ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাঁচামাটিয়া নদী দখল, দূষণ ও কচুরিপানার জঞ্জালে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। নদীর বুকজুড়ে জমে থাকা কচুরিপানা মশার বংশবিস্তারের বড় কেন্দ্র হয়ে ওঠায় নদীতীরবর্তী হাজারো মানুষ দিনরাত মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আবেদন জানালেও নদী পরিষ্কার বা মশা নিধনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ সেতু থেকে পশ্চিমে থানা পর্যন্ত নদীর বিস্তীর্ণ অংশ কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। কোথাও কোথাও পানির অস্তিত্বই চোখে পড়ে না। স্থির ও পচা পানিতে জন্ম নেওয়া অসংখ্য মশার কারণে নদীপাড়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
নদীপাড়ের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, “দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই মশার কামড়ে অতিষ্ঠ থাকতে হয়। সন্ধ্যা হলেই উপদ্রব অসহনীয় হয়ে ওঠে। পৌরসভা শহরের বিভিন্ন সড়কে ফগার মেশিন চালালেও মশার মূল উৎপত্তিস্থল নদীপাড়ে কখনো ওষুধ ছিটানো হয় না। আমরা কি শুধু কর দেওয়ার জন্য?”
স্থানীয় বাসিন্দা শামছুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, কাঁচামাটিয়া নদী উপজেলার উচাখিলা, তারুন্দিয়া, বড়হিত, ঈশ্বরগঞ্জ, সোহাগী ও জাটিয়া—এই ছয়টি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। একসময় নদীটি ছিল মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকার অন্যতম উৎস। কিন্তু দখল, মানবসৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা ও নাব্যতা হারানোর কারণে নদীটি এখন প্রায় মৃতপ্রায়।
তিনি বলেন, নদীতে স্রোত না থাকায় কচুরিপানা জমে বিশাল জটলার সৃষ্টি হয়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মশার বংশবিস্তারও আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
নদীপাড়ের প্রায় দেড় হাজার পরিবারের দাবি, লোক দেখানো ফগিং কার্যক্রমের পরিবর্তে দ্রুত নদীর কচুরিপানা অপসারণ, মশা নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী খননের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হোক।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, “কাঁচামাটিয়া নদীর কচুরিপানা পরিষ্কারের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, “নদীর কচুরিপানা ও জঞ্জাল অপসারণের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। খুব শিগগিরই দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হবে। এতে স্থানীয়রা মশার উপদ্রব থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে আশা করছি।”