গাজীপুরের বহুল আলোচিত ক্লু-লেস ও নৃশংস নাইম মাঝি হত্যা মামলার দীর্ঘদিন ধরে পলাতক প্রধান আসামি হাসিবুল হাসান নাজমুল (২১)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৪)। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার আশুলিয়ার জিরানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে র্যাব-৪, সিপিসি-২ (নবীনগর ক্যাম্প)-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আরমান হোসেন হৃদয় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রফতারকৃত সে, গাজীপুর মহানগরের সদর থানার সামন্তপুর পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা হাসিবুল হাসান নাজমুল ।
র্যাব সুত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর গাজীপুর সদর থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার তদন্তে এবং সহ-আসামিদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে হাসিবুল হাসান নাজমুলকে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার অনুরোধে র্যাব-৪ অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আশুলিয়ার জিরানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত নাইম মাঝি (২৪) পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম মহানগরের কর্ণফুলী এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতেন। ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর বিকেলে কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি।
পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে ১৫ অক্টোবর কর্ণফুলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিন দিন পর কর্ণফুলী থানা পুলিশের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, গাজীপুর সদর থানায় উদ্ধার হওয়া একটি অজ্ঞাতনামা মরদেহের সঙ্গে নাইমের বর্ণনার মিল রয়েছে। পরে গাজীপুরে গিয়ে পুলিশের তোলা ছবি দেখে স্বজনরা মরদেহটি নাইম মাঝির বলে শনাক্ত করেন।
পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের বিভৎস চিত্র উঠে আসে। মরদেহের দুই হাত ও দুই পা নাইলনের রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ছাড়া বাকি সব আঙুল কেটে ফেলা হয়েছিল। ডান চোখ, কপাল ও বুকে আঘাতের চিহ্ন ছিল, মুখ থেঁতলানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এছাড়া পুরুষাঙ্গে তার পেঁচানো ছিল এবং মরদেহের পাশে একটি রক্তমাখা চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গাজীপুর সদর থানায় হত্যা, আলামত গোপন এবং সংঘবদ্ধভাবে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ তদন্তের একপর্যায়ে সহ-আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নাজমুলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে র্যাব-৪, সিপিসি-২ (নবীনগর ক্যাম্প)-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আরমান হোসেন হৃদয় বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত নাজমুল হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে গাজীপুর সদর থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ পলাতক থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।