জন্মের পর থেকেই হৃদ্যন্ত্রে ছিদ্র নিয়ে বেড়ে উঠছে ১৩ বছরের শিশু জুয়েল মিয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে শ্বাসকষ্টও। সামান্য হাঁটাচলাতেই কষ্ট হয় তার। প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা, কিন্তু দিনমজুর বাবার সামর্থ্য না থাকায় থমকে আছে চিকিৎসা।
জুয়েল নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের কৃষ্ণেরচর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা নজরুল ইসলাম দিনমজুর এবং মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। দুই সন্তানকে নিয়ে নানার বাড়ির একটি ছোট কুঁড়েঘরে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের।
পরিবারের সদস্যরা জানান, জন্মের পর থেকেই জুয়েলের হার্টে ছিদ্র রয়েছে। বিভিন্ন সময় মানুষের সহায়তা নিয়ে চিকিৎসা করানো হলেও বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সর্বশেষ ময়মনসিংহে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন তারা।
জুয়েলের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, “দিনমজুরি করে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। ছেলের চিকিৎসার জন্য অনেকের কাছে হাত পেতেছি। এখন আর কীভাবে চিকিৎসা করাব, বুঝতে পারছি না।”
সম্প্রতি জুয়েলের চিকিৎসায় সহযোগিতা চেয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের কাছে আবেদন করেছেন পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয়রাও শিশুটির চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য বিত্তবান ও সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
পরিবারের আশা, মানবিক সহায়তা পেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে জুয়েল ফিরে পেতে পারে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ। তাদের একটাই আকুতি—অর্থের অভাবে যেন একটি শিশুর হৃদ্যন্ত্রের চিকিৎসা থেমে না যায়।