ঢাকা    সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

‘টু-ডু লিস্ট’ বানালেই মনে হয় কাজ শেষ, কেন এমন হয়?



‘টু-ডু লিস্ট’ বানালেই মনে হয় কাজ শেষ, কেন এমন হয়?
ফাইল ছবি

দিনের কাজগুলো লিখে তালিকা তৈরি করলেই অনেকের মনে হয়, সবকিছু যেন গুছিয়ে এসেছে। অফিসের জরুরি কাজ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া কিংবা বাজার করা, সবকিছু তালিকায় লিখে রাখলে নিজেকে বেশ গোছানো ও কর্মঠ মনে হয়। অথচ তখনো হয়তো কোনো কাজই শুরু করা হয়নি। কাজ না করেও এই তৃপ্তি পাওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে? 

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এর সঙ্গে মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণবোধ, মানসিক চাপ কমানো এবং পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতির সম্পর্ক রয়েছে।

তালিকা তৈরি করলেই কেন আসে কর্মক্ষমতার অনুভূতি?

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একসঙ্গে অনেক দায়িত্ব সামলাতে হলে কিংবা অসমাপ্ত কাজের চাপে বিধ্বস্ত বোধ করলে করণীয় কাজের তালিকা মস্তিষ্কে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি তৈরি করে। কোনো কাজ কখন করতে হবে, কোনটি আগে শেষ করা প্রয়োজন, এসব বিষয় মনে ধরে রাখার জন্য মানসিক শক্তি ব্যয় হয়। একই সঙ্গে কাজগুলো ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা এবং সময়মতো শেষ করতে না পারার দুশ্চিন্তাও থাকে।

কাজগুলো কাগজে বা ডিজিটাল নোটে লিখে রাখলে এই মানসিক চাপের একটি অংশ কমে যায়। দায়িত্বগুলো তখন আর অস্পষ্ট চিন্তা হিসেবে মাথায় ঘুরতে থাকে না; বরং চোখের সামনে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা হিসেবে হাজির হয়। ফলে কাজের চাপ তুলনামূলকভাবে কম ও সামলানোর উপযোগী মনে হতে পারে। এ ছাড়া বড় কোনো দায়িত্বকে ছোট ছোট কাজে ভাগ করলে সেটি সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে হয়। আরও পড়ুনআরও পড়ুনকোন রক্তের গ্রুপে কম বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি?

পরিকল্পনা আর প্রকৃত কাজ এক নয়

তবে নিজেকে কর্মঠ মনে করা আর বাস্তবে কাজ সম্পন্ন করা এক বিষয় নয়। তালিকা তৈরি করে সাময়িক তৃপ্তি পাওয়া গেলেও তাতে প্রকৃত কাজ এগিয়ে যায় না। বিশেষ করে কঠিন, উদ্বেগ তৈরি করে এমন কিংবা অস্বস্তিকর কাজের মুখোমুখি হতে অনেকে বারবার তালিকা সাজান, নতুন করে লেখেন বা নিখুঁত করার চেষ্টা করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে পরিকল্পনা করা কখনো কখনো কাজ ফেলে রাখার কৌশলে পরিণত হয়। কারণ, কাজ শুরু করার সঙ্গে জড়িত উদ্বেগের বদলে তালিকা তৈরির মাধ্যমে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যায়।

মনোবিজ্ঞানীদের পরামর্শ, তালিকা বাস্তবসম্মত রাখা, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সহজে করা যায় এমন একটি ছোট পদক্ষেপ দিয়ে শুরু করা উচিত। একটি কাজও শেষ করতে পারলে প্রকৃত সাফল্যের অনুভূতি তৈরি হয়। সেই অভিজ্ঞতা পরের কাজের জন্যও গতি জোগায়।

টু-ডু লিস্টের উদ্দেশ্য শুধু জীবন নিয়ন্ত্রণে আছে বলে অনুভব করা নয়; বরং পরিকল্পনাকে বাস্তব কাজে রূপ দেওয়া।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

বিষয় : লাইফস্টাইল

বুড়িগঙ্গা

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


‘টু-ডু লিস্ট’ বানালেই মনে হয় কাজ শেষ, কেন এমন হয়?

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দিনের কাজগুলো লিখে তালিকা তৈরি করলেই অনেকের মনে হয়, সবকিছু যেন গুছিয়ে এসেছে। অফিসের জরুরি কাজ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া কিংবা বাজার করা, সবকিছু তালিকায় লিখে রাখলে নিজেকে বেশ গোছানো ও কর্মঠ মনে হয়। অথচ তখনো হয়তো কোনো কাজই শুরু করা হয়নি। কাজ না করেও এই তৃপ্তি পাওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে? 

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এর সঙ্গে মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণবোধ, মানসিক চাপ কমানো এবং পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতির সম্পর্ক রয়েছে।

তালিকা তৈরি করলেই কেন আসে কর্মক্ষমতার অনুভূতি?

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একসঙ্গে অনেক দায়িত্ব সামলাতে হলে কিংবা অসমাপ্ত কাজের চাপে বিধ্বস্ত বোধ করলে করণীয় কাজের তালিকা মস্তিষ্কে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি তৈরি করে। কোনো কাজ কখন করতে হবে, কোনটি আগে শেষ করা প্রয়োজন, এসব বিষয় মনে ধরে রাখার জন্য মানসিক শক্তি ব্যয় হয়। একই সঙ্গে কাজগুলো ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা এবং সময়মতো শেষ করতে না পারার দুশ্চিন্তাও থাকে।

কাজগুলো কাগজে বা ডিজিটাল নোটে লিখে রাখলে এই মানসিক চাপের একটি অংশ কমে যায়। দায়িত্বগুলো তখন আর অস্পষ্ট চিন্তা হিসেবে মাথায় ঘুরতে থাকে না; বরং চোখের সামনে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা হিসেবে হাজির হয়। ফলে কাজের চাপ তুলনামূলকভাবে কম ও সামলানোর উপযোগী মনে হতে পারে। এ ছাড়া বড় কোনো দায়িত্বকে ছোট ছোট কাজে ভাগ করলে সেটি সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে হয়। আরও পড়ুনআরও পড়ুনকোন রক্তের গ্রুপে কম বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি?

পরিকল্পনা আর প্রকৃত কাজ এক নয়

তবে নিজেকে কর্মঠ মনে করা আর বাস্তবে কাজ সম্পন্ন করা এক বিষয় নয়। তালিকা তৈরি করে সাময়িক তৃপ্তি পাওয়া গেলেও তাতে প্রকৃত কাজ এগিয়ে যায় না। বিশেষ করে কঠিন, উদ্বেগ তৈরি করে এমন কিংবা অস্বস্তিকর কাজের মুখোমুখি হতে অনেকে বারবার তালিকা সাজান, নতুন করে লেখেন বা নিখুঁত করার চেষ্টা করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে পরিকল্পনা করা কখনো কখনো কাজ ফেলে রাখার কৌশলে পরিণত হয়। কারণ, কাজ শুরু করার সঙ্গে জড়িত উদ্বেগের বদলে তালিকা তৈরির মাধ্যমে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যায়।

মনোবিজ্ঞানীদের পরামর্শ, তালিকা বাস্তবসম্মত রাখা, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সহজে করা যায় এমন একটি ছোট পদক্ষেপ দিয়ে শুরু করা উচিত। একটি কাজও শেষ করতে পারলে প্রকৃত সাফল্যের অনুভূতি তৈরি হয়। সেই অভিজ্ঞতা পরের কাজের জন্যও গতি জোগায়।

টু-ডু লিস্টের উদ্দেশ্য শুধু জীবন নিয়ন্ত্রণে আছে বলে অনুভব করা নয়; বরং পরিকল্পনাকে বাস্তব কাজে রূপ দেওয়া।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
‘টু-ডু লিস্ট’ বানালেই মনে হয় কাজ শেষ, কেন এমন হয়?
0:00 0:00
1.0x