‘শান্তিতে বিনিয়োগ করুন-সকলের জন্য, সর্বত্র, প্রতিদিন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন, শান্তি র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা পিএফজি, ওয়াইপিএজি ও ওয়েবের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। প্রথমে উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে একটি শান্তি র্যালি বের করা হয়।
র্যালিটি ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালি শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ও এর সামাজিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পিএফজির কো-অর্ডিনেটর সাইফুল ইসলাম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পিএফজির অ্যাম্বাসেডর একেএম আতিকুর রাজ্জাক ভূইয়া হীরা, অ্যাম্বাসেডর হাবিবুর রহমান হাবিব, পিএফজি সদস্য ও উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালি হামিদ, সদস্য ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মমতাজ বেগম, সদস্য আব্দুল্লাহ আল নোমান, ওয়াইপিএজি সদস্য ইশতিয়াক আহমেদ প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শান্তি কোনো বিমূর্ত ধারণা নয় এবং কেবল সংঘাতের সাময়িক অনুপস্থিতির নামও শান্তি নয়। সমাজে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক সাম্য এবং প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শান্তি প্রতিষ্ঠার অর্থ শুধু সংঘাত এড়িয়ে চলা নয়; বরং অর্থনৈতিক অগ্রগতি, গণতান্ত্রিক রূপান্তর, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সবার জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করাও এর অংশ।
তারা আরও বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা ছাড়া একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনসহ সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।
আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তারা শান্তিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিভেদ ও সহিংসতার পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতা, সংলাপ ও সম্প্রীতির মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।