নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর ভাঙনরোধী বাঁধ নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টি, ঠিকাদারের কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না পেয়ে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার নির্মাণসামগ্রী লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছোটখাতা গ্রোয়িং বাঁধ এলাকায় তিস্তা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে চলমান একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাব-কন্ট্রাক্টর মো. আজম আলী (৪২) গত ১৮ জুলাই ডিমলা থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩৫ থেকে ৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ জুলাই দুপুর ৩টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে প্যাকেজ নম্বর DPM 24/25-26 অনুযায়ী ছোটখাতা গ্রোয়িং বাঁধ এলাকায় তিস্তা নদীর ভাঙনরোধী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স সোয়েব ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে সাব-কন্ট্রাক্ট নিয়ে কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছিলেন মো. আজম আলী।
অভিযোগে বলা হয়, কাজ শুরুর প্রস্তুতিকালে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে নির্মাণস্থলে এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে তারা ঠিকাদারের কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঠিকাদার ও শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হামলার চেষ্টা করা হয়।
পরে নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য রাখা ৫০০টি জিও ব্যাগ, ৫০টি টিউব, প্রায় ২০০ ফুট পাইপসহ আনুমানিক ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার নির্মাণসামগ্রী জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা ঠিকাদার ও শ্রমিকদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। অভিযোগে বলা হয়, চাঁদা ছাড়া কাজ চালিয়ে গেলে তাদের হত্যা করে মরদেহ তিস্তা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানোর ভয়ও দেখানো হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ছোটখাতা এলাকার এই প্রতিরক্ষা বাঁধটি তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন থেকে জনপদ, কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাণকাজ ব্যাহত হলে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগে নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন— মো. বাবু (৪৫), মো. ইমরান আলী (৪০), মো. লেবু মিয়া (৫২), মো. অহিদুজ্জামান (৪৮) ও মো. হাবিবুর রহমান (৩৫)। তাদের সবার বাড়ি ডিমলা উপজেলার ছোটখাতা (গ্রোয়িংপাড়া) এলাকায়।
ভুক্তভোগী ঠিকাদার মো. আজম আলী বলেন, "সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী রক্ষা প্রকল্পের কাজ করছি। চাঁদা না দেওয়ায় আমার নির্মাণসামগ্রী লুট করা হয়েছে এবং আমাকে ও শ্রমিকদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।"
এ বিষয়ে ডিমলা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।