প্রায় ১৪ বছরের বিরতি ভেঙে ‘আখরি সওয়াল’ সিনেমার মাধ্যমে আবারও বড়পর্দায় ফিরেছেন বলিউড অভিনেত্রী সমীরা রেড্ডি। প্রত্যাবর্তনের পরই ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন তিনি। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সমীরা জানান, বিনোদন জগতে পা রাখার পর নিজের শারীরিক গঠন ও গায়ের রং নিয়ে দীর্ঘদিন হীনম্মন্যতায় ভুগতে হয়েছে তাঁকে। এমনকি পর্দায় আরও আকর্ষণীয় দেখাতে শরীরের বিভিন্ন অংশ বড় করে দেখানোর জন্যও তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
সমীরা জানান, ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমা ‘ম্যায়নে দিল তুঝকো দিয়া’-তে অভিনয়ের সময় মেকআপের মাধ্যমে তাঁর গায়ের রং ফর্সা করে দেখানো হতো। মুখের রঙের সঙ্গে শরীরের রং মিলিয়ে রাখতে পুরো শরীরেই প্রসাধনী ব্যবহার করতে হতো।
এ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “শুধু সিনেমাতেই নয়, অনেক নারী নিজের পরিবারেও বৈষম্যের শিকার হন। বাবা-মা বা শ্বশুরবাড়ির লোকজন বলেন, ‘তুমি খুব কালো’ বা ‘খুব মোটা’। কিন্তু সৌন্দর্যের সংজ্ঞা ঠিক করে দিয়েছে কে?”
অভিনেত্রী জানান, নিজের চেহারা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠতে তাঁর দুই দশকেরও বেশি সময় লেগেছে। তিনি বলেন, “প্রায় ২০ বছর ধরে আমি প্যাডযুক্ত ব্রা, নিতম্ব বড় দেখানোর প্যাড এবং রঙিন কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেছি।”
সমীরার দাবি, ক্যারিয়ারের শুরুতে নারী পরিচালক ও পোশাক ডিজাইনাররাও তাঁর শরীর নিয়ে কটাক্ষ করতেন। তিনি বলেন, “ডিজাইনাররা বলতেন, আমার চেহারা নিয়ে কিছু করতে হবে। তাই প্রায় সব পোশাকেই প্যাডযুক্ত ব্রা রাখা হতো। আমাকে বারবার বলা হতো, ‘আর কত প্যাড ব্যবহার করবে, এবার কিছু একটা করো।’”
তিনি আরও বলেন, “৩০ বছর বয়স পর্যন্ত আমি বিশ্বাস করতাম, আমি যথেষ্ট ফর্সা নই, আমার চোখ হালকা রঙের নয়, আমি যথেষ্ট লম্বাও নই। নায়ক খাটো হওয়ায় আমাকে কুঁজো হয়ে হাঁটতেও বলা হতো। এখন বুঝি, এগুলোর কোনোটাই সমস্যা ছিল না। কিন্তু তখন আমাকে এমনভাবে ভাবতে বাধ্য করা হয়েছিল, যাতে আমার মধ্যে হীনম্মন্যতা তৈরি হয়।”