জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেশের প্রথম বেসরকারি মহিলা কলেজ হিসেবে পরিচিত সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকে অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, ইতিহাস এবং এর শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করেন অতিথিরা। 'ফিরে দেখা: রক্তাক্ত জুলাই-২০২৪' শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও কলেজের বিদ্যুৎসাহী সদস্য অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান। তিনি বলেন, 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে গেলেও তাঁর অনুসারীরা এখনো সক্রিয় রয়েছে। সুযোগ পেলে তারা প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তাই গণতান্ত্রিক চেতনা ও আন্দোলনের আদর্শ ধারণ করে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।' তিনি আরও বলেন, 'এই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং তিনি নিজেও আন্দোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।'
প্রবন্ধ উপস্থাপনে ড. নাছির আহমাদ বলেন, '২০২৪ সালের ৫ জুন আদালতের রায়ে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে দেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ১ জুলাই 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' গঠিত হলে আন্দোলন নতুন মাত্রা লাভ করে।' তিনি আরও বলেন, '১৪ জুলাই পর্যন্ত আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্দোলনকারীদের 'রাজাকারের নাতি-নাতনি' হিসেবে আখ্যায়িত করার পর আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানি এবং হাজারো মানুষের আহত হওয়ার মধ্য দিয়ে গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হন এবং তাঁর দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে।'
বিশেষ আলোচক হিসেবে কলেজের বিদ্যুৎসাহী সদস্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আরিফ মাহমুদ বলেন, 'আন্দোলনের সময় তৎকালীন সরকার যে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটিয়েছিল, তা বাংলাদেশের মানুষ কখনো ভুলবে না। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে দেশে যেন কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।' অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক কানিজ সালমা।
সভায় আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি তুলে ধরেন। এছাড়াও কলেজে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন একটি বহুতল ভবনের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।