স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছেন প্রায় ১৫ বছর আগে। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে শুরু হয় কামরুন্নাহারের একাকী সংগ্রাম। মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালালেও বর্তমানে শ্বাসকষ্টের কারণে সেই কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। ছোট ছেলে নুরুজ্জামান (১৬) মাকে নিয়ে একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন। মা-ছেলে দুজনই দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন।
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের নেথপাড়া এলাকার বাসিন্দা কামরুন্নাহার। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নড়বড়ে একটি ঝুপড়ি ঘরেই মা-ছেলের বসবাস। বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতর পানি পড়ে। নিরাপদ একটি ঘর না থাকায় দুর্ভোগে দিন কাটছে তাঁদের।
কামরুন্নাহারের বাবা বসতঘর নির্মাণের জন্য তাঁকে আট শতক জায়গা দিয়েছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই জায়গায় ঘর নির্মাণ করতে পারছেন না তিনি। এর আগে ঘরের জন্য একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান কামরুন্নাহার।
তিনি জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ইউএনওর মাধ্যমে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের কাছে সরকারি সহায়তায় একটি ঘরের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন।
কামরুন্নাহার বলেন, “আমি খুবই অসহায়। জায়গা আছে, কিন্তু ঘর করার মতো টাকা নেই। সরকারি সহায়তায় একটি ঘর পেলে অন্তত ছেলে নিয়ে নিরাপদে থাকতে পারব।”
স্থানীয়রা জানান, আর্থিক সংকটের পাশাপাশি মা-ছেলে দুজনই শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। এমন অবস্থায় তাঁদের জন্য একটি নিরাপদ ঘর অত্যন্ত প্রয়োজন। অসহায় পরিবারটির বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে দ্রুত একটি ঘরের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।