একটি খেলার মাঠ বদলে দিতে পারে একটি সমাজের চিত্র। যে মাঠে একসময় খেলতে নামার জন্য সিরিয়াল দিতে হতো, কে আগে খেলবে তা নিয়ে চলত প্রতিযোগিতা—সেই ঐতিহ্যবাহী মাঠটি এখন সংস্কারের অভাবে পরিত্যক্ত হওয়ার পথে। মাঠের মাঝখানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় পুকুর ও গর্ত। দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলা না হওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে মাঠটির প্রাণচাঞ্চল্য।
এমন পরিস্থিতিতে দুর্গাপুরের চণ্ডিগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ‘জ্ঞানের উৎস পাঠাগার’-এর প্রতিষ্ঠাতা আল রুমান হাসানসহ তাঁর সহপাঠীরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ‘জ্ঞানের উৎস পাঠাগার’-এর ওয়েবসাইট ও নিজের ফেসবুক পোস্টে মাঠ সংস্কারের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আল রুমান হাসান।
আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলায় নিয়মিত খেলাধুলা ও ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হলেও চণ্ডিগড় ইউনিয়ন যেন খেলাধুলা থেকে দূরে সরে গেছে। অথচ একসময় এই মাঠ ছিল তরুণদের খেলাধুলা, আনন্দ ও সামাজিক সম্প্রীতির অন্যতম কেন্দ্র।
তিনি বলেন, শিক্ষা ও খেলাধুলা ছাড়া একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তরুণ সমাজকে মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলার মাঠের কোনো বিকল্প নেই। মাঠের অভাবে নতুন প্রজন্ম খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
সম্প্রতি ‘জ্ঞানের উৎস পাঠাগার’-এর উদ্যোগে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথাও উল্লেখ করেন আল রুমান হাসান। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে টুর্নামেন্টটি সম্পন্ন করতে পেরেছেন। তবে আয়োজন করতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি মাসে পাঠাগারের ম্যাগাজিন, সংবাদপত্র, ওয়েবসাইট পরিচালনাসহ অন্যান্য খরচও তাঁকেই বহন করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, অর্থসংকটের কারণে চণ্ডিগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কারের জন্য জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে পারছেন না। মাঠ সংস্কারের বিষয়ে একাধিকবার বড় ভাইদের পরামর্শ নিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেননি বলে জানান তিনি।
আল রুমান হাসান বলেন, বাধ্য হয়ে ‘জ্ঞানের উৎস পাঠাগার’-এর ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিজের অনুভূতি ও মাঠ সংস্কারের দাবি তুলে ধরেছেন। তিনি ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, দুর্গাপুরের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং বিশেষ করে চণ্ডিগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলীর প্রতি মাঠটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আপনারাই তো সমাজ গড়ার কারিগর। আপনাদের চোখের সামনে আমাদের ঐতিহ্যবাহী মাঠটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত এই মাঠের সংস্কার চাই। আমরা আমাদের আগের মতো প্রাণবন্ত খেলার মাঠ ফিরে চাই।’
স্থানীয়দের মতে, একসময় খেলোয়াড়দের পদচারণায় মুখরিত থাকা মাঠটি বর্তমানে ছোট-বড় গর্ত ও পুকুরের কারণে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। মাঠটি সংস্কার করা হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়বে। নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে এলাকায় সুস্থ বিনোদন ও সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশও তৈরি হতে পারে।
এ অবস্থায় মাঠটির বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাবেক শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ ও স্থানীয়রা।