কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে নির্যাতন করেছেন এবং এ সময় বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক আহমেদ আকবর সোবহান ও তাঁর ছেলে আনভীরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর। শুক্রবার সাংবাদিকদের সামনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের শারীরিক অবস্থা, তাঁর ওপর হওয়া নির্যাতনসহ সার্বিক বিষয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সেগুনবাগিচার শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে তানভীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার এবং দলটির স্বাস্থ্য, মানবাধিকার ও আইন সেলের সংশ্লিষ্ট নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তানভীর বলেন, ৫ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কারাগার ও রিমান্ডে তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনের কথা বাইরে প্রকাশ করলে পরিবারের সদস্যদের গুম করে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সত্য তুলে ধরতেই সাংবাদিকদের সামনে এসেছেন বলে জানান তিনি।
বসুন্ধরা-সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তানভীর বলেন, কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর উন্নত চিকিৎসার কথা বলে তাকে ঢাকায় আনা হয়। পরে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কারাগারে নেওয়ার সময় গাড়িতে সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি ওঠেন। তাঁর দাবি, তারা তাকে নির্যাতন করেন। এ সময় তাদের একজন বসুন্ধরার প্রসঙ্গ তুলে আহমেদ আকবর সোবহান ও তাঁর ছেলে আনভীরের নাম উল্লেখ করেন। তানভীর অভিযোগ করেন, বসুন্ধরার মালিককে ‘তুই-তুকারি’ করার সাহস কোথায় পেলেন, এমন কথা বলে তাকে নির্যাতন করা হয়।
তিনি প্রশ্ন করেন, একজন কারাবন্দী ব্যক্তিকে যদি কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর লোকজন এভাবে নির্যাতন করতে পারে, তাহলে এর বিচার হবে কি না।
তানভীর আরও অভিযোগ করেন, কারাগারের একটি অন্ধকার কক্ষে নিয়ে গিয়েও তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। সেখানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সালাহউদ্দিন আম্মারের নাম উল্লেখ করে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও এভাবে নির্যাতন করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হতো বলে দাবি করেন তিনি।
কারাগারে থাকাকালে চিকিৎসা নিয়েও নানা অভিযোগ করেন তানভীর। তাঁর দাবি, অসুস্থ অবস্থায় তাকে বহুবার অজ্ঞাত ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। একপর্যায়ে হাত-পা কাঁপতে থাকলে ইনজেকশন দেওয়ার পর তাঁর ডান হাত ও ডান পা অবশ হয়ে যায়। পরে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক স্ট্রোক হয়েছে বললেও কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করে বলে দাবি করেন তিনি।
তানভীর বলেন, পরে তাকে এমআরআই করানোর জন্য নেওয়া হয়। কিন্তু মেশিনে থাকা অবস্থায় বিকট শব্দের পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কোমর থেকে পা পর্যন্ত অবশ হয়ে যায় এবং তিনি কয়েক ঘণ্টা অচেতন ছিলেন বলে দাবি করেন। পরে তাকে হাসপাতালের প্রিজন সেলে নেওয়া হয়।
কারাগারে খাবার ও চিকিৎসা নিয়েও অভিযোগ করেন এনসিপির সাবেক এই নেতা। তাঁর দাবি, তাকে পচা ও খাওয়ার অনুপযোগী খাবার দেওয়া হতো। এর ফলে তিনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক যে ওষুধ লিখে দিয়েছিলেন, সেটি না দিয়ে অজ্ঞাত ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তানভীর বলেন, বর্তমানে তাকে প্রস্রাব-পায়খানার জন্য ব্যাগ ও প্যাড ব্যবহার করতে হচ্ছে। তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে বলে জানান।
তানভীর তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে তাঁর চিকিৎসার জন্য সাংবাদিক ও দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।