ঢাকা    বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, ২৯ জুন পর্যন্ত মৃত্যু ১৮, আক্রান্ত প্রায় ৬ হাজার



দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, ২৯ জুন পর্যন্ত মৃত্যু ১৮, আক্রান্ত প্রায় ৬ হাজার
বর্ষা মৌসুমে এডিস মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে।

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সোমবার (২৯ জুন ২০২৬) প্রকাশিত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯২৪ জনে।

রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত এই ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২৪ জন এবং একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেকটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৫ জুন পর্যন্ত হিসাবে (১ জানুয়ারি থেকে) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৫ হাজার ৫১৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ১৩ জনের। অর্থাৎ ২৫ জুন থেকে ২৯ জুনের মধ্যে মাত্র চার দিনে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ৪০০ জন এবং মারা গেছেন আরও পাঁচজন; যা প্রকোপ কতটা দ্রুত বাড়ছে তা স্পষ্ট করে। তুলনার জন্য, ২০২৫ সালের একই সময়ে (২৫ জুন পর্যন্ত) ভর্তি হয়েছিলেন প্রায় ৮ হাজার ৮৭০ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৩৬ জনের অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার সংখ্যা এখনও কম থাকলেও, জুন মাসেই রোগী সংখ্যা মে মাসের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেড়ে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃদু থেকে গুরুতর উপসর্গ যেমনঃ উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, অস্থিসন্ধি ও পেশিতে ব্যথা, শরীরে র‍্যাশ এবং গুরুতর ক্ষেত্রে রক্তপাতের প্রবণতা দেখা দিতে পারে। ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ভিন্ন ধরন (সেরোটাইপ) রয়েছে এবং একবার একটি ধরনে আক্রান্ত হলে তা অন্য ধরনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয় না বরং ভিন্ন ধরনে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমের মতো জীবনঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, জ্বর হলে অনেকেই একে সাধারণ জ্বর-সর্দি মনে করে দেরি করেন, যা পরে জটিল রূপ নেয়। 

২ জুন ২০২৬ এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চিকিৎসক ডাঃ আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী জানান, "ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রচুর তরল খাবার গ্রহণ এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।' তিনি আরও বলেন, "অনেক রোগী শুধু প্লাটিলেট সংখ্যা নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা, রক্তচাপ, রক্তের ঘনত্ব এবং সতর্কতামূলক লক্ষণগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।" 

তাই গুজব বা ভুল তথ্যের পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

করণীয় (প্রতিরোধ):

১. বাড়ির আশপাশে ও ঘরে পানি জমতে না দেওয়া (ফুলের টব, ফ্রিজের ট্রে, পরিত্যক্ত পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখা)

২. দিনের বেলায়ও মশারি ব্যবহার করা, বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে

৩. জ্বর হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, নিজে থেকে ওষুধ না খাওয়া

৪. জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বমি, রক্তক্ষরণ বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া

বুড়িগঙ্গা

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, ২৯ জুন পর্যন্ত মৃত্যু ১৮, আক্রান্ত প্রায় ৬ হাজার

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সোমবার (২৯ জুন ২০২৬) প্রকাশিত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯২৪ জনে।

রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত এই ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২৪ জন এবং একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেকটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৫ জুন পর্যন্ত হিসাবে (১ জানুয়ারি থেকে) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৫ হাজার ৫১৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ১৩ জনের। অর্থাৎ ২৫ জুন থেকে ২৯ জুনের মধ্যে মাত্র চার দিনে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ৪০০ জন এবং মারা গেছেন আরও পাঁচজন; যা প্রকোপ কতটা দ্রুত বাড়ছে তা স্পষ্ট করে। তুলনার জন্য, ২০২৫ সালের একই সময়ে (২৫ জুন পর্যন্ত) ভর্তি হয়েছিলেন প্রায় ৮ হাজার ৮৭০ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৩৬ জনের অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার সংখ্যা এখনও কম থাকলেও, জুন মাসেই রোগী সংখ্যা মে মাসের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেড়ে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃদু থেকে গুরুতর উপসর্গ যেমনঃ উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, অস্থিসন্ধি ও পেশিতে ব্যথা, শরীরে র‍্যাশ এবং গুরুতর ক্ষেত্রে রক্তপাতের প্রবণতা দেখা দিতে পারে। ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ভিন্ন ধরন (সেরোটাইপ) রয়েছে এবং একবার একটি ধরনে আক্রান্ত হলে তা অন্য ধরনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয় না বরং ভিন্ন ধরনে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমের মতো জীবনঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, জ্বর হলে অনেকেই একে সাধারণ জ্বর-সর্দি মনে করে দেরি করেন, যা পরে জটিল রূপ নেয়। 

২ জুন ২০২৬ এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চিকিৎসক ডাঃ আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী জানান, "ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রচুর তরল খাবার গ্রহণ এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।' তিনি আরও বলেন, "অনেক রোগী শুধু প্লাটিলেট সংখ্যা নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা, রক্তচাপ, রক্তের ঘনত্ব এবং সতর্কতামূলক লক্ষণগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।" 

তাই গুজব বা ভুল তথ্যের পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

করণীয় (প্রতিরোধ):

১. বাড়ির আশপাশে ও ঘরে পানি জমতে না দেওয়া (ফুলের টব, ফ্রিজের ট্রে, পরিত্যক্ত পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখা)

২. দিনের বেলায়ও মশারি ব্যবহার করা, বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে

৩. জ্বর হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, নিজে থেকে ওষুধ না খাওয়া

৪. জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বমি, রক্তক্ষরণ বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, ২৯ জুন পর্যন্ত মৃত্যু ১৮, আক্রান্ত প্রায় ৬ হাজার
0:00 0:00
1.0x