ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৪৮ শিক্ষার্থী


প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৪৮ শিক্ষার্থী
নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হাতে ডিনস অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষতার স্বীকৃতি স্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১৬টি বিভাগের মোট ৪৮ জন শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিগত তিন বছরের (২০২১, ২০২২ ও ২০২৩) স্নাতক ফলাফলের ওপর এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের জন্য দুইজন শিক্ষককেও পুরস্কার প্রদান করা হয়।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। গেস্ট অব অনার হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা রাখেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ ও বাংলাদেশ ইউনেস্কোর প্রতিনিধি-অফিস প্রধান ড. সুজান ভাইজ।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য শুধু তার অবকাঠামো বা অর্জনের পরিসংখ্যানে মাপা যায় না; তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মেধাবী শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে আমরা সবসময়ই একাডেমিক উৎকর্ষ, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। ডিনস অ্যাওয়ার্ড সেই অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষেরই একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।’

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এমন কিছু শিক্ষার্থীকে সম্মানিত করছি, যারা তাদের মেধা, কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং একাডেমিক নিষ্ঠার মাধ্যমে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। তাদের এই অর্জন নিঃসন্দেহে আমাদের অনুষদের জন্য গর্বের। তবে একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য কখনোই একার অর্জন নয়। এর পেছনে থাকে শিক্ষকদের জ্ঞান, দিকনির্দেশনা ও নিরন্তর সহযোগিতা; থাকে পরিবারের ভালোবাসা, উৎসাহ ও ত্যাগ। এই সুযোগে আমি আমাদের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত জ্ঞান অনুসরণ করলে হবে না; তাদের প্রশ্ন করতে হবে, যুক্তি দিয়ে বিচার করতে হবে এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল দায়িত্ব হলো নাগরিকত্ববোধ, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা তৈরি করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু ‘টিচিং ইউনিভার্সিটি’ হিসেবে নয়, জ্ঞান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, গবেষণার মাধ্যমে নতুন চিন্তা ও তত্ত্ব সৃষ্টি করতে হবে এবং বিশ্বজ্ঞান ভাণ্ডারে বাংলাদেশের অবদান বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষার প্রসার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নেতৃত্ব দিতে হবে।

অধ্যাপক ড. তিতুমীর আরও বলেন, মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলায় সমালোচনামূলক চিন্তা ও গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানচর্চার বিকল্প নেই। উচ্চশিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের অর্থে পরিচালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার পাশাপাশি সুশাসন, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ পুরস্কার তাদের মেধা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি। তবে পুরস্কারপ্রাপ্তির সঙ্গে তাদের দায়িত্বও বেড়ে গেছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাদের আরও বেশি গবেষণা, অধ্যয়ন ও পরিশ্রম করতে হবে। সীমিত সুযোগ ও অর্থায়নের মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকরা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছেন। গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং গবেষকদের উৎসাহিত করতে ভবিষ্যতে প্রণোদনার ব্যবস্থাও করা হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, কারিকুলাম নিয়মিত পর্যালোচনা ও যুগোপযোগী করা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, শুধু ভালো ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির বিকাশও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখবে এবং উচ্চশিক্ষা শেষে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে এটাই প্রত্যাশা।

বিভাগীয় চেয়ারম্যানরা ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নাম ঘোষণা করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সকল শিক্ষক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, প্রাধ্যক্ষ ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পর্বেরও আয়োজন ছিল। বিকেলে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উন্মুক্ত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

২০২১ সাল: ইশতিয়াক আহমেদ, মো. হাসান আল আজাদ, মো. হিমেল রহমান, ব্রতোতি সাহা, নাহিয়ান মাশিয়াত এনায়েত, ফারিতা বিনতে হান্নান, ইসনা হক শেওতি, রাবেয়া আক্তার সাথী, নওশিন জারিন প্রাপ্তি, লুদমিলা সারাহ খান, ফাহিন রহমান অঙ্কিতা, নিসর্গ নিঝুম, রাহনুমা বিনতে মালেক ও শেখ রাশিদ বিন ইসলাম।

২০২২ সাল: সারারা জাফরিন, ফয়সাল কাইয়ুম, সুরাইয়া জেবিন পাপিয়া, খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান, লিংকন দাস, ফারাহ জাহান শুচি, মো. মহিউদ্দিন খান, মো. আসিফুর রহমান, মো. শাহাদাত, মেহেদি হাসান রিমন, সারাফ ওয়ামিয়া আহমেদ, ফারিহা আহমেদ, বিক্রমাদিত্য, লামিয়া আফজাল, ফাহমিদা মতিন মিম, অনিকা আফিয়া জাহান ও মো. ইফরাত জাহান ভূঁইয়া শাফিন।

২০২৩ সাল: লুবাবা বিনত হালিম, মো. মাজহার উদ্দিন ভূঁইয়া, ফারিয়া ইসলাম, রেশমি, আজরা হুমায়রা, মোসাম্মৎ সন্ধ্যা, নূর নিশাত আঞ্জুম, প্রাপ্তি রায়, তানজিমা সাবরিন, জেরিন রাফিজা, এ. আর. তাহসিন জাহান, মহসিনা বিনতে হারুন, এস. এস. সালাহ উদ্দিন আকাশ, নুসাইবা বিনতে মোরশেদ, আফরিন জাহান এনা মনি, শারমিন জাহান মিম ও মো. রবিউল ইসলাম হৃদয়।

পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই শিক্ষক হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ড. মোহাম্মদ তারেক হাসান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ড. লিপন কুমার মণ্ডল।

বিষয় : শিক্ষা ঢাবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

বুড়িগঙ্গা

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৪৮ শিক্ষার্থী

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষতার স্বীকৃতি স্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১৬টি বিভাগের মোট ৪৮ জন শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিগত তিন বছরের (২০২১, ২০২২ ও ২০২৩) স্নাতক ফলাফলের ওপর এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের জন্য দুইজন শিক্ষককেও পুরস্কার প্রদান করা হয়।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। গেস্ট অব অনার হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা রাখেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ ও বাংলাদেশ ইউনেস্কোর প্রতিনিধি-অফিস প্রধান ড. সুজান ভাইজ।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য শুধু তার অবকাঠামো বা অর্জনের পরিসংখ্যানে মাপা যায় না; তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মেধাবী শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে আমরা সবসময়ই একাডেমিক উৎকর্ষ, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। ডিনস অ্যাওয়ার্ড সেই অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষেরই একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।’

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এমন কিছু শিক্ষার্থীকে সম্মানিত করছি, যারা তাদের মেধা, কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং একাডেমিক নিষ্ঠার মাধ্যমে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। তাদের এই অর্জন নিঃসন্দেহে আমাদের অনুষদের জন্য গর্বের। তবে একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য কখনোই একার অর্জন নয়। এর পেছনে থাকে শিক্ষকদের জ্ঞান, দিকনির্দেশনা ও নিরন্তর সহযোগিতা; থাকে পরিবারের ভালোবাসা, উৎসাহ ও ত্যাগ। এই সুযোগে আমি আমাদের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত জ্ঞান অনুসরণ করলে হবে না; তাদের প্রশ্ন করতে হবে, যুক্তি দিয়ে বিচার করতে হবে এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল দায়িত্ব হলো নাগরিকত্ববোধ, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা তৈরি করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু ‘টিচিং ইউনিভার্সিটি’ হিসেবে নয়, জ্ঞান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, গবেষণার মাধ্যমে নতুন চিন্তা ও তত্ত্ব সৃষ্টি করতে হবে এবং বিশ্বজ্ঞান ভাণ্ডারে বাংলাদেশের অবদান বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষার প্রসার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নেতৃত্ব দিতে হবে।

অধ্যাপক ড. তিতুমীর আরও বলেন, মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলায় সমালোচনামূলক চিন্তা ও গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানচর্চার বিকল্প নেই। উচ্চশিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের অর্থে পরিচালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার পাশাপাশি সুশাসন, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ পুরস্কার তাদের মেধা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি। তবে পুরস্কারপ্রাপ্তির সঙ্গে তাদের দায়িত্বও বেড়ে গেছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাদের আরও বেশি গবেষণা, অধ্যয়ন ও পরিশ্রম করতে হবে। সীমিত সুযোগ ও অর্থায়নের মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকরা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছেন। গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং গবেষকদের উৎসাহিত করতে ভবিষ্যতে প্রণোদনার ব্যবস্থাও করা হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, কারিকুলাম নিয়মিত পর্যালোচনা ও যুগোপযোগী করা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, শুধু ভালো ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির বিকাশও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখবে এবং উচ্চশিক্ষা শেষে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে এটাই প্রত্যাশা।

বিভাগীয় চেয়ারম্যানরা ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নাম ঘোষণা করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সকল শিক্ষক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, প্রাধ্যক্ষ ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পর্বেরও আয়োজন ছিল। বিকেলে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উন্মুক্ত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

২০২১ সাল: ইশতিয়াক আহমেদ, মো. হাসান আল আজাদ, মো. হিমেল রহমান, ব্রতোতি সাহা, নাহিয়ান মাশিয়াত এনায়েত, ফারিতা বিনতে হান্নান, ইসনা হক শেওতি, রাবেয়া আক্তার সাথী, নওশিন জারিন প্রাপ্তি, লুদমিলা সারাহ খান, ফাহিন রহমান অঙ্কিতা, নিসর্গ নিঝুম, রাহনুমা বিনতে মালেক ও শেখ রাশিদ বিন ইসলাম।

২০২২ সাল: সারারা জাফরিন, ফয়সাল কাইয়ুম, সুরাইয়া জেবিন পাপিয়া, খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান, লিংকন দাস, ফারাহ জাহান শুচি, মো. মহিউদ্দিন খান, মো. আসিফুর রহমান, মো. শাহাদাত, মেহেদি হাসান রিমন, সারাফ ওয়ামিয়া আহমেদ, ফারিহা আহমেদ, বিক্রমাদিত্য, লামিয়া আফজাল, ফাহমিদা মতিন মিম, অনিকা আফিয়া জাহান ও মো. ইফরাত জাহান ভূঁইয়া শাফিন।

২০২৩ সাল: লুবাবা বিনত হালিম, মো. মাজহার উদ্দিন ভূঁইয়া, ফারিয়া ইসলাম, রেশমি, আজরা হুমায়রা, মোসাম্মৎ সন্ধ্যা, নূর নিশাত আঞ্জুম, প্রাপ্তি রায়, তানজিমা সাবরিন, জেরিন রাফিজা, এ. আর. তাহসিন জাহান, মহসিনা বিনতে হারুন, এস. এস. সালাহ উদ্দিন আকাশ, নুসাইবা বিনতে মোরশেদ, আফরিন জাহান এনা মনি, শারমিন জাহান মিম ও মো. রবিউল ইসলাম হৃদয়।

পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই শিক্ষক হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ড. মোহাম্মদ তারেক হাসান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ড. লিপন কুমার মণ্ডল।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৪৮ শিক্ষার্থী
0:00 0:00
1.0x