‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস এক অর্থে গণতন্ত্র পুনরুত্থান দিবস’-জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন এ কথা বলেছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, জুলাই একদিকে আনন্দঘন, অন্যদিকে বেদনাবিধুর। ‘জুলাই মানে সন্তানহারা মা-বাবার বুকফাটা কান্না; জুলাই মানে ভাইহারা বোন আর বোনহারা ভাইয়ের কান্না। পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস হলো নিজের জীবন। সময়ের প্রয়োজনে দেশের জন্য এ দেশের জনগণ নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। জুলাইয়ের শহিদরা জীবন দিয়ে মৃত্যুকে জয় করেছেন।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ছাত্র-শিক্ষক, শ্রমিক-জনতা সবাই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসন থেকে মুক্তি চেয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সার্বজনীন আন্দোলনে রূপ নেওয়ার কারণেই ফ্যাসিস্ট বিদায় নিতে বাধ্য হয়।’
উপাচার্য বলেন, ‘অনেক ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে সবার সহযোগিতায় সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে হবে। আমরা যেন বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পারি, সে জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। তবেই জুলাইয়ের অর্জন সার্থক হবে।’
বক্তব্যের শুরুতে জুলাইসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে দেশের জন্য আত্মাহুতি দেওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ করেন উপাচার্য। তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়াকেও স্মরণ করেন তিনি।
এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিজয় র্যালি বের হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জুলাই স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে নির্মিতব্য প্রস্তাবিত ‘জুলাই সোপানে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপাচার্য।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার এবং আইন অনুষদের ডিন মুহাম্মদ ইরফান আজিজ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন এবং ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল। স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম।
এ ছাড়া ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রায়হানা আক্তার, কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি হারুনুর রশিদ, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান ও সদস্যসচিব মামুন সরকারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি তুলে ধরেন
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।