ঢাকা    রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

কালিয়াকৈরে দফায় দফায় হামলা-হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন



কালিয়াকৈরে দফায় দফায় হামলা-হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

বিশেষ প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাকের আইস মার্কেট এলাকায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক যুবক ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর দফায় দফায় হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ওই যুবকের এক হাত ভেঙে যাওয়াসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আহত যুবকের মা মোসাঃ ইয়াসমিন বেগম।

শনিবার (২২ আগস্ট) আইস মার্কেট এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইয়াসমিন বেগম অভিযোগ করেন, প্রায় দুই বছর আগে তার ছেলে ইয়াসিন আরাফাত ইমন (৩২) সনিয়া নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। ইমনের পূর্বের সংসার ও সন্তান থাকার বিষয়টি জানার পরও ওই বিয়ে হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে দাম্পত্য কলহের জেরে প্রায় ছয় মাস আগে সনিয়া নিজেই ইমনকে তালাক দেন বলে জানান ইয়াসমিন।

ইয়াসমিনের অভিযোগ, বিচ্ছেদের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমন ও তার বর্তমান স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে অনধিকার প্রবেশ করে বিভিন্ন ধরনের কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, মন্তব্য ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সনিয়া বা তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

লিখিত বক্তব্যে ইয়াসমিন আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে আইস মার্কেট এলাকায় গাড়ি পার্কিংয়ের সময় ইমন মুঠোফোনে তার বর্তমান স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় সনিয়ার মা ঘটনাটি ভুল বুঝে তার ছেলে ফিরোজকে ডেকে আনেন। পরে ফিরোজ ও তার মা ইমনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে ইমনের একটি হাত ভেঙে যায়। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে সৌরভ নামের আরেক যুবকও আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সফিপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এরপর হামলার কারণ জানতে ইমনের বাবা আমির হোসেন সনিয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে ফিরোজ ও শাহেদের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন ইয়াসমিন। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে তুহিন, আলমসহ পরিবারের আরও কয়েকজন আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।

ইয়াসমিনের অভিযোগ, পরদিন শুক্রবার দুপুরে শাহেদ, ইসমাইল, কাশেম ও আসিফের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে ইমন ও তার ছোট ভাইকে খুঁজতে থাকে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ এবং এলাকা ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বাইরে বের হলে সবাইকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া ওই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে আহত স্বজনদের হাসপাতালে দেখে ফেরার পথে আইস মার্কেট মসজিদের সামনে তাদের বহনকারী গাড়ি ঘিরে ধরার চেষ্টা করা হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। পরে চালক দ্রুত গাড়ি ঘুরিয়ে বিকল্প সড়ক দিয়ে তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান বলে জানান ইয়াসমিন।

সংবাদ সম্মেলনে ইয়াসমিন বেগম বলেন, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির কারণে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার, আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনধিকার প্রবেশ ও অপপ্রচারের অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার পুলিশের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ জানায়, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুড়িগঙ্গা

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


কালিয়াকৈরে দফায় দফায় হামলা-হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিশেষ প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন


গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাকের আইস মার্কেট এলাকায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক যুবক ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর দফায় দফায় হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ওই যুবকের এক হাত ভেঙে যাওয়াসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আহত যুবকের মা মোসাঃ ইয়াসমিন বেগম।


শনিবার (২২ আগস্ট) আইস মার্কেট এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইয়াসমিন বেগম অভিযোগ করেন, প্রায় দুই বছর আগে তার ছেলে ইয়াসিন আরাফাত ইমন (৩২) সনিয়া নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। ইমনের পূর্বের সংসার ও সন্তান থাকার বিষয়টি জানার পরও ওই বিয়ে হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে দাম্পত্য কলহের জেরে প্রায় ছয় মাস আগে সনিয়া নিজেই ইমনকে তালাক দেন বলে জানান ইয়াসমিন।


ইয়াসমিনের অভিযোগ, বিচ্ছেদের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমন ও তার বর্তমান স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে অনধিকার প্রবেশ করে বিভিন্ন ধরনের কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, মন্তব্য ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সনিয়া বা তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


লিখিত বক্তব্যে ইয়াসমিন আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে আইস মার্কেট এলাকায় গাড়ি পার্কিংয়ের সময় ইমন মুঠোফোনে তার বর্তমান স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় সনিয়ার মা ঘটনাটি ভুল বুঝে তার ছেলে ফিরোজকে ডেকে আনেন। পরে ফিরোজ ও তার মা ইমনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে ইমনের একটি হাত ভেঙে যায়। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে সৌরভ নামের আরেক যুবকও আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সফিপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন।


এরপর হামলার কারণ জানতে ইমনের বাবা আমির হোসেন সনিয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে ফিরোজ ও শাহেদের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন ইয়াসমিন। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে তুহিন, আলমসহ পরিবারের আরও কয়েকজন আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।


ইয়াসমিনের অভিযোগ, পরদিন শুক্রবার দুপুরে শাহেদ, ইসমাইল, কাশেম ও আসিফের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে ইমন ও তার ছোট ভাইকে খুঁজতে থাকে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ এবং এলাকা ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বাইরে বের হলে সবাইকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


এ ছাড়া ওই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে আহত স্বজনদের হাসপাতালে দেখে ফেরার পথে আইস মার্কেট মসজিদের সামনে তাদের বহনকারী গাড়ি ঘিরে ধরার চেষ্টা করা হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। পরে চালক দ্রুত গাড়ি ঘুরিয়ে বিকল্প সড়ক দিয়ে তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান বলে জানান ইয়াসমিন।


সংবাদ সম্মেলনে ইয়াসমিন বেগম বলেন, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির কারণে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার, আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।


এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনধিকার প্রবেশ ও অপপ্রচারের অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।


অভিযোগের বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার পুলিশের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ জানায়, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
কালিয়াকৈরে দফায় দফায় হামলা-হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
0:00 0:00
1.0x