক স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপার করতে হচ্ছে।

স্থানীয় লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজ, মাস্টার শরাফত আলী উচ্চ বিদ্যালয়, চৌধুরী বাজার আলিম মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য শিক্ষার্থীদের এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বাঁশের সাঁকো পানিতে ডুবে গেলে তাদের যাতায়াত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

বর্তমানে সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, বিয়ে-শাদির গাড়ি, ধান-চাল, গরু-মহিষ, শাকসবজিসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। স্থানীয়দের দূরবর্তী বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।

কলেজ শিক্ষার্থী মাহিনুর মিনহাজ, অলক মালাকার, মাদরাসা শিক্ষার্থী মাইশা জান্নাত এবং স্কুল শিক্ষার্থী স্বর্ণা মল্লিক, পলক, সানি ও রনজিৎ বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী সাঁকো পারাপারে ভয় পাওয়ায় নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার আগ্রহ হারাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য এম এ করিম, পশ্চিম মুকুন্দপুর জামে মসজিদের সাবেক সেক্রেটারি রাশিদ আলী, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ক্যাম্পের মসজিদের ইমাম সারওয়ার হোসেন রাজু, সংবাদকর্মী কেফায়েত হোসেন সুলমান, সুবল মালাকার ও গৃহবধূ সেলিনা বেগম বলেন, সেতুটি নির্মাণের ১০ বছর না পেরোতেই ভেঙে পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর থেকে নতুন সেতু না হওয়ায় এলাকার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, তিনি কুলাউড়ায় নতুন যোগদান করেছেন। তাই বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। খোঁজ নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
বাঁশের সাঁকোই ৩০ গ্রামের একমাত্র ভরসা
0:00 0:00
1.0x