ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

জবির আবাসন প্রকল্পে বদল, ১,৭০০ থেকে কমে ৬০০ শিক্ষার্থী



জবির আবাসন প্রকল্পে বদল, ১,৭০০ থেকে কমে ৬০০ শিক্ষার্থী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আবাসন সংকট নিরসনে কেরানীগঞ্জের ৭ একর জমিতে প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন নির্মাণে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনের মুখে নেওয়া ওই প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়নি। এরই মধ্যে অস্থায়ী আবাসনের পরিকল্পনা পরিবর্তন করে একই অর্থে ১০ তলা স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী নতুন ভবনে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা হবে। ফলে দ্রুত আবাসন সংকট নিরসনের জন্য নেওয়া প্রকল্পের ধরন পরিবর্তন এবং ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে জবির আবাসন সংকট নিরসনে অতিরিক্ত ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সাত একর জমিতে অস্থায়ী আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। সে সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়।

আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে ২০২৫ সালের মে মাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। ১৪ মে শুরু হওয়া আন্দোলনে আবাসন সংকটের পাশাপাশি ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন বৃত্তি, পূর্ণাঙ্গ বাজেট অনুমোদন এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও তোলা হয়। আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৬ মে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। পরে কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সাত একর জমিতে দ্রুত অস্থায়ী আবাসন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের পরিকল্পনা ছিল এবং অস্থায়ী টিনশেড আবাসনের একটি প্রাথমিক নকশাও প্রস্তুত করা হয়েছিল।

তবে প্রায় এক বছর পার হলেও সেই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। এর পরিবর্তে গত ২৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে প্রকাশিত ই-টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিতে ১০ তলাবিশিষ্ট ছাত্রহল নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন প্রায় সাত একর জমির মধ্যে মাত্র ৫৪ শতক জমির ওপর ভবনটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থাৎ পুরো জমির তুলনায় অপেক্ষাকৃত ছোট একটি অংশে ভবন নির্মাণ করা হবে, আর অবশিষ্ট বড় অংশ দীর্ঘ সময় অনাবাদী অবস্থায় থাকবে।

প্রকল্প পরিবর্তনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, "আমাদের বলা হয়েছিল তিন মাসের মধ্যে থাকার ব্যবস্থা হবে। এখন সেটি কয়েক বছরের প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। বর্তমান শিক্ষার্থীরা এর সুবিধা পাবেন কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।" তিনি আরও বলেন, "আমাদের চতুর্থ বর্ষ চলছে। এই সময়ে অস্থায়ী হল হলে কিছুটা সুবিধা পাওয়া যেত। কিন্তু স্থায়ী ভবনের জন্য অপেক্ষা করতে হলে অনেকেই পড়াশোনা শেষ করে চলে যাবে।"

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইভান তাহসীব বলেন, "জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সংকটই আবাসন সংকট। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো আবাসিক হল নেই, তাই দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী প্রকল্পের চেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আবাসনের ব্যবস্থা করাই বেশি প্রয়োজন ছিল।"

অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, "শুরুতে এটি অস্থায়ী আবাসনের জন্য হলেও প্রশাসন যে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা সেটিকে ইতিবাচকভাবে দেখি। দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে বেশি কার্যকর হবে এবং সরকারি অর্থেরও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করবে।"

জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনের জন্য বরাদ্দকৃত ২০ কোটি টাকা যথাযথভাবে ব্যবহার না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একতরফাভাবে ১০ তলা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার দাবি, একই অর্থ দিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব ছিল। কিন্তু প্রশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে দীর্ঘ সময় অর্থ অব্যবহৃত রেখেছে। তিনি এ সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থী-বিরোধী, অপরিণামদর্শী এবং সম্ভাব্য অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টিকারী বলেও মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, অস্থায়ী না স্থায়ী প্রকল্প হবে, সেই সিদ্ধান্ত প্রকৌশল দপ্তরের নয়; এটি ওয়ার্কস কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়েছে। প্রকৌশল দপ্তর শুধু বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অস্থায়ী টিনশেড আবাসনের পরিবর্তে ১০ তলা স্থায়ী ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা হবে এবং ভবিষ্যতে ভবনটি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনসহ অন্যান্য প্রয়োজনেও ব্যবহার করা যাবে।

তবে অস্থায়ী প্রকল্পে কতজন শিক্ষার্থী থাকার পরিকল্পনা ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারেননি প্রধান প্রকৌশলী। যদিও শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী সেখানে প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের পরিকল্পনা ছিল।

প্রধান প্রকৌশলীর বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ডিরেক্টর ইন চার্জ) সৈয়দ আহমেদ। তিনি বলেন, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পকে স্থায়ী ভবনে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তারা অবগত নন। এমনকি টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি আরও জানান, ২০ কোটি টাকার বরাদ্দ এসেছে কি না, সে বিষয়েও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। তাদের ধারণা ছিল অর্থটি রাজস্ব খাত থেকে আসার কথা। এছাড়া অস্থায়ী টিনশেড আবাসনের জন্য একটি নকশাও প্রণয়ন করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন বলেন, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের পরিবর্তে ১০ তলা স্থায়ী ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে একাধিক সভা ও সংশ্লিষ্ট কমিটিতে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু অর্থ বরাদ্দ এসেছে, তাই সাময়িক অবকাঠামো নির্মাণ করে ভবিষ্যতে তা অপসারণের মাধ্যমে অর্থের অপচয় না করে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবনটি এমনভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন, ভাড়াভিত্তিক ব্যবহার বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কাজে লাগানো সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোন ও তার কার্যালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

বুড়িগঙ্গা

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬


জবির আবাসন প্রকল্পে বদল, ১,৭০০ থেকে কমে ৬০০ শিক্ষার্থী

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আবাসন সংকট নিরসনে কেরানীগঞ্জের ৭ একর জমিতে প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন নির্মাণে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনের মুখে নেওয়া ওই প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়নি। এরই মধ্যে অস্থায়ী আবাসনের পরিকল্পনা পরিবর্তন করে একই অর্থে ১০ তলা স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী নতুন ভবনে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা হবে। ফলে দ্রুত আবাসন সংকট নিরসনের জন্য নেওয়া প্রকল্পের ধরন পরিবর্তন এবং ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে জবির আবাসন সংকট নিরসনে অতিরিক্ত ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সাত একর জমিতে অস্থায়ী আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। সে সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়।

আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে ২০২৫ সালের মে মাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। ১৪ মে শুরু হওয়া আন্দোলনে আবাসন সংকটের পাশাপাশি ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন বৃত্তি, পূর্ণাঙ্গ বাজেট অনুমোদন এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও তোলা হয়। আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৬ মে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। পরে কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সাত একর জমিতে দ্রুত অস্থায়ী আবাসন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের পরিকল্পনা ছিল এবং অস্থায়ী টিনশেড আবাসনের একটি প্রাথমিক নকশাও প্রস্তুত করা হয়েছিল।

তবে প্রায় এক বছর পার হলেও সেই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। এর পরিবর্তে গত ২৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে প্রকাশিত ই-টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিতে ১০ তলাবিশিষ্ট ছাত্রহল নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন প্রায় সাত একর জমির মধ্যে মাত্র ৫৪ শতক জমির ওপর ভবনটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থাৎ পুরো জমির তুলনায় অপেক্ষাকৃত ছোট একটি অংশে ভবন নির্মাণ করা হবে, আর অবশিষ্ট বড় অংশ দীর্ঘ সময় অনাবাদী অবস্থায় থাকবে।

প্রকল্প পরিবর্তনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, "আমাদের বলা হয়েছিল তিন মাসের মধ্যে থাকার ব্যবস্থা হবে। এখন সেটি কয়েক বছরের প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। বর্তমান শিক্ষার্থীরা এর সুবিধা পাবেন কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।" তিনি আরও বলেন, "আমাদের চতুর্থ বর্ষ চলছে। এই সময়ে অস্থায়ী হল হলে কিছুটা সুবিধা পাওয়া যেত। কিন্তু স্থায়ী ভবনের জন্য অপেক্ষা করতে হলে অনেকেই পড়াশোনা শেষ করে চলে যাবে।"

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইভান তাহসীব বলেন, "জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সংকটই আবাসন সংকট। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো আবাসিক হল নেই, তাই দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী প্রকল্পের চেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আবাসনের ব্যবস্থা করাই বেশি প্রয়োজন ছিল।"

অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, "শুরুতে এটি অস্থায়ী আবাসনের জন্য হলেও প্রশাসন যে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা সেটিকে ইতিবাচকভাবে দেখি। দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে বেশি কার্যকর হবে এবং সরকারি অর্থেরও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করবে।"

জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনের জন্য বরাদ্দকৃত ২০ কোটি টাকা যথাযথভাবে ব্যবহার না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একতরফাভাবে ১০ তলা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার দাবি, একই অর্থ দিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব ছিল। কিন্তু প্রশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে দীর্ঘ সময় অর্থ অব্যবহৃত রেখেছে। তিনি এ সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থী-বিরোধী, অপরিণামদর্শী এবং সম্ভাব্য অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টিকারী বলেও মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, অস্থায়ী না স্থায়ী প্রকল্প হবে, সেই সিদ্ধান্ত প্রকৌশল দপ্তরের নয়; এটি ওয়ার্কস কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়েছে। প্রকৌশল দপ্তর শুধু বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অস্থায়ী টিনশেড আবাসনের পরিবর্তে ১০ তলা স্থায়ী ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা হবে এবং ভবিষ্যতে ভবনটি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনসহ অন্যান্য প্রয়োজনেও ব্যবহার করা যাবে।

তবে অস্থায়ী প্রকল্পে কতজন শিক্ষার্থী থাকার পরিকল্পনা ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারেননি প্রধান প্রকৌশলী। যদিও শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী সেখানে প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের পরিকল্পনা ছিল।

প্রধান প্রকৌশলীর বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ডিরেক্টর ইন চার্জ) সৈয়দ আহমেদ। তিনি বলেন, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পকে স্থায়ী ভবনে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তারা অবগত নন। এমনকি টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি আরও জানান, ২০ কোটি টাকার বরাদ্দ এসেছে কি না, সে বিষয়েও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। তাদের ধারণা ছিল অর্থটি রাজস্ব খাত থেকে আসার কথা। এছাড়া অস্থায়ী টিনশেড আবাসনের জন্য একটি নকশাও প্রণয়ন করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন বলেন, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের পরিবর্তে ১০ তলা স্থায়ী ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে একাধিক সভা ও সংশ্লিষ্ট কমিটিতে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু অর্থ বরাদ্দ এসেছে, তাই সাময়িক অবকাঠামো নির্মাণ করে ভবিষ্যতে তা অপসারণের মাধ্যমে অর্থের অপচয় না করে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবনটি এমনভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন, ভাড়াভিত্তিক ব্যবহার বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কাজে লাগানো সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোন ও তার কার্যালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
জবির আবাসন প্রকল্পে বদল, ১,৭০০ থেকে কমে ৬০০ শিক্ষার্থী
0:00 0:00
1.0x