ঢাকা    মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

গোদাগাড়ীতে ৪০০ বোতল ‘এসকাফ’ উদ্ধারের দাবি পুলিশের, ঘুষ বাণিজ্য ও মাদক গায়েবের অভিযোগে তোলপাড়



গোদাগাড়ীতে ৪০০ বোতল ‘এসকাফ’ উদ্ধারের দাবি পুলিশের, ঘুষ বাণিজ্য ও মাদক গায়েবের অভিযোগে তোলপাড়

ব্যুরো চিফ রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অভিযান চালিয়ে ৪০০ বোতল অবৈধ মাদকদ্রব্য ‘এসকাফ’ (ESkuf) উদ্ধার এবং দুই মাদক কারবারিকে পলাতক আসামি দেখিয়ে মামলা দায়ের করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তবে এ অভিযানের পর থেকেই ঘটনাটিকে ঘিরে উঠেছে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, উদ্ধারকৃত মাদকের একটি বড় অংশ গোপন করা হয়েছে, ঘুষের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং প্রকৃত ঘটনাস্থল পরিবর্তন করে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ডিবির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাহবুব।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট ২০২৬ রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির এসআই (নিরস্ত্র) মো. আশাফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল গোদাগাড়ী থানার জৈটাবটতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের দাবি, সেখানে মো. মাসুদ রানার বাড়ির পশ্চিম পাশে একটি সিলভার-গোল্ডেন রঙের প্রাইভেটকারে দুই মাদক কারবারি অবস্থান করছিল। ডিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা গাড়ি নিয়ে নাচোলের দিকে পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া দুটি প্লাস্টিকের বস্তা তল্লাশি করে ৪০০ বোতল এসকাফ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনা মসজিদ গ্রামের রুবেল হক (২৬) এবং কমলাকান্তি রাণীহাটি গ্রামের কামিরুলকে (২৫) পলাতক আসামি দেখিয়ে গোদাগাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

তবে পুলিশের এই বর্ণনার সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল নেই বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, ঘটনাটি গোদাগাড়ীর জৈটাবটতলায় নয়; চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি গাড়ি থেকে মাদক উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে ঘটনাস্থল পরিবর্তন করে গোদাগাড়ীতে অভিযান দেখানো হয় বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি থেকে প্রায় এক হাজার বোতল এসকাফ উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু মামলায় মাত্র ৪০০ বোতল দেখানো হয়েছে। বাকি ৬০০ বোতল গোপনে সরিয়ে ফেলা বা বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ছাড়া আহত অবস্থায় আটক এক ব্যক্তিকে প্রায় চার লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, পরবর্তী সময়ে পুরো ঘটনাকে নতুনভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করা হয়।

একজন দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্যকে ঘিরে মাদক গায়েব, ঘুষ বাণিজ্য ও ঘটনাস্থল পরিবর্তনের মতো অভিযোগ ওঠায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পুলিশের প্রতি জনআস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির এএসআই মাহবুব বলেন, “আমি ছুটিতে আছি। এ বিষয়ে কিছু জানি না।” তবে স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।

অন্যদিকে রাজশাহী জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “গোদাগাড়ীর জৈটাবটতলা এলাকা থেকে ৪০০ বোতল এসকাফ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।” তবে ঘুষ গ্রহণ, আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া কিংবা গোমস্তাপুরে অভিযানের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান।

বুড়িগঙ্গা

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


গোদাগাড়ীতে ৪০০ বোতল ‘এসকাফ’ উদ্ধারের দাবি পুলিশের, ঘুষ বাণিজ্য ও মাদক গায়েবের অভিযোগে তোলপাড়

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ব্যুরো চিফ রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অভিযান চালিয়ে ৪০০ বোতল অবৈধ মাদকদ্রব্য ‘এসকাফ’ (ESkuf) উদ্ধার এবং দুই মাদক কারবারিকে পলাতক আসামি দেখিয়ে মামলা দায়ের করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তবে এ অভিযানের পর থেকেই ঘটনাটিকে ঘিরে উঠেছে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, উদ্ধারকৃত মাদকের একটি বড় অংশ গোপন করা হয়েছে, ঘুষের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং প্রকৃত ঘটনাস্থল পরিবর্তন করে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ডিবির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাহবুব।


রাজশাহী জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট ২০২৬ রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির এসআই (নিরস্ত্র) মো. আশাফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল গোদাগাড়ী থানার জৈটাবটতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের দাবি, সেখানে মো. মাসুদ রানার বাড়ির পশ্চিম পাশে একটি সিলভার-গোল্ডেন রঙের প্রাইভেটকারে দুই মাদক কারবারি অবস্থান করছিল। ডিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা গাড়ি নিয়ে নাচোলের দিকে পালিয়ে যায়।


পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া দুটি প্লাস্টিকের বস্তা তল্লাশি করে ৪০০ বোতল এসকাফ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনা মসজিদ গ্রামের রুবেল হক (২৬) এবং কমলাকান্তি রাণীহাটি গ্রামের কামিরুলকে (২৫) পলাতক আসামি দেখিয়ে গোদাগাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।


তবে পুলিশের এই বর্ণনার সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল নেই বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, ঘটনাটি গোদাগাড়ীর জৈটাবটতলায় নয়; চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি গাড়ি থেকে মাদক উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে ঘটনাস্থল পরিবর্তন করে গোদাগাড়ীতে অভিযান দেখানো হয় বলে অভিযোগ তাদের।


স্থানীয় সূত্রের দাবি, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি থেকে প্রায় এক হাজার বোতল এসকাফ উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু মামলায় মাত্র ৪০০ বোতল দেখানো হয়েছে। বাকি ৬০০ বোতল গোপনে সরিয়ে ফেলা বা বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।


এ ছাড়া আহত অবস্থায় আটক এক ব্যক্তিকে প্রায় চার লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, পরবর্তী সময়ে পুরো ঘটনাকে নতুনভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করা হয়।


একজন দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্যকে ঘিরে মাদক গায়েব, ঘুষ বাণিজ্য ও ঘটনাস্থল পরিবর্তনের মতো অভিযোগ ওঠায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পুলিশের প্রতি জনআস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির এএসআই মাহবুব বলেন, “আমি ছুটিতে আছি। এ বিষয়ে কিছু জানি না।” তবে স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।


অন্যদিকে রাজশাহী জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “গোদাগাড়ীর জৈটাবটতলা এলাকা থেকে ৪০০ বোতল এসকাফ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।” তবে ঘুষ গ্রহণ, আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া কিংবা গোমস্তাপুরে অভিযানের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
গোদাগাড়ীতে ৪০০ বোতল ‘এসকাফ’ উদ্ধারের দাবি পুলিশের, ঘুষ বাণিজ্য ও মাদক গায়েবের অভিযোগে তোলপাড়
0:00 0:00
1.0x